ডিজিটাল সেন্টারে নারী উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে না

Evaly in News page (Banner-2)

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রামে গঞ্জে উদ্যোক্তা তৈরিতে বেশ অবদান রাখলেও ডিজিটাল সেন্টারের ক্ষেত্রে এখনও নারী উদ্যোক্তাদেরকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নিতে এটিকে কার্যকর উদ্যোগে পরিণত করা যায়নি।

অনেক এলাকায় বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের অনেক জেলায় গত চার বছরে কয়েকবার করে নারী উদ্যোক্তা পরিবর্তন হয়েছেন। অনেক জায়গায় নারীদের আগ্রহী করে তোলা যাচ্ছে না। কোথাও আবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরাই চান না নারী উদ্যোক্তারা কাজ করুক।

অথচ ২০১০ সালে শুরুর সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিটি ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে বর্তমানে যা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার নামে পরিচত সেখানে একজন পুরুষের পাশাপাশি একজন নারী উদ্যোক্তা নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়।

digital center conference techshohor

ডিজিটাল সেন্টারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে উদ্যোক্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এমন চিত্র। এদিন সম্মেলনে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ কম।

সব মিলে ১১ হাজার উদ্যোক্তার মধ্যে এদিন সাড়ে সাত হাজারের কিছু বেশি উদ্যোক্তা সম্মেলনে যোগ দেন। এদের মধ্যে নারীদের অংশ ৪৫ শতাংশের বেশি হবে না বলে জানিয়েছে এটুআই প্রকল্প সূত্র।

ঝালকাঠির কোনাবাড়ি ইউনিয়নের ফারজানা ববি নাদিরা জানান, শুরু থেকেই নারীদের মধ্যে কম সাড়া দেখা গেছে। এক্ষেত্রে নানা কারণ থাকতে পারে। একটি হতে পারে ধর্মীয় কুসংস্কার এবং পর্দার বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানরাও বড় বাধা তৈরি করেছেন।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারে গত চার বছরে একজন নারী উদ্যোক্তাও পাওয়া যায়নি। এখানকার চেয়ারম্যান চান না বলেই প্রথমে নারী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ নিলেও পরে তাকে আর পাওয়া যায়নি। ফলে সিদ্দিকুর রহমান একাই চালাচ্ছেন এটি।

শেখ হাসিনা-টেকশহর

একই জেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মোঃ এনামূল হক জানান, চার বছরে চার জন নারী উদ্যোক্তা ছিলেন তার সঙ্গে। কিন্তু কেউই ছয় মাসের বেশি থাকেনি।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের এলাকা কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বইরাটি ইউনিয়নের উদ্যোক্তা দেলওয়ার হোসেন জানান, ন‌‌‌ারীদেরকে বাড়ির লোকেরাই ছাড়তে চায় না। অনেক ক্ষেত্রে কম আয় হওয়া একটি কারণ। দিন শেষে কেউ যদি দুই থেকে তিনশ টাকা আয় করতে না পারে তাহলে বাড়ির লোকজন চায় নারী ঘরের কাজই করুক।

সিরাগঞ্জের তারাশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মোঃ হারুনার রশীদ তার সেন্টারের নারী উদ্যোক্তা চলে যাওয়ায় এখন নিজের স্ত্রীর নামেই নিয়েছেন সেন্টারটি। ফলে দুজনের নামে চলছে সেবা।

যশোরের আরবপুর ইউনিয়নের এসএম আরিফুজ্জামান হচ্ছেন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সবচেয়ে সফলতম। তার ইউনিয়নে পর্যন্ত নারী উদ্যোক্তাকে সেবাটি চালিয়ে নিতে দেখা যায়নি। ফলে তিনিও তার স্ত্রীকে নিয়েছেন এ জায়গায়।

তবে ঢাকার উত্তরা সংলগ্ন উত্তর খান এবং দক্ষিন খান থেকে আসা রেনু আখতার এবং সেলিনা আখতার জানান, গত দেড় বছরের কিছু সময় ধরে ডিজিটাল সেন্টার দুটিতে কাজ করছেন তারা। এর আগে একাধিক নারী এখানে কাজ করে গেছেন। ফলে তারাও যে খুব বেশি দিন সেবা দিতে পারবেন সেটা মনে করছেন না।

*

*

আরও পড়ুন