ট্রাফিক জ্যামে হ্যাকাথনের দু'শতাধিক কোডার!

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শেষ পর্যন্ত  ট্রাফিক জ্যামেই আটকা পড়লেন জাতীয় মোবাইল হ্যাকাথনের দুই শতাধিক কোডার। তবে এইবার আর রাস্তায় নয় উদ্ভাবনী কল্পনায়। যেন নাগরিক জীবনের এই অসহ্য ভোগান্তিতে অস্থির হয়ে উঠেছেন প্রত্যেকে। চোখেমুখে জেদ, ট্রাফিক জ্যামের আর রক্ষা নেই। এমন অ্যাপস বানাবো যে জ্যাম জমে উঠার সুযোগ পাবে না।

হ্যাকাথনে অংশগ্রহণকারী প্রোগ্রামাদের কাছে সমস্যা হিসেবে পছন্দের শীর্ষে স্থান পেয়েছে এই ট্রাফিক জ্যাম। সমস্যা দেয়া হয়েছিল ১০ টি। প্রথমদিনে যোগ দিয়েছেন ১ হাজার ৪৪০ জন প্রোগ্রামার। এরমধ্যে প্রায় দুই’শ জনই সমাধান করতে চান ট্রাফিক জ্যামের সমস্যা।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহকারি সচিব ও এই কর্মসূচীর ডেপুটি ডিরেক্টর আরএইচএম আলাওল কবির টেকশহরডটকমকে জানান, দূনীর্তি, প্রশ্নফাঁস, সড়ক নিরাপত্তা, লঞ্চডুবি, যৌন হয়রানি, স্যানিটেশন, যানজট, মাতৃস্বাস্থ্য, বলতে দ্বিধা এমন স্বাস্থ্যসমস্যা এবং সাইক্লোন ব্যবস্থাপনার দশটি সমস্যার মধ্যে ট্রাফিক জ্যামকেই বেছে নিয়েছে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দল।

hackathan3

তিনি জানান, ৪০টির মতো দলের দুইশত প্রোগ্রামার ট্রাফিক জ্যাম সমস্যার সামাধান খুঁজতে কাজ করছেন। সংখ্যাটি কমবেশি হতে পারে। তবে ট্রাফিক জ্যামই শীর্ষে।

ঢাকার দল কোডিও । দলনেতা সুমন জানালেন ট্রাফিক জ্যামের দুঃসহ যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত ভুগতে হয় আমাদের। সুযোগ পেয়ে তাই বেছে নিয়ে নিলাম দায়িত্ব। আশা করছি সমাধান একটা বের করতে পারবো।

তবে ঢাকার দলগুলোর মধ্যেই ট্রাফিক জ্যাম বেছে নেয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। জকনিউ ড্রয়েড দলটি এসেছে ময়মনসিংহ থেকে । তাদের পছন্দ প্রশ্নপত্র ফাঁস।

দলনেতা জাকারিয়া মাসুদ জানালেন, আমাদের মেধাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। রুখে দিতে চাই এই অনিয়ম। কিছু একটা উপায় বের করবোই।
পছন্দের সমস্যা হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এই প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রায় ৩২টির মতো দল বেছে নিয়েছে এই সমস্যা।

অমলেট ঢাকার দল। ঢাকার দল হিসেবে ট্রাফিক জ্যামের বাইরে তারা অন্য সমস্যা পছন্দ করেছে। যৌন হয়রানি নিয়ে কাজ করছে তারা। দলকে পরামর্শ দিতে দিতে বললেন, নারীদের সম্ভ্রম রক্ষায় কার্যকর কিছু একটা করতে চাই। যেন সবাই নিরাপদ স্বচ্ছন্দ অনুভব করতে পারে।

চট্টগ্রামের দল ইথিনিক কোডারও বেছে নিয়েছে যৌন হয়রানি। দলনেতা সুমন দাস দারুণ প্রত্যয়ী। বললেন, সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পাবোই।

হ্যাকাথনে অন্যান্য সমস্যা গুলোর প্রতিটিতেই ২০টির বেশি করে দল অংশ নিচ্ছে। রোববার দিন শেষে শেষ হবে এই উদ্ভাবনী অভিযান। এরপর বিচাকরা বেছে নেবেন ১০ সমস্যার সেরা দশ সমাধান।

অংশগ্রহণকারী প্রোগ্রামরাদের চোখে সেরা হবার স্বপ্ন তবে সমস্যা সমাধান করতে তাড়া যেন নাছোড়বান্দা। আর যাই হোক যে সমস্যার দায়িত্ব তারা নিয়েছেন তার একটা সমাধান দিয়েই যাবেন তারা।

রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শনিবার সকালে শুরু হয়েছে সরকার আয়োজিত দেশের বৃহত্তম এই জাতীয় মোবাইল হ্যাকাথন হ্যাকাথন।

আল আমীন দেওয়ান

আরও পড়ুন:

*

*

আরও পড়ুন