vivo Y16 Project

যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল চ্যাম্পিয়ন

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ৪৫তম আইসিপিসির আসরের চূড়ান্ত পর্বে এবার চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। ৫ ঘন্টায় ১২টি প্রোগ্রামিং সমস্যার মধ্যে ১১টি সমাধান করে তারা ।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় বসুন্ধরার আইসিসিবি-তে অনুষ্ঠিত হয় “ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইসিপিসি)” এর ৪৫ তম আসরের “আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালস ঢাকা”।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা “আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালস এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, উপস্থিত ছিলেন আইসিপিসি ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং আইসিপিসি নির্বাহী পরিচালক ড. উইলিয়াম বি. পাউচার। ।

Techshohor Youtube

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মাদ আলাউদ্দিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আইসিপিসির উপনির্বাহী পরিচালক ও আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালস্ কনটেস্ট এর পরিচালক ড. মাইকেল জে. ডোনাহু। অনুষ্ঠান শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য ও আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালস্ ঢাকার পরিচালক অধ্যাপক কামরুল আহসান। এসময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ এবং বিসিসি নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমারসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজয়ীদের নাম ঘোষণার পূর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম. এ. মান্নান বলেন, আমাদের পরিশ্রমী মানুষ আছে। সারা বিশ্বে এখন আমাদের প্রায় ১২ মিলিয়ন লোক কর্মক্ষেত্রে শারীরিকভাবে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে এবং যেখানে কাজ করে সেই জাতির জন্য সম্পদ তৈরি করে। এর ফলে এটি আমাদের জন্য বিশ্বের সাথে একটি সংযোগ সেতু খুলে দিয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রী যদি কেউ দেশের বাইরে যায় তবে সেখান থেকে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করে আবার দেশে ফিরে এসে নিজ দেশের উন্নয়নে কাজে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেন।

মন্ত্রী আরো বলেন , ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের আইসিটি বিভাগের সাথে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিতে কাজ করা যা আগামী দিনের জন্য আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের হাতিয়ার হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দ্রুত সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি লাভ করেছি। মহামারী না হওয়া পর্যন্ত এক দশক ধরে বাংলাদেশের জিডিপি ৬% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গত ১৩ বছরে মাথাপিছু আয় ৫০০ মার্কিন ডলার থেকে ২৮০০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। পলক ডিজিটাল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্জনগুলো উক্ত অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অনলাইন সরকার, বাণিজ্য ও ব্যাংকিং পরিষেবা নিশ্চিত করতে এবং গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ সক্ষম করতে “ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটালাইজেশনে যথেষ্ট অগ্রগতি লাভ করেছে। স্টার্টআপ ও নতুন উদ্ভাবনী ধারণার জন্য বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ দেশ হয়ে উঠছে ফলে স্টার্টআপ শিল্পে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ মিলিয়ন চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে পাশাপাশি আইসিটি সেক্টর থেকে ৫ বিলয়ন ডলার রপ্তানি করার চেষ্টা চলমান। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সঙ্গে অংশীদারিত্বে শীঘ্রই ঢাকায় আমাদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লব কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। পলক বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা ভোগ করছে। ১৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা প্রতি বছর ২০ হাজারেরও বেশি আইটি এবং আইটিইএস গ্র্যাজুয়েট পাচ্ছি। আমাদের জনশক্তি বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের জন্য একটি অর্থনৈতিক শক্তি।

ড. মোহাম্মাদ আলাউদ্দিন তার বক্তৃতায় বলেন, আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল হল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শ্রেষ্ঠত্বের উদযাপন। এই বিশ্ব ফাইনাল প্রতিযোগিতা বিশ্ব জাতিকে উন্নীত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী করতে পারে তার একটি জীবন্ত উদাহরণ এবং উজ্জ্বল প্রকাশ হিসবে কাজ করবে। সবশেষে তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশলে মানব শক্তি তৈরিতে অসামান্য ভুমিকা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান।

আইসিপিসি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. উইলিয়াম বি. পাউচার বলেন আইসিপিসি একটি জনপ্রিয় আয়োজনে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর সারাবিশ্ব থেকে অংশগ্রহণকারি অংশনেয় যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ঢাকায় চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার সফল ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রতিযোগিতার সময় কম্পিউটার প্রোগ্রামিং সমস্যার সমাধান করলেই দলগুলোর পাশে বেলুনের সংখ্যা বাড়ছিল । প্রতিটি দলে ছিল একটি কম্পিউটার এবং তিনজন করে প্রোগ্রামার ।

আইসিপিসির নিয়ম অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে সেরা চারটি দল স্বর্ণ পদক পায়। এরপর পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থানকারী রুপা এবং নবম থেকে দ্বাদশ স্থান অর্জনকারী দল ব্রোঞ্জ পদক অ্যাওয়ার্ড পায়।

১০টি সমস্যা সমাধান করে এশিয়া ইস্ট এর চায়না থেকে পিকিং ইউনিভার্সিটি দ্বিতীয় স্থান এবং ৯টি সমস্যা সমাধান করে এশিয়া প্যাসিফিক থেকে দি ইউনিভার্সিটি অব টকিও তৃতীয় স্থান দখল করে স্বণ জয়ী হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ৯টি সমস্যা সমাধান করে সেরা ৩ দলের পর স্বর্ণ জয়ী হয়েছে। দলটি ১১ মিনিটে সমস্যার সমাধান করে।

সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ, ফ্রান্সের ইকোল নরমাল সুপিরিয়র ডি প্যারিস, যুক্তরাষ্ট্রের কার্নিগিও মিলন ইউনিভার্সিটি ও পোল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারশ অর্থাৎ মোট ৪টি দল রৌপ্যপদক বিজয়ী হয়েছে।

ব্রোঞ্জ পেয়েছে রাশিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি হায়ার স্কুল অব ইকোনমিকস, সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিয়েতনামের ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ভিএনইউ)।

স্বাগতিক বাংলাদেশের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে চারটি করে সমস্যার সমাধান করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ৫১তম এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৬তম স্থান অর্জন করে।

এছাড়া, বাকি ছয়টি দল বিশেষ সম্মাননা (অনারেবল মেনশন) পায়। এই দলগুলো হলো: ৮২তম স্থান পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ৯৮তম স্থান পেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ১০৭তম স্থান পেয়ে নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি, ১১৩তম স্থান পেয়ে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ১১৯তম স্থান পেয়ে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) এবং ১২২তম স্থান পেয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project