রোবট যুদ্ধের মুকুট এআইইউবির, দ্বিতীয় শক্তিমান ব্র্যাক

cuet robot techshohor

সাইমুম সাদ. টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দেশীয় রোবটরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু করে দেয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ টি বাহিনী বুধবার এ যুদ্ধে জয়ের মুকুট দখল করতে নেমে পড়ে।  বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুই দিনব্যাপী চলে তুমুল যুদ্ধ।

শেষ পর্যন্ত দেশের প্রথম রোবট যুদ্ধের মুকুট দখল করে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) যোদ্ধা নিনজা। নিনজাকে নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিলেন এআইইউবির শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান। ৪০ টি রোবটকে ঘায়েল করে বিজয়ের হাসি  মাহমুদুলের ঠোঁটে।

রোবট যুদ্ধ-টেকশহর

Techshohor Youtube

মাহমুদুলের কাছে ঘায়েল হয়ে দ্বিতীয় শক্তিমানের তকমাটা পান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেস্টো এলিমেন্টো। ইলেকট্রিকাল ও ইলেকট্রনিকস বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিদ রশিদ ও সাদমান সাকিব চৌধুরী ছিলেন সেস্টোর যোদ্ধা। দুজনেই ব্র্যাকের রোবটিক ক্লাবের সদস্য। মুকুট না পেলেও ৩৮টি দলকে মাড়িয়ে আসা সেস্টোও কম শক্তিমান নয়।

প্রথমদিনের ৪০ টি দল থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে আসে সেরা ২০ টি দল। সেখান থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে সেমিফাইনালে জায়গা পায় চারটি রোবট। এআইইউবির নিনজা, ব্র্যাকের সেস্টো এলিমেন্টা, ব্র্যাকের আরেকটি টিম ব্যাকবেঞ্চার ও নর্থসাউথের এসএসইটি।

প্রতিযোগিতার শেষ দিন বৃহস্পতিবার শুরু হয় চূড়ান্ত পর্বের লড়াই। শেষ বিকেলে উত্তাপ ছড়িয়েছিল এ লড়াই। সেমিফাইনালে এআইইউবির নিনজা ও ব্র্যাকের ব্যাকবেঞ্চার মধ্যকার যুদ্ধে নির্দয়ভাবে কুপোকাত হয় ব্যাকবেঞ্চার। আর ব্র্যাকের সেস্টো এলিমেন্টা ও নর্থসাউথের এসএসইটির মধ্যে টিকে যায় সেস্টো এলিমেন্টো।

সবশেষে নিনজা ও সেস্টো এলিমেন্টোর যুদ্ধ বাধলো। রুদ্ধশ্বাস মুহুর্তের অবসান ঘটিয়ে এলিমেন্টোকে দাবিয়ে দেয় টিম নিনজা।

cuet robot techshohor

মাহমুদ টেকশহরডটকমকে বলেন, নিনজা তৈরির কাজ শুরু হয় ৮ নভেম্বর থেকে । উদ্দেশ্য ছিল একটাই , রোবোফাইটে নামার। যুদ্ধ করতে চাইলে রোবটাকে শক্ত সামর্থ্য করে বানানো চাই। তাই পুরো কাঠামোটা তৈরি করেছি আস্ত লোহার বার দিয়ে। এজন্য বসুন্ধরায় লেদের কারখানায় কয়েকবার যেতে হয়েছে।

কেনার মতো শুধু মাইক্রোই কিনেছেন পুরান ঢাকা থেকে। বাদবাকি যন্ত্রাংশ ও মোটর ড্রাইভারটি নিজেই বানিয়েছেন। এমনকি ইলেকট্রিক সার্কিটগুলোও মাহমুদের তৈরি।

সেস্টোর যোদ্ধারা রোবোটের গ্লাস উঠানামার জন্য ধোলাইখাল থেকে কিনেছেন মোটর, চাকা কিনেছেন নবাবপুর আর পাটুয়াটুলি থেকে সার্কিট ব্রেকার। ব্র্যাকের কিছু সার্কিটও কাজে লাগালেন তারা। পাশাপাশি রোবটিতে ব্যাটারী,গেম কন্ট্রোলার ব্যবহার করে সেস্টোকে যোদ্ধার রূপ দিলেন।

সেস্টোর যোদ্ধা তাহমিদ টেকশহরডটকমকে জানান, রোবোফাইটের আয়োজনটা দুর্দান্ত ছিল।

আয়োজকরা জানান, রোবটিক বিশ্বে শিক্ষার্থীদের যুক্ত হতে উৎসাহিত করা এবং এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে একটি নতুন অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্যই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

চুয়েটে নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের অংশ হিসেবে গবেষণাধর্মী সংগঠন অ্যান্ড্রোমিডা স্পেস অ্যান্ড রোবটিক রিসার্চ অর্গানাইজেশন (অ্যাস্রো)এই রোবট যুদ্ধের আয়োজন করে।

*

*

আরও পড়ুন