ই-কমার্সের শুরুতে ফেইসবুক দারুণ কার্যকরী : নতুনদের প্রতি পরামর্শ

ই-কমার্স-মেলা-চাকরি খুজব না দেব-সেমিনার-টেকশহর

ফখরুদ্দিন মেহেদী, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ই-কমার্সের ক্ষেত্রে মিডিয়া মার্কেটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশে হাজারো ই-কমার্স সাইট তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (সোস্যাল মিডিয়া) মার্কেটিং করা খুবই জরুরি। কেননা ই-কমার্সে গ্রাহক হচ্ছে সবচেয়ে বড় টুলস। আর এ গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর জন্য সোস্যাল মিডিয়া সবচেয়ে জনপ্রিয়।

মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে ফেইসবুক ও টুইটারের পাশাপাশি লিংকডইন ও ই-মেইল মার্কেটিংয়ের দিকেও নজর দিতে হবে। তবে ই-মেইল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে সবাইকে গণহারে মেইল না করে সাবস্ক্রাইবারদের টার্গেট করে পাঠালেই ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পাবলিক লাইব্রেরীতে শুরু হওয়া ই-কমার্স মেলায় বিডিওএসএন আয়োজিত ‘ই-বানিজ্য : শুরু ও চালিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক সেমিনারে এমন পরামর্শ দেন বক্তারা।

ই-কমার্স-মেলা-চাকরি খুজব না দেব-সেমিনার-টেকশহর

সেমিনারে তথ্যপ্রযুক্তি কিংবা ই-কমার্সে উদ্যোক্তা হতে হলে চিন্তার প্রসার ঘটাতে হবে। এমন কোন আইডিয়া খুঁজে বের করতে হবে যা আর কেউ কোথাও ব্যবহার করেনি। এরপর প্রচুর গবেষণা ও তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে উদ্যোগ নিতে হবে। এমনটাই মনে করেন ই-কমার্সে এখন পর্যন্ত সফল ব্যক্তিরা।

এতে অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনে বলেন, দেশে অশিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিতরাই বেশি উদ্যোগ নেন। দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা তথাকথিত শিক্ষিতদের চিন্তা করতে ভুলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে সে ধারা থেকে বের হয়ে আসার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে সোহাগ বলেন, দেশের অবকাঠামো এবং গ্রাহক বিবেচনায় ২৬ হাজার কোটি টাকার ই-বানিজ্য বাজার গড়ে উঠার সম্ভবনা আছে।

উদ্যোক্তা হতে আগ্রহীদের জন্য সফল এ উদ্যোক্তা বলেন, উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। কি করতে চান তা ঠিক করে এ নিয়ে প্রচুর গবেষনা করতে হবে। শুরুতেই বড় করে চিন্তা না করে ছোট করে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা মহলকে টার্গেট করে তাদের জন্য কোন পন্য বা সেবা নিয়ে আসতে হবে।

পণ্যের বাছাইয়ে ইউনিক তথা একটি গোষ্টি বা শ্রেণীর রিয়েল নিড খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়ে সোহাগ বলেন, প্রয়োজনে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল আছে এমন পণ্য দিয়েও ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। কেননা এতে মুখে মুখে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ছড়ায়। শুরুতে বিজ্ঞাপণ দিয়ে মার্কেটিং করার চিন্তা বাদ দেবার পরামর্শ দেন তিনি।

মার্কেটিংযের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে ৫০ থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয় এবং এ খরচ পর্যায়ক্রমে বাড়তেই থাকে। তাই শুরুতে ওয়েবসাইট তৈরির ঝামেলায় না গিয়ে ফেইসবুকেই যাচাইয়ের কাজটা করে নেওয়া যেতে পারে বলেও তিনি পরামর্শ দেন।

সোহাগ বলেন, এরপর ব্যবসা শুরু হয়ে গেলে পণ্য গ্রাহকের কাছে ঠিক মতো পৌঁছে দিতে হবে এবং কোনো ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া যাবে না। তাহলে প্রতিষ্ঠানের বদনাম হবে এবং গ্রাহক ছুটে যাবে। প্রয়োজনে পণ্য ফেরত দেওয়াটাও নিশ্চিত করতে হবে।

ভার্চুয়ানিকের সিইও আসাদ ইকবাল জানান, ই-কমার্সের ক্ষেত্রে মিডিয়া মার্কেটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সোস্যাল মার্কেটিং খুবই জরুরি। কেননা ই-কমার্সে গ্রাহক হচ্ছে সবচেয়ে বড় টুলস। আর এই গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর জন্য সোস্যাল মিডিয়া সবচেয়ে জনপ্রিয়। একই সঙ্গে নিজের ওয়েবসাইট এবং পণ্য কেন অন্যদের চেয়ে আলাদা সেটিও সবাইকে জানাতে হবে। এজন্য ইউনিক ধারণার প্রবর্তন করার কথা বলেন তিনি।

মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে ফেইসবুক ও টুইটারের পাশাপাশি লিংকডইন ও ই-মেইল মার্কেটিংয়ের দিকেও নজর দিতে হবে। তবে ই-মেইল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে সবাইকে গণহারে মেইল না করে সাবস্ক্রাইবারদের টার্গেট করে পাঠালেই ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। কেননা একজন গ্রাহক একবার একটি পণ্য কেনার পর পরবর্তীতে ভালো কোন পণ্যের আপডেট পেতে পছন্দ করেন। আর এটি নির্ভরতা তৈরীতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন তিনি।

ই-কমার্স দেশের তরুণদের জন্য নতুন দিগন্তের সৃষ্টি করছে বলে মনে করেন প্রিয়শপ ডটকমের সিইও আশিকুল আলম খান। তিনি বলেন সঠিক পন্থায় এগুলো সফল হওয়া সম্ভব এবং অন্যদেও জন্য কর্মসংস্থান করা সম্ভব।

উদ্যেক্তা হতে আগ্রহীদের প্রথমেই একটি ট্রেড লাইসেন্স করে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন ই-বিপনন ডটকমের সিইও এ এম ইশতিয়াক সারওয়ার। তিনি বলেন, ই-কমার্স নিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করতে গেলে সিটি কর্পোশেনের ফরমে ব্যবসার ধরণের জায়গায় আইটি বা আইটিএস লেখার পারামর্শ দেন তিনি।

*

*

আরও পড়ুন