আমার হিরো স্টিভ জবস

স্টিভ-জবস-টেকশহর
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মাত্র ৫৬ বছর বেঁচে ছিলেন মানুষটি। যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন রাজার মতো কাজ করেছেন। দূরারোগ্য ক্যান্সারের কাছে হার মেনে না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার আগে প্রযুক্তি বিশ্বকে ভাবনাতীত এক রাজ্যে নিয়ে গেছেন। একাই বদলে দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্বের সাম্রাজ্য। অসম্ভব সৃষ্টিশীল এ ব্যক্তিত্ব পরিচিতি পেয়েছিলেন উদ্ভাবনের অগ্রদূত হিসাবে।

এ টেক মহীরুহের প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিগত বিদ্যা খুব বেশি না থাকলেও প্রযুক্তি জগতে তাকে সবাই চিনেন আইকন হিসেবেই। তিনি আর কেউ নন, স্টিভ জবস।

Steve-Job_techshohor

কৈশোর থেকেই ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের মানুষটি পিসি, ট্যাবলেট পিসি, অ্যানিমেশন, গান শোনার যন্ত্র, মোবাইল ফোন, খুচরা বিপণিকেন্দ্র ও ডিজিটাল পাবলিশিংসহ নানা পণ্যে নিজের উদ্ভাবণী সৃষ্টিশীলতা দেখিয়েছেন। রেখে গেছেন অসংখ্য প্যাটেন্ট।

এসব কীর্তির জন্য অনেকেই তাকে তুলনা করেন টমাস আলভা এডিসনের সঙ্গে। কেউবা হেনরি ফোর্ড, ওয়াল্ট ডিজনির কথাও মনে করেন। কিন্তু তিনি এদের সবাইকে ছাপিয়ে সৃষ্টিলীলায় প্রযুক্তি বিশ্বকে ভাসিয়ে দিয়েছেন। পরিত্যক্ত একটি গ্যারেজে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘অ্যাপল’ যা এখন বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির একটি।

স্টিভ চলে গেলেও এখনো তাকে নিয়ে থেমে নেই আলোচনা। হয়ত কখনই তাকে ভুলে যাওয়া যাবে না। প্রযুক্তির পরতে পরতে তার উপস্থিতি আজও অমলিন। ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের মতো লেখকরা তার অজানা কাহিনী নিয়ে বইও লিখেছেন।

স্টিভ-জবস-টেকশহর

স্টিভের চলে যাওয়ার চার বছর পূর্ণ হবে রোববার, ৫ অক্টোবর। তার মৃত্যু দিনটি এলে এখনও প্রযুক্তি দুনিয়ায় যেন শোক ভর করে। ক্ষণজন্মা এ প্রতিভাকে এখনও সমানভাবে সকলেই স্মরণ করেন।

অ্যাপলের বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করে মৃত্যুবার্ষিকীর আগে প্রতিষ্ঠানটির সব কর্মীকে ই-মেইল পাঠিয়েছেন।

apple tv_techshohor

ই-মেইলে টিম বলেন, রোববার স্টিভের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হবে। আমি জানি অনেকের মতো আপনারাও তাকে স্মরণ করছেন। স্টিভ একটি উন্নত বিশ্ব বানাতে চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি অনেক কাজ করে গিয়েছেন এবং তার মৃত্যুর পর আমরাও অনেক কাজ শুরু করেছি। কিন্তু তার চিন্তা এবং অশরীরি উপস্থিতি আমাদের সঙ্গে ছিল।

জবস বেঁচে থাকার সময়ই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আসে গুগল। বর্তমানে সম্পর্কটা অ্যাপলের সঙ্গে সাপে-নেউলে হলেও একটা জায়গায় দুই জায়ন্টই মাথা নত করে সম্মান জানায়। আর সেই জায়গাটা হলো স্টিভ জবস। অন্যান্য অনেকের মতো গুগলের চেয়ারম্যান এরিক স্মিথও সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে বললেন ‘আমার হিরো, স্টিভ জবস’।

অ্যাপল-গুগল-টেকশহর

‘আমরা সবাই মিলে হয়তো স্টিভ জবসের একটি অংশ হতে পারব’- সিলিকন ভ্যালির কমলওয়েলথ ক্লাবের একটি রুমে এমনটাই মন্তব্য করলেন এরিক স্মিথ।

গুগলের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট এক্সিকিউটিভ জনাথন রোজেনবার্গ তার লেখা নতুন বই ‘কিভাবে গুগল কাজ করে’- এর প্রমোশন অনুষ্ঠানে মন্তব্যটি করেন। তিনি বলেন, স্টিভ জবসের মতো ব্যতিক্রম বিশ্বে খুব কম, কেননা সে বিশ্বকে বদলে দেওয়ার জন্য কাজ করে গেছে। এবং এটাই ছিল তার একমাত্র নেশা।

*

*

আরও পড়ুন