সিটিও সম্মেলন : নতুন প্রযুক্তির ভয় আর নেই

সিটিও-ফোরাম-টেক-শহর
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তি শিক্ষা কার্যক্রম বিস্তারের মাধমেই তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রসার ঘটানো সম্ভব। কেননা মানুষ এখন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আর আগের মতো ভয় পায় না। এ পরিবর্তনকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশর মতো উন্নয়নশীল দেশে আইসিটি বান্ধব দেশ গড়তে প্রযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে হবে।

বুধবার কমনওয়েলথ টেলিযোগাযোগ সংস্থার (সিটিও) সম্মেলনের তৃতীয় এবং শেষ দিনে ‘ডেভেলপমেন্ট স্কিল ইন আইসিটি অ্যান্ড ডিজিটাল টেকনোলজিস’ শীর্ষক এক আলোচনায় বক্তারা তথ্যপ্রযু্ক্তি (আইসিটি) বিষয়ক শিক্ষা বিস্তারে এসব কথা বলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মজিলা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মার্ক সারমান বলেন, প্রতিটি দেশে চাকুরীদাতা আইসিটি কোম্পানিগুলোর একটি সংগঠন থাকা উচিত। এ ধরনের সংগঠন আইসিটি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে এদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহজেই চাকুরি পেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সিটিও-ফোরাম-টেক-শহর

ভারতে ই-লার্নিং থ্রো মোবাইল নামে কৃষকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালায় ডাটামেশন ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট গ্রুপ। এ কার্যক্রমের আওতায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেতন শর্মা।

শর্মা বলেন, গ্রামের অশিক্ষিত কৃষকরাও প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে সুফল আদায় করে নিচ্ছে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্যও এ ধরনের কার্যক্রম জনপ্রিয় করার পরামর্শ দেন তিনি।

আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস-প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসটির বিভিন্ন জ্ঞান এবং ডিভাইসের নাম ও এর কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন আইসিটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমেও ছাত্রদের মধ্যে আইসিটির জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে কবির বলেন, প্রশিক্ষকদের জন্যও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, পপ আপ (কম্পিউটার ও স্মার্ট ফোনের বিভিন্ন মেন্যু সম্পর্কে ধারণা) মেন্যু নিজ ভাষায় প্রবর্তন করতে পারলে মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়াই প্রযুক্তিতে অভ্যস্থ করানো সম্ভব।

নতুন প্রযুক্তিতে মানুষ আর ভয় পায় না বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের হেড অব প্রজেক্ট ইংলিশ ইন অ্যাকশন রিচার্ড লেইস।

লেইম বলেন, এক সময় ধারণা করা হতো প্রযুক্তি জ্ঞানহীন মানুষেরা প্রযুক্তিতে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারবে না। কিন্তু সে ধারণা ভুল প্রমানিত হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি পেলে মানুষ নিজ প্রচেষ্ঠায় প্রয়োজেনে অন্যদের ও বিশেষজ্ঞের সাহায্যে নিজেকে অভ্যস্থ করছে। তবে ইংরেজি ভীতি কাটাতে পারামর্শ দেন বিবিসির এই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ ডিনইটি এর নির্বাহী পরিচালক ড. অনন্যা রহমানের সভাপতিত্বে এ অধিবেশনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব আইসিটি ইন ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আকবর এবং বাংলাদেশ এনজিওএস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী বজলুর রহমান।

-ফখরুদ্দিন মেহেদী

*

*

আরও পড়ুন