vivo Y16 Project

অর্জিত শিক্ষাকে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে হবে - পলক

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, অর্জিত শিক্ষাকে পৃথিবীতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

বৃহস্পতিবার অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে নবীন বরণ এবং রোবোটিক্স, মেকাট্রনিক্স এন্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্বোধন করতে গিয়ে এই কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

Techshohor Youtube

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লিয়াকত সিকদার, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুখ ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে স্মার্ট উদ্যোক্তা তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আমি বিশ্বাস করি আগামীতে তথ্য-প্রযুক্তি, ক্রিয়েটিভিটি, ক্রিটিক্যাল থিংকিং, প্রবলেম সলভিং, কমিউনিকেশন স্কিল এমনকি নতুন নতুন রোবট তৈরিতে সহায়তা করবে অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

পলক আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষাকে গণমুখী এবং অবৈতনিক করার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক ও সোনার বাংলা গড়ার হাতিয়ার এবং সোনার মানুষ গড়ে তোলার জন্য একটি শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করতে চেয়েছিলেন। তিনি সেই শিক্ষা নীতি প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছিলেন একজন বিজ্ঞানী ডঃ কুদরাত-এ-খুদা কে, যেন বাংলাদেশের প্রতিটি সোনার সন্তানেরা বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষ হয় এবং তারা যেনো সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পবিত্র সংবিধানে ৭২ এর চৌঠা নভেম্বর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা- এই পাঁচটি মৌলিক অধিকারকে সংরক্ষিত করে রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধু আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে তার দূরদর্শিতা দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন যে একটি রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি নাগরিককে যদি পাঁচটা মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা যায় তবে সেই রাষ্ট্র একটি আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। ৫০ বছর পর জাতিসংঘ এসডিজি লক্ষ্য যারা নির্বাচন করেছেন তারা বঙ্গবন্ধুর সেই কোর ফিলোসোফিকে অনুসরণ করেন এবং বর্তমানে বিশ্বের ২০০ রাষ্ট্র যে উদ্দেশ্য অর্জন নিয়ে কাজ করছে, বঙ্গবন্ধু ৫০ বছর আগেই পবিত্র সংবিধানে সেই দর্শন রেখে গেছেন।

প্রতিমন্ত্রী তথ্য ও প্রযুক্তি গত উন্নয়নের একটি চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উদ্যোক্তাদের জন্য আইসিটি বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী পলক তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ বর্তমান বিশ্বে সকল ক্ষেত্রে মানব সম্পদের চাহিদার বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন আমাদের গার্মেন্টস্ সেক্টরে আগামীতে প্রচুর পরিমাণে রোবট প্রয়োজন হবে। তথ্য-প্রযুক্তিতে ভবিষ্যতে প্রচুর সুযোগ তৈরি হবে।

পলক বলেন, অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়কে আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন ১০৭ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ীভাবে অনুমোদন পেয়েছে। যার মধ্যে অতীশ দীপঙ্কর হচ্ছে সে গর্বিত একটি প্রতিষ্ঠান।

এডাস্ট চেয়ারম্যান লিয়াকত সিকদার উন্নত বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন । তিনি প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে তার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান ।

ডুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে একটি সঠিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া দরকার। আশা করি এই বিশ্ববিদ্যালয় তোমাদের নৈতিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক জনশক্তি গঠনে উচ্চ শিক্ষা প্রদান করবে বলে ।

শুধু দক্ষ প্রকৌশলী বা গ্রাজুয়েট নয় পাশাপাশি মানবিক গুনাবলীতে গুণান্বিত হয়ে দেশ মাতৃকার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান এডাস্ট উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয়, নাটক ও কৌতুকসহ মনোজ্ঞ পরিবেশনা তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। উৎসবমূখর এই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটির বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, এডভাইজর, এইএমসি এডভাইজর, বিভাগীয় প্রধান, কো-অডির্নেটের, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উচ্ছাসে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো ক্যাম্পাস।

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project