আইটিইউতে বাংলাদেশ জয়ী

জুনায়েদ-আহেমদ-পলক-আইটিইউ-নির্বাচন-বাংলাদেশ-টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টানা দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগে ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।

শক্তিধর প্রতিপক্ষ দেশগুলোর সঙ্গে লড়াই করে এ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। নির্বাচনে ১১৫ ভোট পেয়ে ৭ম হয়েছে বাংলাদেশ। মোট ১৬৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ভোট দেন।

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ খাতের মর্যাদাপূর্ণ এ লড়াইয়ে জয়ের কথা ফেইসবুকে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

আরও পড়ুন : আইটিইউ নির্বাচন : শেষ মুহূর্তের নেটওয়ার্কিংয়ে ব্যস্ত বাংলাদেশ 

আইটিইউ-নির্বাচন-জুনাইদ-আহমদ-পলক-বিটিআরসি-টেকশহর

প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘের এ অঙ্গ সংগঠনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর পদ ধরে রাখতে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে এ নির্বাচনে বাংলাদেশের নেতৃত্বে দেন।

এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের ১৩টি পদের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে  ১৮টি দেশ। গতবার ২০১০ সালে মেক্সিকো নির্বাচনে ষষ্ঠ হয়ে নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ।

সোমবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দদ্বীতায় ছিল বাংলাদেশের নিকটতম চার প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ড। এ ছাড়া চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়ার মতো পরাশক্তি।

মুসলিম দেশ বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কুয়েত, লেবানন, সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং ফিলিপাইন এবার এই নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছে।

তবে প্রতদ্বন্দ্বী এই ১৮ দেশের মধ্যে শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ইরান, লেবানন ও বাহরাইন হেরে গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ভোটের লড়াইয়ে জয়ী হতে একের পর এক নেটওয়ার্কিং বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী পলক, বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসসহ প্রতিনিধিরা।

গত শনিবার এবং রোববার দু’দিনে ব্যস্ত সময় পার করেছেন তারা। এরই মধ্যে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা।

আইটিইউ-নির্বাচন-বাংলাদেশ-টেকশহরডটকম

বাংলাদেশ বর্তমানে কাউন্সিল সদস্য দেশ। এ কারণে পদটি ধরে রাখা এক রকম মর্যাদার লড়াই। আর সে লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার সব চেষ্টা চালাচ্ছেন সফররত প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

সূত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রী পলক শুধু বাংলাদেশের কনিষ্ঠতম প্রতিমন্ত্রীই নন; একই সঙ্গে বুসানে নির্বাচন করতে জড়ো হওয়া সবগুলো দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে তিনিই হয়ত সর্বকনিষ্ট নেতা। ফলে একটি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছেন তিনি সব জায়গা থেকে।

সঙ্গে রয়েছেন, প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ জন বিটিআরসির চেয়ারম্যান। আগেরবার বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ার সময় তিনি ছিলেন টেলিযোগাযোগ সচিব। পরে হয়েছেন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কশিমনের চেয়ারম্যান। ফলে টেলিযোগাযোগ বিশ্বে তার অবস্থান আছে ভালোই।

টেলিযোগাযোগ দুনিয়ার এ সর্বোচ্চ আয়োজনে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। কি কি কাজ করতে চায়, দেশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে কি কি অর্জন করতে চায় এসব তুলে ধরেছেন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে বাংলাদেশের পজেশন পেপার, নির্বাচনী ইশতেহার এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রীও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রচারণা অংশ হিসাবে দেওা হয়েছে। সব মিলে ভালোই সাড়া মিলেছে বলে দাবি করছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন সূত্র।

জুনায়েদ-আহেমদ-পলক-আইটিইউ-নির্বাচন-বাংলাদেশ-টেকশহর

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট শেষ হয় বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৫টায়। ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৬৭ দেশ ভোট দেয়।

ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত আইটিইউর মহাসচিব ও উপমহাসচিব পদের নির্বাচন হয়ে গেছে। দুটি পদের জন্য ভোট পড়েছে ১৫৬ ও ১৬৮টি।

মহাসচিব পদে নির্বাচিত হয়েছেন চীনের হাউলিন ঝো। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও নির্বাচন হয়েছে। আগের দু’বারের উপ-মহাসচিব ছিলেন তিনি। বর্তমান মহাসচিব হামাদুন তুরে দু’মেয়াদে দায়িত্ব পালন করায় গঠনতন্ত্র অনুসারে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

জুনায়েদ-আহেমদ-পলক-আইটিইউ-নির্বাচন-বাংলাদেশ-টেকশহর

আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন ঝো। ওই সময় আইটিইউর ১৫০তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানও হবে।

এদিকে বাংলাদেশ নতুন করে নির্বাচিত হলে আরও চার বছর অর্থাৎ ২০১৯ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করবে। আর নির্বাচিত না হতে পারলে বর্তমান মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হবে।

এর আগে ২০১০ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো আইটিইউর কাউন্সিল মেম্বর নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। তারও আগে ১৯৭৩ সালে পায় সাধারণ সদস্যপদ।

আগের বারের নির্বাচনে বাংলাদেশ এশিয়ার এ অঞ্চলে ১৩টি পদের বিপরীতে ১৭ দেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে ১২৩ ভোট পেয়ে ষষ্ঠ হয়েছিল।

আরো পড়ুনঃ

আইটিইউতে বাংলাদেশের চূড়ান্ত লড়াই সোমবার

আইটিইউ নির্বাচন : উপহার গেল জেনেভায়

আইটিইউ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছে বাংলাদেশ

*

*

আরও পড়ুন