কর্পোরেটে মিলছে জিপির ৭৮ হাজার সিম, সাধারণ গ্রাহকদের কবে ?

GrameenPhone Corporate Office_ Tech Shohor

আল-আমীন দেওয়ান : সরকারি-বেসরকারি দপ্তর-প্রতিষ্ঠানে ৭৮ হাজার সিম বিক্রির অনুমতি দেয়া হয়েছে গ্রামীণফোনকে।

যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীরও গ্রামীণফোনের সিম নেয়ার চাহিদা ছিলো।

রোববার বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে এসব সিম বিক্রির জন্য শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেয়।

Techshohor Youtube

এতে বলা হয়, চাহিদাকৃত সিম উল্লেখিত বাহিনী, দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে যে বক্ল বা নম্বর বরাদ্দ রয়েছে শুধুমাত্র সেখান হতেই দেয়া যাবে।

এসব নম্বর বরাদ্দে অতিরিক্ত কোনো চার্জ নেয়া যাবে না এবং বিক্রি সংক্রান্ত তথ্যের প্রতিবেদন প্রতি মাসে বিটিআরসিকে দিতে হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেকশহর ডটকমকে বলেন, আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যে চাহিদা গ্রামীণফোন দিয়েছিলো সেগুলোর অনুমতি দেয়া হয়েছে।

‘এতে ৭৮ হাজার সিম বিক্রি করতে পারবে গ্রামীণফোন’ উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

গ্রামীণফোনের সিনিয়র ডিরেক্টর হোসেন সাদাত টেকশহর ডটকমকে জানান, ‘রেগুলেটরের কাছ থেকে হাতেগোণা কিছু কর্পোরেট নম্বর বিক্রির নির্দেশনা পেয়েছি সেই সাথে অবাক হয়েছি। নেটওয়ার্ক সেবার মানউন্নয়ন করার পরও সাধারণ গ্রাহকের চাহিদাকে বিবেচনাই নেয়া হয়নি।’

‘আবারও বলতে চাই এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা গ্রাহক স্বাধীনতা, ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিপন্থী সেই সাথে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদেশী বিনিয়োগ নিরুসাহিত করবে। তবে এই সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব গ্রাহক এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের বৃহত্তর স্বার্থে এটি বিবেচনার আশা রাখছি’ বলেন তিনি।

সাধারণ গ্রাহকদের অপেক্ষা ফুরাবে কবে ?

সিম কবে কেনা যাবে, সাধারণ গ্রাহকদের এমন অসংখ্য জিজ্ঞাসা গ্রামীণফোনের কাস্টমার কেয়ার ও টেলিকম রিটেইলারগুলোতে।

গ্রামীণফোনের সিনিয়র ডিরেক্টর কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত টেকশহরডটকমকে বলছেন, সাধারণ গ্রাহকের বিপুল চাহিদা আসছে গ্রামীণফোনের কাছে। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে দেশের প্রায় ১৩ শতাংশ জায়গায় শুধুমাত্র গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক রয়েছে। সেখানে নাগরিকরা ডিজিটাল সংযোগে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছেন। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবার মতো জরুরি সেবাগুলো মিলছে না সিম কিনতে না পারার কারণে।

‘গ্রামীণফোনের সিমের সংযোগ না মেলার কারণে টেলিযোগাযোগ খাতের সংযোগ কমছে। এই কয়েক মাসে ৩৫ লাখ গ্রাহক নেই। এমন নয় যে, এসব গ্রাহকের কেউ অন্য অপারেটরে গিয়েছে। কারণ তাহলে তো মোট সংযোগ কমে যেতো না। তারমানে গ্রামীণফোনের এই সিম বিক্রি বন্ধের ফলে যে ডিজিটাল সংযোগে প্রভাব পড়ছে সেটা কেউ কাভার করতে পারছে না’ বলছিলেন তিনি।

সাধারণ গ্রাহকরা কবে গ্রামীণফোনের সিম পেতে পারে এমন প্রশ্নে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, জনগণের স্বার্থে, মানসম্মত সেবা নিশ্চিতে গ্রামীণফোনের সিম বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। তাদের নেটওয়ার্ক নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে।

‘তারা সেবার মান উন্নত করলে, ভালো করলে আবার সিম বিক্রি করতে পারবে’ উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

সেবার মানের প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের সিনিয়র ডিরেক্টর কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত জানান, গ্রামীণফোন কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিশ্চিতে সারাদেশে ব্যাপক কাজ করেছে। বিটিআরসি তাদের ড্রাইভ টেস্টে যেসব জায়গায় উন্নতির কথা বলেছিলো সেখানে সেখানে শতভাগ উন্নতি করা হয়েছে।

‘গ্রামীণফোন কনফিডেন্ট, বিটিআরসি যৌথ ড্রাইভটেস্ট করে এখন সেবার মান যাচাই করতে পারে’ বলছিলেন তিনি।

*

*

আরও পড়ুন