শীর্ষে যেতে চায় থিম এক্সপার্ট

গ্যারেজ থেকে শুরু অ্যাপল-গুগলের মতো অনেক উদ্যোগ এখন টেক দুনিয়া মাতাচ্ছে। অতটা বড় পরিসরে না হলেও এমনি এক উদ্যোগ থিম এক্সপার্ট দেশে নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ফখরুদ্দিন মেহেদী।

কম্পিউটারের প্রতি নেশা তাকে শিক্ষাগত সনদ অর্জন করতে দেয়নি। তবে এতে জীবন যুদ্ধে মোটেও পিছিয়ে থাকেননি তিনি। নিজের নিরলস পরিশ্রম গড়ে তুলেছেন নতুন উদ্যোগ। অল্প বয়সেই দেশে টেক আইকন হিসেবেও পরিচিতি মিলেছে তার।

তরুন এ উদ্যোক্তার নাম পারভেজ আক্তার। ওয়েবসাইটের বিভিন্ন থিম তৈরিই তার কাজ। তার উদ্যোগ থিম এক্সপার্টও শুরু হয়েছিল বাসার গ্যারেজ থেকে।

10841287_806717636058846_2039276213_n

স্কুল বন্ধু শামীমকে নিয়ে শুরু করেছিলেন এ কাজ। বর্তমানে ১৩ জনের একটি চৌকস দল কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটিতে। পারভেজ হেড অব আউডিয়াস হিসাবে কাজ করছেন।

শুরুর গল্প
পারভেজ জানান, ২০০৫ সালে এইচএসসি পাশ করে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু কম্পিউটার নিয়ে আগ্রহ অনেক বেশি থাকায় অ্যাকাডেমিক লেখাপড়ায় অমনযোগী হয়ে পড়েন। তত্ত্বীয় পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যান। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে এক পর্যায়ে ড্রপ আউটের খাতায় নাম লেখাতে হয় তাকে।

তবে লেখাপড়া থেকে ঝড়ে পড়াদের দলে চলে গেলেও থেমে থাকেননি তিনি। কম্পিউটার বন্ধু মেনে গড়ে তুলেছেন তথ্যপ্রযুক্তির এক উদ্যোগ।

তরুন এ উদ্যোক্তা বলে চলেন তার শুরুর কথা। তিনি বলেন, ‘এরপর এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে জুমলা সম্পর্কে জানতে পারি। বলতে গেলে এটার প্রেমেই পড়ে যাই। এরপর এটাতেই আমার পূর্ণ মনযোগ ছিল। কিছু দিন পর চার বন্ধু মিলে স্পটিক আইটি নামে একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান শুরু করি।’

10846531_806724326058177_109901176_n

দেড় বছরের মতো চালু থাকার পর এটি বন্ধ হয়ে গেলে পারভেজের ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার শুরু হয়। এক বছর পর ২০১০ সালের দিকে নতুন কিছুর পরিকল্পনা থেকে শুরু করেন থিম এক্সপার্ট। নতুন উদ্যোমে টেমপ্লেট তৈরির কাজে নেমে পড়েন তিনি।

অনিশ্চয়তা নিয়ে শুরু হলেও তিনটা টেমপ্লেট তৈরি করে মার্কেটপ্লেসে বিক্রির জন্য দেওয়ার তিন দিনের মধ্যেই তিনটি বিক্রি হয়ে যায়। সেই হাসি যেন এখনও লেগে আছে পারভেজের মুখে। তিনি বলেন, ‘সে সময়টা খুবই আনন্দ পেয়েছিলাম। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকতে হয়নি।’

কাজে সফলতা আসার পর আবার তরুন এ উদ্যোক্তা মনোযোগী হন পড়শোনায়। ২০১১ সালে আবার মালয়েশিয়ার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান।

এ দফায় অনেক উৎসাহ নিয়ে শুরু করলেও সেটাও শেষ করতে পারেননি। দু’বছরের মাথায় ফিরে আসেন। এ বিষয়ে হতাশ পারভেজ বলেন, ‘লেখাপড়ার সঙ্গে যেন আমার এক আজন্ম আড়ি।’

অনুপ্রেরণা
‘কাজই আমার অনুপ্রেরণা- আত্মবিশ্বাসী পারভেজ বলেন, ‘কাজের জন্যই পড়াশোনার ইতি ঘটে। আসলে কাজে মেতে থাকলে কঠিন কাজকেও কষ্টের কিছু মনে হয় না।’ কাজের সাফল্য থেকেই অনুপ্রেরণা পান তিনি।

থিম এক্সপার্টের কাজ
এ প্রতিষ্ঠান মূলত জুমলার জন্য টেমপ্লেট ডেভেলপ করে মার্কেটপ্লেসে বিক্রি করে। তরুন এ উদ্যোক্তা নিজেদের মার্কেটেপ্লেস তৈরি করেছেন, যেখানে থিম বিক্রি করে থাকেন।

এছাড়া থিম এক্সপার্ট গ্রাহকদের ওয়েবভিত্তিক সফটওয়্যার নিয়েও কাজ করে। তবে তা বাছাই করা ক্লায়েন্টের জন্য করা হয়।

প্রচারণা
পারভেজ জানান, প্রথম দিকে প্রতিযোগিতা না থাকায় প্রচারণার তেমন দরকার হতো না। তবে এখন কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন প্রচার ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করা হয়ে থাকে। থিমের মার্কেটপ্লেসে থিম এক্সপার্টের অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে সেরা ১০-এ বলে দাবি পারভেজের।

সাফল্য/ব্যর্থতা
পড়াশোনায় সফল হতে না পারার দু:খ কাজের সফলতার মাধ্যমে ভুলেছেন তরুন এ উদ্যোক্তা। সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থিম এক্সপার্টের অবস্থানকে সেরা সাফল্য মানছেন তিনি।

প্রতিবন্ধকতা
খুব একটা প্রতিকূলতায় পড়তে হয়নি পারভেজকে। যদিও শুরুতে ড্রপআউট ও অনলাইনের কাজ নিয়ে পরিবার থেকে বাধার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

পারভেজ জানান, এক বছর বয়সে বাবাকে হারান তিনি। এরপর মা তাকে গড়ে তোলেন। মায়ের ইচ্ছো ছিল ছেলে বড় চাকরি করবে। তা হলো না বলে একটা সময় পর্যন্ত তার অনেক কষ্ট ছিল।

10304358_692220024175275_4935738091878002194_n

ভবিষ্যত পরিকল্পনা
২০১৬ সালের মধ্যে টিম এক্সপার্টকে শীর্ষে নিয়ে যেতে চান এ উদ্যোক্তা। একই সঙ্গে আগামী বছর ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে কাজ শুরুর কথা জানান তিনি। সেখানেও শীর্ষে যেতে চান তারা।

পারভেজ বলেন, একা বড় হতে চাই না। কমিউনিটির জন্যও কিছু করতে চাই। কারণ দেশে জুমলা কমিউনিটি খুব ছোট। তাই কমিউনিটি বাড়লে কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। ইতিমধ্যে এ জন্য মিলনমেলা ও কর্মশালা করা হয়েছে। ফেইসবুক পেইজেও সবাইকে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

নতুনরা যাতে জুমলা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে না পড়ে সে জন্য একটি ভালো প্লাটফর্ম তৈরির চেষ্টা থাকবে। কমিউনিটি বড় করতে জুমলা ডে আয়োজন করতে চান তরুন এ উদ্যোক্তা।

নতুনদের পরামর্শ
স্টিভ জবসের সেই অমর বানী ‘স্টে হাংড়ি স্টে ফুলিশকে’ পরামর্শ মানছেন পারভেজ। তিনি বলেন, নিজেকে বড় ভাবা যাবে না। ভালোভাবে বুঝে, দক্ষ হয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এজন্য থেমে থাকলে চলবে না। তার মতে, পথে নামলে পথ চেনা যায়।

তরুন এ উদোক্তা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের খুব ভালো সুনাম আছে। কিন্তু কিছু ফ্রিলান্সার কাজের রেট কমিয়ে দিয়ে বাজার সস্তা বানিয়ে ফেলছে। এতে দেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এ ধরনের কাজ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

যোগাযোগ
35/4 lake circus,
kolabagan, dhaka-1205

১ টি মতামত

*

*

আরও পড়ুন