বিদুৎ না থাকায় টেলিকম সেবায় বিভ্রাট

বিদ্যুৎ-জাতীয় গ্রিড-সমস্যা-টেলিকম-টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সারা দেশে একযোগে ভয়াবহ বিদুৎ বিভ্রাট হওয়ায় টেলিযোগাযোগ সেবাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে একে একে সবগুলো মোবাইল ফোন অপারেটরের অনেকগুলো বেইজ সেটশন নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যেতে থাকে।

একইভাবে ইন্টারনেট সার্ভিসের ক্ষেত্রে গ্রাহক ভোগান্তি ছিল চরমে। তা ছাড়া মোবাইল ফোনে চার্জ না থাকায় বিকালের পর থেকে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যায় বড় সংখ্যক গ্রাহক।

সূত্র জানিয়েছে, মোবাইল ফোন অফারেটর রবি শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের অন্তত কয়েকশ বিটিএসে কোনো পাওয়ার সংযোগ পায়নি। সকাল সাড়ে এগারোটায় বিদুৎ চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাকআপ জেনারেটর দিয়ে কাজ চললেও একটি সময় পর তা আর কাজ করছিল না।

বিদ্যুৎ-জাতীয় গ্রিড-সমস্যা-টেলিকম-টেকশহর

অপারেটরটির প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা একেএম মোরশেদ তাদের নেটওয়ার্কে এ সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিটিএস নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যায়।

গ্রামীণফোনেও সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত কয়েকশ বিটিএস আর কাজ করেনি। এ অপারেটরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

একেএম মোরশেদ বলেন, বিদুৎ না থাকায় শুধু যে কয়েকটি সাইট বন্ধ হয়েছে তা নয়, গ্রাহকদের নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে কল ড্রপ বেড়েছে, একই সঙ্গে বে‌‌‌ড়েছে কনজেশানও।

তবে বাংলালিংক দাবি করেছে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি।

এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব অপারেটর টেলিটক জানিয়েছে, ডিজেল না পাওয়ার কারণে জেনারেটর দিয়েও বেশিক্ষণ বিটিএসগুলো চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। লোক পাঠিয়েও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

সমস্যাটিকে দেশের টেলিকম খাতের জন্যে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেছেন মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক এটিএম নুরুল কবীর। তিনি বলেন, সবাই এখন একটি জাতীয় বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে এ বিপর্যয়ের মধ্যেও কতোটা কাজ করা যায় সে চেষ্টাই অপারেটররা করে যাচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, মোবাইল ফোন অপাটেরদের মতো ওয়াইম্যাক্স অপারেটরগুলোও বিটিএসে বিদ্যুৎ না থাকার সমস্যায় পড়েছিল।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকার বাইরে সব সময় বিদ্যুতের সমস্যা হয় বলে সেখানে তাদের ব্যাকআপ বেশি থাকে। এ কারণে ঢাকায় ব্যাকআপ কম রাখেন। ফলে এবার রাজধানীতেও সমস্যা বেশি হয়েছে।

ব্রন্ডব্যান্ড সেবার ক্ষেত্রেও একই সময় হয়েছে। সংযোগ সুইচগুলোতে বিদ্যুতের
ব্যাকআপ বেশিক্ষণ না থাকায় বেশিরভাগ ব্যবহারকারী দুপুরের পর থেকেই একে একে সংযোগের বাইরে চলে যেতে থাকেন।

*

*

আরও পড়ুন