সোশ্যাল নেটওয়ার্কের নেতিবাচক রূপ গুডটুগো অ্যাপ!

স্মার্টফোন-সেক্স-টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : যৌণসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার জন্য অনেক ডেটিং ওয়েবসাইট বা অ্যাপ রয়েছে। এক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের নতুন অ্যাপ গুডটুগো। অল্প কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে এটি যৌণসঙ্গী খুঁজে দেওয়ার কাজটি করে। বেশ কিছুদিনের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হলেও সমালোচনাও হচ্ছে বেশ।

স্যান্ডন টেকনোলজিস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি এ অ্যাপের লক্ষ্য যৌণ হয়রানি, যৌণ সম্পর্কিত ভুল বোঝাবুঝি প্রতিরোধ করে দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করা। এর জন্য বেশ কিছু ধাপ পার করতে অবশ্য। এ ধাপগুলো নিশ্চিত করবে আপনার সঙ্গী কতোটা উপযুক্ত এবং প্রাপ্তবয়স্ক কিনা।

অ্যাপটি ওপেন করার পর ফোন নম্বর ও নাম দিয়ে সাইনআপ করতে হবে। এটি এরপর সঙ্গী খুঁজে বের করবে, যাকে আপনি সম্পর্ক তৈরির জন্য নিমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। উত্তরে আপনার পার্টনার তিনটি অপশন পাবেন- নো থ্যাংকস, আমি রাজি, কিন্তু… আগে কথা বলা দরকার এবং আই অ্যাম গুডটুগো!

তৃতীয় অপশনটি সিলেক্ট করলে আরও একসেট প্রশ্ন আসবে। এ প্রশ্নগুলোর মাধ্যমে সঙ্গী আপনাকে ‘র‍্যাংক’ করতে পারবে। আপনার ব্যক্তিত্ব কেমন লেগেছে তা অপশন থেকে সিলেক্ট করতে পারবে। ‘চমৎকার’ থেকে শুরু করে ‘সময়নষ্ট’—সব অপশনই আছে। যদি শেষ অপশনটি সিলেক্ট করা হয়, তাহলে অ্যাপটি সম্পর্ক তৈরির ‘অনুমতি’ দেবে না।

গুডটোগো-অ্যাপ-টেকশহর

বেশ ব্যতিক্রম পদ্ধতি হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যে অ্যাপটি সমালোচনার ঝড় তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌণকর্মের ইচ্ছা যদিও বা আপনার সঙ্গীর থাকে, সেটিকে মেরে ফেলার জন্য এ অ্যাপের চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। কারণ যার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইছেন তার মুখের ওপর একটি ফোনস্ক্রিন ধরে অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছে ভালো ঠেকবে না।

তারপরও অ্যাপটি জনপ্রিয় হচ্ছে এবং অনেকে ইতোমধ্যে এটি জোরেসোরে ব্যবহার করছেন। একে খুবই নেতিবাচকভাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, যৌণসম্পর্ক তৈরি একটি ফোন ক্লিকের মতো তুচ্ছ ব্যাপার—পরোক্ষভাবে এটিই শেখাচ্ছে অ্যাপটি।

স্যান্ডন টেকনোলজিসের কর্ণধার লি অ্যান অ্যালমান এ ব্যাপারে বলেন, ‘অনেকেই এ ধরনের সম্পর্ক তৈরির ব্যাপারে সম্পূর্ণ অবগত। কিন্তু তারা সঙ্গী নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকে। কাউকে পছন্দ হলে কিভাবে অগ্রসর হবে তা জানে না।’ অ্যালমানের নিজের কলেজ-পড়ুয়া সন্তান রয়েছে, যাদের অ্যাপটি ‘সুরক্ষা’ করবে বলে তিনি মনে করেন।

স্মার্টফোন-সেক্স-টেকশহর

কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞনীরা অ্যালমানের সঙ্গে একমত নয়। তাদের মতে, আধুনিক সোশ্যাল নেটওয়ার্কের সবচেয়ে নেতিবাচক রূপ গুডটুগো, যেখানে কেবল একটি ডিজিটাল ‘ইয়েস’ বা ‘নো’ দিয়ে যৌণ সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মানবীয় আবেগ-অনুভূতি বা জটিলতা এখানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। অথচ একটি সুস্থ সম্পর্কের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান এসব মানবীয় অনুভূতির।

কিছুদিন আগে কার্লা ক্লাইন মারডকের একটি মনোবিজ্ঞান বিষয়ক জার্নালে বলা হয়েছিল, টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান কোনোভাবেই সফল যোগাযোগ ও আবেগ-অনুভূতির পরিপূরক হতে পারে না। গুডটুগো এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ যান্ত্রিক এক পদ্ধতি নিয়ে এসেছে—বলাবাহুল্য।

অ্যাপটি কিভাবে বাস্তব জীবনে কাজে আসতে পারে তার একটি উদাহরণ অবশ্য অ্যালমান দিয়েছেন। কিছুদিন আগে কলোম্বিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর যৌণসম্পর্ক ধর্ষণে রূপ নিয়েছিল যখন ছাত্রটির বিকৃত রুচি প্রকাশ পায়। ছাত্রীটি আগে থেকে কিছু জানতেন না, ছাত্রটিকে ভালো লেগেছিল বলেই তার সম্পর্ক স্থাপনে এগিয়েছিলেন।

গুডটুগো অ্যাপ থাকলে কি হতো? ওই ছাত্রী দ্বিতীয় অপশন, অর্থাৎ ‘আমি রাজি, কিন্তু কথা বলা দরকার’ সিলেক্ট করতেন। এরপর কি করা যাবে আর কি যাবে না—তা নিয়ে একটি বোঝাপড়া করে নিতেন অভিযুক্ত ছাত্রটির সাথে। প্রয়োজনে এই তথ্য আদালতেও ব্যবহার করা যেত।

এখানেও অবশ্য বড় একটি ফোকর থেকে যাচ্ছে। সব ঠিকঠাক ঠাকার পরও যদি নারীটি ধর্ষণের শিকার হন, গুডটুগো কি ঠেকাতে পারবে?

– শাহরিয়ার হৃদয়, ইয়াহু টেক অবলম্বনে

*

*

আরও পড়ুন