vivo Y16 Project

সহজে মিলবে না শর্টকোড, নতুন শর্তারোপের উদ্যোগ

shortcode

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নামকাওয়াস্তে বরাদ্দ ঠেকিয়ে কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতে শর্টকোড বরাদ্দের ক্ষেত্রে কঠিন হতে চাইছে বিটিআরসি।

নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি মনে করছে, শর্টকোড সীমিত রাষ্ট্রীয় সম্পদ । এর মূল উদ্দেশ্য জনগণকে সহজে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি তথ্যসেবা দেয়া। তাই এটি বরাদ্দের ক্ষেত্রে সেবা ও সেবার পরিসরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত, আরও শর্তারোপ প্রয়োজন।

বিটিআরসি জাতীয় নাম্বারিং প্ল্যান-২০১৭ এবং শর্টকোড বরাদ্দকরণ নীতিমালা-২০২০ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-কোম্পানিকে নাম্বার বরাদ্দ দেয়। মোবাইল নাম্বারের তুলনায় শর্টকোডের নম্বার বেশ কম হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা ও সহজ ব্যবহারযোগ্যতা বেশি।

Techshohor Youtube

দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ-দপ্তর, আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী , সরকারি বিভিন্ন সেবা দেয়া বাণিজ্যিক-অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, হাসপাতাল, ই-কমার্সসহ নানা খাতে গ্রাহকদের এই শর্টকোডের মাধ্যমে সেবা দেয়া হয়। এছাড়া শর্টকোড প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্যও ব্যবহার করা হয়।

দেশে উল্লেখযোগ্য শর্টকোড সেবার মধ্যে যেমন রয়েছে, সরকারি তথ্যসেবায় ৩৩৩, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ১০৯, দুর্নীতি দমন কমিশনে ১০৬, দুর্যোগের পূর্বাভাসে ১০৯০, শিশু সহায়তায় ১০৯৮, ভুমি সেবা ও অভিযোগে ১৬১২২, নদী পথে সেবা ও অভিযোগে ১৬১১৩, টেলিযোগাযোগ সেবা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগে ১০০ কিংবা ব্যাংকিং সেবা নিয়ে তথ্য বা অভিযোগ জানাতে ১৬২৩৬ নম্বর।

সব মিলিয়ে এমন ৫ শতাধিক শর্টকোড নম্বর এখন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি ব্যবহার করছে বা বরাদ্দ নিয়ে রেখেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিটিআরসি শর্টকোড বরাদ্দে প্রচুর আবেদন পাচ্ছে। শুধু সর্বশেষ অর্থবছরেই ৫০ প্রতিষ্ঠানকে শর্টকোড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ব্যাপক চাহিদার প্রেক্ষাপটে বিটিআরসি দেখছে দেশে শুধু বেসরকারি পর্যায়ে লাখের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর এদের সবাইকে শর্টকোড বরাদ্দ সম্ভব না, বিষয়টির যৌক্তিকতাও নেই। অন্যদিকে শর্টকোডও সীমিত। তাই বরাদ্দকরণের বিষয়টি আরও শর্তারোপ করে কঠিন করে দেয়া যেতে পারে।

নতুন যেসব শর্ত আরোপ হতে পারে : সেবা দেশের সামগ্রিক মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এবং গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর এমন প্রতিষ্ঠানের সারাদেশে সেবা দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও তাদের বিশেষ শ্রেণি, দ্বিগুণ বরাদ্দ ফি’র ই-ক্যাটাগরির নম্বর সিরিজ হতে বরাদ্দ দেয়া।

বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০০ শষ্যা থাকতে হবে এবং সারাদেশে সেবা ও সক্রিয় গ্রাহক থাকতে হবে।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রিয়েল স্টেট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কলসেন্টার বা গ্রাহক ব্যবস্থাপনায় ন্যাশনওয়ােইড কল হিট পর্যাপ্ত হতে হবে।

কাস্টমার কেয়ার সেবার জন্য প্রতিষ্ঠানের কলসেন্টার বা কল ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন গড়ে ৩০০ কল পাওয়ার প্রমাণ দিতে হবে।

শর্টকোড দিয়ে আইভিআরভিত্তিক কল সেন্টারের ক্ষেত্রে চার্জিং সিস্টেম ও সেবা দেয়ার পরিসর যাচাইবাছাই শেষে বরাদ্দের বিবেচনা।

একাধিক মালিকানার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একাধিক বরাদ্দ নিরুৎসাহিত করা ।

কোথায় কতো শর্টকোড : বিশেষায়িত হাসপাতাল, পুলিশ, নারী, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ হেল্প লাইনের জন্য এখন পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪৯টি নম্বর। এখানে এখন বরাদ্দ উপযোগী নাম্বর রয়েছে ১০১টি। ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত রাখা আছে ২০০ নম্বর।

সাধারণ ইনকোয়ারি (সংরক্ষিত) সেবায় বরাদ্দ দেয়া ১টি নম্বর। সংরক্ষিত আছে ৯৯টি।

পরিবহন সংক্রান্ত সেবায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩টি নম্বর। বরাদ্দ উপযোগী নম্বর রয়েছে ৯৭টি।

ট্যাক্সি ডায়ালে সংরক্ষিত আছে ১০০ টি নম্বর। ভ্রমণ, পর্যটক বিষয়ক তথ্যসেবা এবং এয়ারলাইন সেবায় বরাদ্দ আছে ৬টি নম্বর, বরাদ্দ উপযোগী ৯৪টি।

ভবিষ্যতের ভাস লাইসেন্সের জন্য সংরক্ষিত রাখা আছে ১০০০ নম্বর। কাস্টমার সার্ভিসের জন্য বরাদ্দ উপযোগী নম্বর আছে ১০০টি।

সরকারি দপ্তরের বিলিংয়ের জন্য বরাদ্দ উপযোগী আছে ১০০ নম্বর, সরকারি ই-এডুকেশন, এন্টারটেইনমেন্টে বরাদ্দ দেয়া আছে ৪২টি নম্বর। এখানে বরাদ্দ উপযোগী নাম্বার আছে ১৫৮টি।

বেসরকারি পর্যায়ে ই-এডুকেশন, এন্টারটেইনমেন্টে বরাদ্দ দেয়া আছে ৪০৫ টি নম্বর। বরাদ্দ উপযোগী আছে ৩৯৫টি।

এছাড়া ক্যাটাগরি ছাড়া এখনও ভবিষ্যত ব্যবহারের জন্য ৫০১০ টি নম্বর সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project