সিউল স্টেডিয়াম মাতাল লিগ অব লিজেন্ডস

গেইম-স্টেডিয়াম-লিগ-অব-লিজান্ড-টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

শাহরিয়ার হৃয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেখে মনে হতে পারে এটি প্রিমিয়ার লিগের কোনো ফুটবল ম্যাচ। ৪০ হাজার দর্শক গ্যালারিতে বসে যেখানে প্রিয় দলকে গলা ফাটিয়ে সমর্থন যোগাচ্ছে। সঙ্গে আছে সুপারস্টার খেলোয়াড়, করপোরেট স্পন্সর থেকে শুরু করে মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার।

খেলোয়াড়দের অবশ্য মাঠে নেমে কোনো দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে না বা ঘাম ঝরাতে হচ্ছে না। কারণ এতো আয়োজন যেই ইভেন্টকে নিয়ে, সেটি একটি কম্পিউটার গেইম। তাই খেলার একমাত্র সরঞ্জাম মাউসের ক্লিক।

লিগ অব লিজেন্ডস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৪ এর ফাইনাল ছিল এটি। অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেইম বা ই-স্পোর্টস হওয়া সত্ত্বেও মূলধারার যে কোনো খেলার মতো উত্তেজনা ছিল একে ঘিরে।

আরও পড়ুন: ভিডিও গেইম খেলা হবে পেশা

গেইম-স্টেডিয়াম-লিগ-অব-লিজান্ড-টেকশহর

সিউলের ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেডিয়ামের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল স্টার হর্ন রয়্যাল ক্লাব এবং স্যামসাং হোয়াইট। আর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে টেলিভিশনের সামনে বসে এটি উপভোগ করেছে কয়েক লাখ গেইমপ্রিয় মানুষ ।

২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছে হো-স্যানের দল স্যামসাং হোয়াইট। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে ১০ লাখ ডলার।

লিগ অব লিজেন্ডস মূলত একটি টিম গেইম। প্রতি টিমে প্রতি টিমে সদস্য পাঁচজন, যারা পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র হয়ে খেলে। প্রতিটি চরিত্রকে বলা হয় চ্যাম্পিয়ন।

একেক চ্যাম্পিয়নের ক্ষমতা একেক রকম। কারও শক্তি অনেক কিন্তু সহজে দম ফুরিয়ে যায়, কেউ খুন করতে পারদর্শী কিন্তু সহজে মারা পড়ে, আবার কেউ দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে কিন্তু বিশেষ কোনো ক্ষমতা নেই।

গেইম-স্টেডিয়াম-লিগ-অব-লিজান্ড-টেকশহর

খেলাটির মূল লক্ষ্য প্রতিপক্ষের চ্যাম্পিয়নদের কাবু কোনো বিশেষ জিনিস ছিনিয়ে আনা। প্রত্যেক চ্যাম্পিয়নের মধ্যে বোঝাপড়া ও সন্নিবেশের মাধ্যমেই কেবল তা সম্ভব।

ক্যালিফোর্নিয়ার রায়ট গেইমস লিগ অফ লিজেন্ডসের নির্মাতা। বর্তমানে প্রায় তিন কোটি গেইমার প্রতিদিন এটি খেলে। একসঙ্গে সাত কোটি মানুষ খেলার রেকর্ডও আছে।

সময় নিয়ন্ত্রণ ও স্ট্র্যাটেজির কারণে গেইমটি তুমুল জনপ্রিয় বলে নির্মাতারা মনে করেন। এবং বিনামূল্যে যে কেউ এটি খেলতে পারবেন।

তবে বিভিন্ন বাড়তি ফিচার ব্যবহারের জন্য টাকা লাগবে। আর এ বাড়তি ফিচার থেকে গেইমটির বাৎসরিক আয় ৬০ কোটি ডলারের বেশি। একে এখনকার সবচেয়ে বড় ই-স্পোর্টস বলছেন বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ।

আরও পড়ুন: যেসব গেইমে শেখাও যায়

গেইম-স্টেডিয়াম-লিগ-অব-লিজান্ড-টেকশহর

গেইমটির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড় পুরুষ। যদিও মেয়েদের কয়েকটি টিম রয়েছে। গ্র্যান্ড ফাইনালের দর্শকদের মধ্যেও পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি ছিলো।

সব খেলায় যেমন তারকা আছে, এই খেলায়ও আছে। সেরা খেলোয়াড়রা ইতোমধ্যে খ্যাতি ও প্রতিপত্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছেন। তাদের পোস্টার পেতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ভক্তরা। তাই বড় বড় স্পন্সররা দ্রুত আকৃষ্ট হয়েছেন এই ই-স্পোর্টসের দিকে।

লিগ অফ লিজেন্ডসের অন্যতম তারকা সান হো-স্যান নিজের ব্যাপারে বলেন, ‘সবাই যখন দুপুরের খাবার খায় তখন আমি ঘুম থেকে উঠি। আপনি চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে প্রতিদিন অন্তত দশ ঘণ্টা প্র্যাকটিস করতে হবে।

২২ বছর বয়সী এ যুবক বলেন, তার আর কোনো ‘ক্যারিয়ার’ নেই। গেইম নিয়ে জীবনযাপন করার কারণে তার জীবন কিছুটা অদ্ভুত হয়ে গেছে, সেটও স্বীকার করেন তিনি।

আরও পড়ুন:

ডুয়েটে গেইমিং কনটেস্ট শুক্রবার

ভয়ংকর নিষ্ঠুর তবুও জনপ্রিয় ছয় গেইম!   

প্রফেশনাল ও গেইমিং উপযোগী ল্যাপটপ বিক্রি বাড়ছে

*

*

আরও পড়ুন