গুগলে কনিষ্ঠ বাংলাদেশীর স্বপ্নযাত্রা

মন্ময় গুগলে-টেকশহর.কম
Evaly in News page (Banner-2)

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশী গুগলার হিসেবে সম্প্রতি গুগলে যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী মমন্থ মাসহাক মন্ময়। বর্তমানে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি আছেন গুগলের জুরিখ অফিসে। কিন্তু তার এই গুগল যাত্রার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন-সাধনা। এইসব কথাই জানিয়েছেন সাইমুম সাদকে।

মন্ময় জানান, ছোটবেলায় বইয়ের পোকা ছিলাম। বাবার আলমারীর হরেক রকমের বইয়ের মধ্যে আমাকে টানতো মূলত বিজ্ঞানের বইগুলো।

বই পড়তে পড়তেই একসময় নিজেকে খুদে নিউটন-আইনস্টাইন ভাবতে শুরু করি। কাজে, কথায়, আড্ডায় তো বিজ্ঞানকে খুঁজতামই, এমনকি হাতের কাছে যা পেতাম তা নিয়েও কিছু একটা বানানোর জন্য উঠেপড়ে লাগতাম। একবার তো বাসার পুরাতন চার্জার লাইট, ফুজি বাল্ব ও কয়েক টুকরা তার দিয়ে আস্ত একটা রোবটই প্রায় বানিয়ে ফেলেছিলাম!

এভাবে উদ্ভট বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে তের-চৌদ্দ বছর বয়সেই ‘ক্ষুদে বিজ্ঞানী’ হিসেবে আমার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

আরো পড়ুনঃ গুগল স্কলারশিপে জাপান ঘুরে এলেন বুয়েটের সামিয়া

monmoy pic

এটা ওটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে একসময় কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি। বাবার কাছে আবদার করে তখনই তা পাইনি, তবে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে থাকাকালীন পেয়েও গেলাম একটা কম্পিউটার। এসময় আমার পুরো মনোজগৎ দখল করে নিলো কম্পিউটার।

এরপর কম্পিউটার বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই ভর্তি হলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগে। সেখানেই প্রোগ্রামিং সমন্ধে ধারণা পাই। সে সময় বিভাগের বড় ভাইদের অনেকে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ভালো করে গুগল বা মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুযোগ পান। এটা দেখে আমার মধ্যেও প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার স্বপ্নের জন্ম হয়। এরপর থেকে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার পেছনে প্রচুর সময় ও শ্রম দিতে শুরু করি। সেই সূত্রে দেশে বিদেশের বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ সুযোগ আসে।

২০১২ সালে এ রকমই এক প্রোগ্রামিং কনটেস্টে জানতে পারি, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে রিক্রুটমেন্ট প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। এও জানলাম, এখানে যারা ভালো করে তারা গুগলে চাকুরীর সুযোগ পায়। কিন্তু সেবার ঐ প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারিনি। তবে ২০১৩ সালে ঠিকই অংশ নিই।

তারও কিছু দিন পর জানতে পারি, কয়েক’শ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ইন্টারভিউয়ের জন্য মনোনীত তিনজনের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছি আমি!

এরপর ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য গুগলের ভারতীয় অফিস বাঙ্গালোরে যাই। ইন্টারভিউটা বেশ উপভোগ্য ছিলো, ভালোও করি। কিন্তু অনেকটা সময় কেটে গেলেও কোনো রেসপন্স পাচ্ছিলাম না। কতকটা হতাশ হয়ে ভুলেই যাই ব্যাপারটা। কিন্তু ২০১৪ মালের মে মাসে আমার মেইলটা চেক করতে গিয়েই দেখি, গুগল থেকে একটা মেইল এসেছে। ঝটপট মেইলটা খুলে দেখি, চাকুরীটা আমার হয়েই গেছে!

যখন জানলাম, বাংলাদেশ থেকে আমিই কনিষ্ঠতম গুগলার, তখন আনন্দের মাত্রাটা বেড়ে গেলো আরও কয়েক’শ গুণ। তারপর কাতার এয়ারওয়েজে করে সোজা আমার স্বপ্নের ঠিকানা জুরিখে পৌঁছে যাই একদিন। মোটামুটি এই হলো গুগলে কনিষ্ঠ বাংলাদেশীর স্বপ্নযাত্রা এর গল্প।

আরো পড়ুনঃ

*

*

আরও পড়ুন