Header Top

উদ্ভাবনের উৎসবে মগ্ন হ্যাকাথন

Evaly in News page (Banner-2)

ফখরুদ্দিন মেহেদী, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সবার মাঝেই তুমুল ব্যস্ততা। যেন অন্য কোনো দিকে তাকানোর ফুরসত নেই কারো। সামনে থাকা ল্যাপটপে আটকে আছে সব মনোযোগ। অবশ্য ফাঁকে ফাঁকে সহযোগীদের সঙ্গে ফিসফাস সুরে চলছে জরুরি আলোচনাও।

শুরুর পর থেকে দিনভর এমন চিত্রই চোখে পড়েছে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শুরু হওয়া জাতীয় হ্যাকাথনে। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের সদস্যদের যেন একটাই লক্ষ্য, নির্ধারিত ১০টি জাতীয় সমস্যা সমাধান করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা।

ঢাকা সিটি কলেজের টিম ‘জেবেক’। রাকিবুল হাসান, নাজমুজ্জামান, তালহা হাবিব, মশিউর রহমান অমিত আর আবদুল্লাহ আল মনসুরের এই দল কাজ করছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে।

hackathan2

চরম এই ব্যস্ততার এক ফাঁকে টেকশহরডটকমের সঙ্গে কথা বলেছেন এ দলের সদস্যরা। জেবেকের অ্যাপে যুক্ত থাকবে দেশের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানের তালিকা। এ সব স্থানে গেলেই অ্যাপটি চালক এবং যাত্রীদের মোবাইলে নোটিফিকেশন পাঠাবে।

স্টেট ইউনিভার্সিটির মোঃ নূর হোসেন, ফারহান হোসেন, রূপক, ইমরান, মেহেদী হাসানের টিম ‘নাল পয়েন্টার’। তারা দুর্নীতি দমনের অ্যাপ বানাচ্ছেন।

এ অ্যাপের মাধ্যমে যে কেউ তার সামনে ঘটে যাওয়া দুর্নীতির ছবি, অডিও-ভিডিও ক্লিপস আপলোড করতে পারবেন। এতে রাখা হয়েছে আপলোডকারীর নাম-পরিচয় গোপন রাখার ব্যবস্থাও।

hackathan

টিম ‘ইনোভেশন’ নামের দলটি এসেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এ দলে আছেন সম্রাট কুমার দে, জাহিদ হাসান, মৃন্ময় দাস, সাহা মোসাব্বির মিরাজ, ফয়সাল আহমেদ এবং অনিন্দ্য দ্যুতি ধর। যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য অ্যাপ বানাচ্ছেন তারা।

তাদের অ্যাপ যৌন হয়রানি উন্মুখ পরিস্থিতিতে অ্যালার্ম পৌঁছে দেবে ঘটনার শিকার মেয়েটির আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের কাছে। প্রথমে একটা সার্কেল তৈরি করে এই কাজটা করবে অ্যাপটি।

এরকম আরও ১৮৫টি আইডিয়া নিয়ে অ্যাপ তৈরির কাজ করছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ডেভেলপাররা। এ নিয়ে তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনারও শেষ নেই।

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা আল আমিন নওশাদ বলেন, এবারই প্রথম এতো বড় আয়োজনে কাজ করার সুযোগ পেলাম। এখানে এসে জানলাম, এটাই সবচেয়ে বড় হ্যাকাথন। তার টিম ‘দ্য ইল্যুশনিস্ট’ অসংক্রামক রোগ নিয়ে অ্যাপ বানাতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

শুধু অংশগ্রহণকারীরাই নয়, ব্যস্ত দেখা গেছে হ্যাকাথনে নিযুক্ত মেন্টরদেরকেও। প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তারা প্রতিটি টিমের কাছে যাচ্ছেন।

থিম বাকেট ও আইডিয়াসের হাসিন হায়দার এখানে কাজ করছেন মেন্টর হিসাবে। টেকশহরডটকমকে তিনি বলেন, আমারা অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন বিষয়ে গাইড করছি এবং তাদের আইডিয়াটা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছি।

ইউজার হাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ডিজাইন ও রিসার্স বিভাগের প্রধান ওয়াহিদ বিন আহসান বলেন, অংশগ্রহণকারীদেরকে দুটি ক্যাটাগরিতে নাম্বারিং করা হচ্ছে। এর মধ্যে ডিজাইন স্প্রিন্টের আওতায় রয়েছে ইনোভেশন, কাভারেজ, টাইম ম্যানেজমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন এবং কোডিং এর আওতায় রয়েছে ইউজাবিলিটি, আর্কিটেকচার, সিকিউরিটি, সফটওয়্যার হার্ডওয়্যার সমন্বয় ও ডাটা কালেকশন এবং পাবলিশিং।

এ দুটির ক্যাটাগরিতে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সেরা নির্বাচন হবে বলেও জানান তিনি।

হ্যাকাথনে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে অয়োজকদেরকেও। অংশগ্রহণকারীদের তদারকি ছাড়াও মেন্টরদেরকের সঠিকভাবে দিক-নির্দেশনা দিতে সহযোগিতা করছেন তারা। সময়ে সময়ে বিশেষজ্ঞদের প্যানেল বসিয়ে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবার ব্যবস্থাও করছেন।

hackathan 4

হ্যাকাথন বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান আয়োজক এমসিসি লিমিটেডের সিইও আশ্রাফ আবির আবির জানান, হ্যাকাথনে প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোন সমস্যা যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে পুরো টিম কাজ করছে।

বেসিসের এ পরিচালক আরও বলেন, হ্যাকাররা যেন তাদের আইডিয়াকে চূড়ান্ত রূপ দিতে পারে সে জন্য দেশের আইটি-আইকনরা বিশেষ পরামর্শ দিচ্ছেন। আশা করছি, এবারের হ্যাকাথন থেকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত ১০টি বিষয়ে কার্যকরী সমাধান বেরিয়ে আসবে।

আরও পড়ুন

জাতীয় মোবাইল পোর্টাল হ্যাক

৩০ হাজার ডলারের প্রথম হ্যাকাথন প্রতিযোগিতা

ট্রাফিক জ্যামে হ্যাকাথনের দু’শতাধিক কোডার!

ডেভেলপারদের জন্য রবির ‘অ্যাপসবিডি’

 

*

*

আরও পড়ুন