Techno Header Top and Before feature image

ওয়েবসাইট তৈরিতে যেসব কারণে এগিয়ে ইউ এক্স ডিজাইনাররা

ইউএক্স-টেকশহর

নিলীম আহসান, অতিথি লেখক : ইউএক্স এবং এটির প্রয়োজনীয়তা ও প্রয়োগের বিষয়টি এখন কিছুটা হলেও পরিচিত পেয়েছে। কিছুটা নতুন হলেও ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। তবে এখনও অনেকের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে সংশয় কাজ করছে। ওয়েব ডিজাইনার এবং ইউ এক্স ডিজাইনার উভয়েই সাইট ডিজাইন করেন। তবে এদের দু’জনের কাজের পার্থক্যটা কোথায়?

একটি ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স (ইউ এক্স) খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একটি ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপ্লিকেশন শুধু এখন আর দেখবার বিষয় নয়। এটির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়িক লাভক্ষতি এবং গ্রাহক বা ব্যাবহারকারীর প্রয়োজনের দিকটিও।

একই সঙ্গে পণ্য ব্যবহারে গ্রাহক বা ব্যবহারকারীদের অনুভূতি, সুবিধা-অসুবিধা, মূল্যায়ন ইত্যাদি বিষয়ও ইউ এক্সের আওতায় ভেবে দেখা হয়। এ কাজটিই ইউ এক্স অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন : দেশে ইউএক্সের কাজের সুযোগ বাড়াতে চায় ইউজারহাব

ইউএক্স-টেকশহর

বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স বা সফটওয়্যার খাতে ইউএক্স অপটিমাইজেশন পরচিতি পেলেও দেশে এটির ব্যবহার কম। এসইও, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং যতটা জনপ্রিয় এটি তেমন নয়। অথচ এ পদ্ধতিটি বেশ কার্যকরি।

সংক্ষেপে চলুন জেনে নেয়া যাক, ওয়েব ডিজাইনার এবং ইউ এক্স ডিজাইনারের মধ্যে আসলে তফাৎটা কোথায়?

আপাতদৃষ্টিতে ওয়েব ডিজাইনার এবং ইউ এক্স ডিজাইনার উভয়েই ওয়েবসাইট ডেভেলপের কাজ করলেও কাজ ও কাঠামোগত দিক থেকে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ওয়েব ডিজাইনার যেভাবে কাজ করেন
কাজের রিকোয়ারমেণ্ট নিয়ে ডিজাইন তৈরি করে কোড করার মাধ্যমে একজন ওয়েব ডিজাইনার কাজ শুরু করেন। এক্ষেত্রে তার কাজটিতে এক্সপ্লোর করার জায়গাটা সীমিত থাকায় তিনি স্বল্প কিছু বিষয়ের উপর লক্ষ্য রেখে কাজ করেন। যেমন- ক্রিয়েটিভিটি, ভিজুয়াল ডিজাইন এবং ডিজাইন ইন্সপিরিশন।

ওয়েব ডিজাইনার যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেন
গ্রাফিকাল ডিজাইন আগে তৈরি করেন। এরপর একে একে কালার স্কিম, ইন্টারফেস ডিজাইন তৈরি, ফটোশপ/ইলাস্ট্রেটরে কাজ করেন, নেভিগেশন ডিজাইন তৈরি ও ফাইল প্রিপারেশন করে এইচটিএমএল,সিএসএস ও জাভাস্ক্রিপ্ট প্লাগইন নিয়ে কাজ করেন।

ইউ এক্স ডিজাইনার যেভাবে কাজ করেন
কাজের রিকোয়ারমেণ্ট বুঝে নিয়ে আগে পুরো কাজটা সম্পর্কে চিন্তা করেন। যাদের জন্য সাইটটি তৈরি করছে মানে ইউজারদের গ্রুপ, টেস্ট, বিহেভিওর, সাইকলজি ইত্যাদি সব বিষয় গুলো নিয়ে রিসার্চ করেন।

ইউ এক্স ডিজাইনার যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেন
প্রথমে ওয়ারফ্রেমস/স্কেচ তৈরি, প্রোটোটাইপ তৈরি, পারসনা ডেভেলপ তৈরি, ইউজারের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে গবেষণা ও নেভিগেশন এলিমেন্টস নিয়ে কাজ করেন। এ ছাড়া সাইট ম্যাপ তৈরি করেন এবং সাইট অডিট করেন।

এইচটিএমএল, সিএসএস ও জাভাস্ক্রিপ্ট প্লাগইন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি কন্টেন্ট স্ট্রাটেজি নিয়ে কাজ করেন।

এখানে কিছু ইনফোগ্রাফি দিয়ে বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার করে দিতে চাই। দেখুন নিচের গ্রাফটি :

ইউএক্স-টেকশহর

সার সংক্ষেপে বলা যায়, ওয়েব ডিজাইনারের অ্যাডভান্সড লেভেলই হচ্ছে ইউ এক্স ডিজাইন। বর্তমানে স্পেশালাইজেশনের এ যুগে, কাজের ক্ষেত্র বিশেষে এখন প্রতিটি কাজ আলাদা করে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হয়।

দেশ-বিদেশে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের জোয়ারে ওয়েবসাইটগুলো এখন আর শখের কোনো বিষয় নয়। এখন ক্লায়েন্টরা জানেন একটি ওয়েবসাইটের প্রতিটি পিক্সেল, প্রতিটি কর্নার, কন্টেন্ট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা খোঁজখবর রাখেন যেসব ব্যবহারকারীকে লক্ষ্য করে সাইটগুলো তৈরি হচ্ছে তাদেরকে কিভাবে আকর্ষণ করতে হবে।

সময়ের প্রয়োজনে এবং প্রযুক্তির নিত্য নতুন অগ্রগতির কারণে এখন তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন শাখার কর্মীদের নিজেদেরও সেগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। নিজেকেও আপটুডেট করার কোনো বিকল্প নেই। ওয়েব ডিজাইনারদের জন্যও এর ব্যতিক্রম নেই।

দেশে যদিও আগের চেয়ে ওয়েব ডিজাইনারদের স্কিলে অনেক বেশি উন্নতি হয়েছে। এ ধারাকে ধরে রাখতে তাদের ইউ এক্স ডিজাইনিংয়ের সঙ্গে দ্রুত পরিচিত হওয়া এবং ডিজাইনের অতিরিক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করা উচিত।

কিভাবে নিজেকে আপগ্রেড করবেন ইউ এক্স ডিজাইনার হিসেবে?

আগ্রহীরা অনলাইনে প্রচুর রিসোর্স পাবেন। প্রতিদিন জানুন, পড়ুন ইউ এক্স সম্পর্কে। তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি ব্যবহারিক দিকটাও আয়ত্বে আনতে কাজের চেষ্টা করুন।

হাতে কলমে ব্যবহারিক দিকগুলো চর্চা করার মাধ্যমে ইউ এক্সের আদ্যপান্ত দিক বিশ্লেষণ করে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। যতক্ষণ নিজে থেকে একটি সাইট ডেভেলপ করতে না পারছেন, ততক্ষণ তাত্ত্বিক জ্ঞান কোনো কাজেই আসবে না।

এজন্য প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের সহায়তা নিতে পারেন। তাদের দিক নির্দেশনায় কাজ করতে পারেন। আরও বেশি পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ শিখতে ও করতে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। অংশ নিতে পারেন বিভিন্ন কর্মশালায়। দেশে এখন প্রশিক্ষণও দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

*

*

আরও পড়ুন