নতুনত্ব দিয়ে গ্রাহক আস্থা পেতে চায় বিডিহাট

দেশের ই-কর্মাস বাণিজ্যে সফল অনলাইন উদ্যোগ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে বিডিহাট। বড় জনের তৈরি ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে ছোট ভাইয়ের হাত ধরে এখন এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। দু’ভাইয়ের সম্মিলিত প্রয়াসের গল্প জানচ্ছেন ফখরুদ্দিন মেহেদী।

অনলাইনে কেনাকাটা এখন আর শখের পর্যায়ে নেই। নগরে ব্যস্ততা যত বাড়ছে প্রয়োজন মেটাতে ততই জনপ্রিয় হচ্ছে ই-কমার্স। দেশের বাজারে প্রায় হাজারো ই-কমার্স সাইটে প্রতিদিন কেনাকাটা বাড়ছে। অনেকগুলো আবার টিকে থাকতে লড়াই করে চলেছে।

তবে এগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম বিডিহাট ডটকম। অনেকের ভিড়ে এটিকে সেরা অবস্থানে নিয়ে যেতে চান দুই ভাই শরিফুল ও আরাফাত।

যে ভাবে শুরু
বুয়েটে দুই সেমিস্টার পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যান মো: শরিফুল ইসলাম। পড়াশোনা শেষে আমেরিকান বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ে চাকরি শুরু করেন তিনি । সেখান থেকে দেশে ফিরে নিজে থেকে কিছু করার প্রয়াস চালান।

অনেক ভাবনা চিন্তা ও পরিকল্পনার পর ২০০৬ সালে বিডিহাট নামে একটি ডোমেইন কেনেন। তখন থেকে শুরু এ সফল উদ্যোগের।

এরপর এ ওয়েবসাইট থেকে কলিং কার্ড, সার্চ ইঞ্জিন, বিডিহাট জব ইত্যাদি ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু শুরুর সেই সময়ে ইন্টারনেটের উচ্চ মূল্য ও অপ্রতুলতার কারণে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।

আরো পড়ুনঃ বহুজাতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সেবা বাড়াতে চায় আপনার ডিল

DSC_8022n

হাঁটি হাঁটি পা পা
এরপর চিন্তা করেন এটাকে একটি ই-কমার্স সাইট হিসেবে দাঁড় করানোর। সেভাবে কাজও শুরু করেন। পরে ছোট ভাই মো: আরাফাত ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে এটিকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিতে কাজ করতে থাকেন।

একটি ভার্চুয়াল সুপার সপের স্বপ্ন নিয়ে নিয়ে ২০১২ সালের মার্চ মাসে বিডিহাটডটকমের যাত্রা শুরু করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক্যালে (জিই) চাকরি নিয়ে শরিফ দেশ ছাড়লে বিডিহাটের দায়িত্ব বর্তায় আরাফাতের কাধেঁ।

আরাফাত নর্দান বিশ্বদ্যিালয় থেকে ইলেক্ট্রনিক কমিউনিকেশনে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে এক্সিকিউটিভ মাস্টার্স করছেন। পাশাপাশি বিডিহাটের ম্যানেজিং ডিরেক্টরেরও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

শুরুতে পাঁচ জনকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে বিডিহাট। ডেলিভারি থেকে মার্কেটিং, প্ল্যানিং এবং কাস্টমার কেয়ার সবকাজ এ পাঁচ জনকে সামলাতে হতো। পরে প্রতিটি ডিপার্টমেন্টকে আরও মজবুত করতে আরও জনবল বৃদ্ধি করেন আরাফাত।

বিডিহাট-টেকশহর

বিডিহাটের বৈশিষ্ট্য
শুরুতে খুব সাদাসিধেভাবে শুরু করলেও নিজেদের সার্ভিস কোয়ালিটি এবং পণ্য মান কখনও খারাপ হতে দেয়নি বিডিহাট বলে জানান আরাফাত। গ্রাহকরা এ সাইট থেকে পছন্দের পণ্য অনলাইনে অর্ডার করার পর কাস্টমার সার্ভিস থেকে কনফার্ম করে পণ্য ডেলিভারির মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

গ্রাহকদের মতামত, পরামর্শ এবং অসুবিধার কথা জানানোরও সুবিধা রেখেছে বিডিহাট। মূলত নিজেদের গুণমান ধরে রাখতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিডি হাটের সেবা
বিডিহাট সারাদেশেই তাদের পণ্য ডেলিভারি দেয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকার ভেতরে ডেলিভারি বিনামূল্যে দিলেও এবং ঢাকার বাইরে নামমাত্র চার্জ ধরা হয়।

এ ছাড়া গ্রাহকদের পণ্য পছন্দ না হলে তা ফেরত দেবারও সুবিধা রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ই-কমার্স সাইটটি সম্পূর্ণ আসল পণ্য বিক্রির অফার দেয়, যা অন্যদের থেকে এটিকে আলাদা করেছে বলে দাবি আরাফাতের।

বিডিহাট ব্যবসায়ীদের জন্য বিনামূল্যে ই-স্টোরের সুবিধা রেখেছে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পণ্য রাখতে পারবেন।

এ ছাড়াও দেশে চাকরির বাজারের খোঁজ খবর দিতে প্রতিষ্ঠানটির সাইটে চাকরির তথ্য দেওয়ার সাইট যুক্ত করা হয়েছে। যা গ্রাহকদের বিভিন্ন চাকরির খোঁজ খবর দিতে সহযোগিতা করে।

বিডিহাটের পণ্য
গ্রাহকদের জন্য নানা নকশা ও বৈচিত্র্যের এবং গুণগত মানের পণ্যের এক বিশাল অনলাইন সার্ভিস ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে, গিফট আইটেম, জামা-কাপড়, শিক্ষা উপকরণ, সৌন্দর্যবর্ধক পণ্য, মোবাইল, টিভি, ফ্রিজসহ নানাবিধ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, খাবার, মুদি দোকানে পাওয়া যায় এমনসব পণ্য, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সেবার ব্যবস্থা, ফার্নিচার, বিলাসবহুল পণ্য, বই, যানবাহনের টিকেটসহ আরও নানাবিধ সেবা।

 

প্রতিবন্ধকতা
কি ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে এমন প্রশ্নের বিষয়ে আরাফাত জানান, বাংলাদেশে ই-কমার্স একেবারেই নতুন হওয়ায় গ্রাহকদের সন্তুষ্টি ও আস্থা অর্জন ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেই ইন্টারনেট স্পিডের অপ্রতুলতা তো রয়েছেই।

এ ছাড়া দেখাদেখি গড়ে উঠা ব্যাঙের ছাতার মতো ই-কমার্স সাইট তৈরি হওয়ার কারণে গ্রাহকরাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি।

শুরুর কয়েক মাসের মধ্যে ভালো গ্রাহক পেলেও নতুন সাইটগুলোর কারণে আশানুরূপ গ্রাহক পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন আরাফাত।

বিডিহাট-টেকশহর

সুযোগ-সুবিধা
তরুন এ উদ্যোক্তা জানান, একজন কাস্টমার যেন নির্বিঘ্নে তার পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারেন সে জন্য ভিসা, মাস্টারকার্ড, অ্যামেরিকান এক্সপ্রেস, ডিসকভার, বিকাশসহ যে কোনো মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা রেখেছে বিডিহাট।

কোনো রকম অতিরিক্ত চার্জ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড দিয়েও পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা যায় বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া সার্বক্ষণিক কাস্টমার কেয়ার রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের। লাইভ চ্যাট, ফোন ও ই-মেইল সার্ভিসের মাধ্যমেও পণ্য ডেলিভারি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রচারণা ও লক্ষ্য
বর্তমানে ফেইসবুক, গুগল অ্যাডওয়ার্ড এবং ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভিশনের মাধ্যমে প্রচারণার কাজ করছে বিডিহাট। গ্রাহকরা যাতে কম খরচে কোনো ঝামেলা ছাড়াই অল্প সময়ে মানসম্মত পণ্য পেতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে ই-কমার্স সাইটটি।

নতুনদের জন্য পরামর্শ
নতুন উদ্যেক্তাদের প্রতি নবীন এ উদ্যোক্তার পরামর্শ হলো, দেশের মানুষকে নতুন এ সেবার দিকে দিকে ধাবিত করতে ইউনিক সার্ভিস নিয়ে আসতে হবে। নতুন কিছু করতে হবে যা গ্রাহকদের সত্যিকার অর্থে আকৃষ্ট করে। তাই বিনিয়োগের আগে নতুনত্ব আনা জরুরি।

বিশেষ করে যে ধরনের সেবা নিয়ে অন্যরা ইতিমধ্যেই বাজারে হাজির হয়েছে সেগুলোর পুনরাবৃত্তি না করার পরামর্শ দেন আরাফাত।

মূলত নিজেকে অন্যান্যদের তুলনায় আলাদা মনে হয় এমন উদ্যোগ নিলে তাতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করেন এ উদ্যোক্তা।

যোগাযোগ
Web Link: bdhaat.com
FB Link: facebook.com/bdhaat
Google+ Link: https://plus.google.com/+Bdhaat
[email protected]
+88-01764428336
+88-01971860086
+1-888-520-1772(USA)

 

আরো পড়ুনঃ

২৫ অ্যাপে হাতের মুঠোয় যেসব সরকারি সেবা

ক্লাউড সেবা নিরাপদ রাখার উপায়

ডিআইইউতে সফটওয়্যার টেষ্টিং ইঞ্জিনিয়ারদের সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

*

*

আরও পড়ুন