জবসের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী : আজও প্রেরণার উৎস

স্টিভ-জবস-অ্যাপল-টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

সৌমিক আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তি জগতের অন্যরকম এক সৃষ্টিশীল মানুষ। প্রযুক্তিকে যিনি নিয়ে গেছেন উৎকর্ষের পূর্ণতায়। আধুনিক প্রযুক্তিকে দিয়েছেন অত্যাধুনিকতার ছোঁয়া। কারো পথ অনুসরণ বা অনুকরণ নয়, বরং দারুণ সব উদ্ভাবনের মধ্যদিয়ে রচনা করে গেছেন নতুন সব পথ। শুধু প্রযুক্তি খাতে নয়, বিশ্বজুড়ে সৃষ্টিশীলতার জন্য হয়েছেন অনুকরণীয় অনুসরণীয় আর আগামীর স্বপ্নদ্রষ্টা।

প্রযুক্তি বিশ্বের এ স্বপ্ন পুরষ আর কেউ নন অ্যাপল স্রষ্টা স্টিভ জবস। কাজের টানে নিজের অসুস্থতার প্রতি অবহেলায় প্রয়ানটা হয়েছিল অকালেই। আজ তার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। তার রূপকথাসম সাফল্যগাঁথা নিয়ে আজও তিনি প্রেরণার উৎস সব প্রজন্মের কাছে।

মেধা আর মননে নিদারুন একাগ্রতায় গড়েছেন শুধু কাজকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন জবস। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও একটি জরুরি অস্ত্রপচার করিয়েছেন ৯ মাস দেরিতে। মরণঘাতি ক্যান্সার শরীরে নিয়েও অবহেলা করেছেন চিকিৎসা করতে। একারণেই বড্ড তাড়াতাড়িই চলে যেতে হয়েছে স্টিভকে।

স্টিভ-জবস-অ্যাপল-টেকশহর

অ্যাপলের স্রষ্টার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর আগের দিন বর্তমান প্রধান নির্বাহী টিম কুক প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ইমেইলে জবসকে স্মরণ করেছেন।

ই-মেইলে কুক লেখেন, “আমি জানি অনেকের মতো আপনারাও তাকে স্মরণ করছেন। স্টিভ একটি উন্নত বিশ্ব বানাতে চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি অনেক কাজ করে গিয়েছেন এবং তার মৃত্যুর পর আমরাও অনেক কাজ শুরু করেছি। কিন্তু তার চিন্তা এবং অশরীরি উপস্থিতি আমাদের সঙ্গে ছিল।”

দূরদর্শীতা, পরিকল্পনা আর একাগ্রতার অপূর্ব এক মিশ্রণ স্টিভ জবস। তার উদ্ভাবনী দক্ষতা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। তবে তার একটি বড় পরিচয় নিয়ে আলোচনা কমই হয়; তা হলো তার ব্যবসায়িক সফলতা বিষয় নিয়ে। প্রযুক্তির শিল্পী স্টিভ কিভাবে প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সফলও করেছেন সেই ইতিহাস একটু দেখবো।

“স্টিভ জবস মিনস বিজনেস”-কথাটা শুধু বলার জন্যই বলা নয়। যেখানেই হাত দিয়েছেন এনেছেন সাফল্য। সেটা উদ্ভাবণ বলুন আর ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে ধরা যাক। যদিও প্রযুক্তিময় জীবন ঢেকে দিয়েছে তার উদ্যোক্তা পরিচয়।

এক হাতে লোকসান থেকে টেনে তুলেছেন অ্যাপলকে। তার কারণেই বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলার লাভের মুখ দেখেছিল টেক জায়ান্টটি। অল্প সময়ের ব্যবধানে একঝাঁক পণ্য নিয়ে আসে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে আইম্যাক, আইপড, আইটিউনস, অ্যাপ স্টোর ও আইফোন অন্যতম।

আর দশজন উদ্যোক্তা হয়তো গান শোনার যন্ত্র হিসেবে ‘আইপড’ বিক্রি করেই ব্যবসা হয়েচে বলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতেন। কিন্তু স্টিভ যে চিন্তাই করেন যেখান থেকে; সবার চিন্তা গিয়ে শেষ হয় সেখানে।

স্টিভ-জবস-টেকশহর

আইপডের জন্য নিয়ে আসেন ‘আইটিউনস স্টোর’। এক ডলারের কমে ৯৯ সেন্টেই একটি গান কেনার নেয়ার সুযোগ। এ সেবার মাধ্যমে একটি গানের অ্যালবামের পছন্দের গানটি কিনে নেয়ার সুযোগ পান ক্রেতারা।

একইভাবে ‘অ্যাপ স্টোর’ আনা হয় আইফোন আর আইপ্যাডের জন্য। প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডাউনলোড হয়েছে ‘অ্যাপ স্টোর’। শুধু অ্যাপল নয়, অ্যাপটির কল্যাণে লাভবান হয়েছে মিউজিক কোম্পানিও। ডেস্কটপ, ল্যাপটপ ও মোবাইল ডিভাইসে ম্যাকের মতো অপারেটিং সিস্টেম এনেছেন স্টিভ। এতো কিছুর পর আর আইফোন নিয়ে কিবা বলার আছে।

অ্যাপলকে নিয়ে তার স্বপ্ন ছিল ভিন্নতর। প্রতিষ্ঠানটির প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অগাধ। তাই তো ছেড়ে গিয়েও থাকতে পারেননি। ফিরে এসেছেন অ্যাপলের দুঃসময়ে।

অ্যাপলে না থাকা মাঝের সময়টাতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নেক্সট’। এটি উচ্চ শিক্ষা ও বিজনেজ মার্কেট সংক্রান্ত একটি কম্পিউটার প্লাটফ্রম ডেভলপমেন্ট কোম্পানি। এরপর লুকাস ফিল্মসের গ্রাফিক্স বিভাগ কিনে নেন স্টিভ। এটিকে পরিণত করেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এনিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান-‘পিক্সার’-এ।

এ পিক্সারই দ্য ওয়াল্ট ডিজনির সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণ করেছে অসাধারণ সব এনিমেশন মুভি। যা ব্যাবসায়িক ভাবে ছিল খুবই সফল। এর মধ্যে টয় স্টোরির বেশ কয়েকটি পার্ট, ফাইন্ডিং নিমো, আপ আর ওয়াল-ই’র মতো মুভি। তাইতো সবাই তাকে স্মরণের সময় মনের অজান্তে বলে ওঠেন- জয়তু স্টিভ!

*

*

আরও পড়ুন