vivo Y16 Project

ফাইভজি ব্যবহারকারী তৈরিতে মন্ত্রীর গুরুত্ব, জরিপ চায় বিটিআরসি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশের কোথায় কোথায় ফাইভজি ব্যবহার হতে পারে, সে খাতগুলোকে প্রস্তুত করতে গুরুত্ব দিচ্ছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলছেন, ২০১৮ সালে ফাইভজি প্রযুক্তির পরীক্ষা শেষে ২০২১ সালে বাংলাদেশ ফাইভজি যুগে প্রবেশ করেছে । এখন গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফাইভজি ব্যবহারকারী তৈরি করা।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ ফাইভজি প্রযুক্তি : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শিরোণামে এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

Techshohor Youtube

রবির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে অপারেটরটির সঙ্গে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এর যৌথ এই আয়োজন। এতে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।

আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সন্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’র সহযোগী অধ্যাপক ড. খালেদ মাহমুদ।

মন্ত্রী বলেন, ‘ফাইভজি জন্য পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, গত মার্চে যে তরঙ্গ নিলাম হয়েছে সেখানে শুধু দাম কমানো হয়নি, তা ফোরজি ও ফাইভজিতে ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ফাইভজি নিয়ে ব্যবসায়ীদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। ফাইভজি প্রয়োগে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে। সামনের বছর ফাইভজি স্পেকট্রম নিলামের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ফাইভজি হোম নেটওয়ার্ক তৈরি, শিল্প বাণিজ্যে ফাইভজি প্রয়োগ এবং কৃষি ও মাছ চাষে এর প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এ জন্য সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথ বেয়ে ফাইভজির যুগে প্রবেশসহ ডিজিটাল সংযুক্তির মহাসড়ক গড়ে তোলা হয়েছে। এই মহাসড়ক দিয়েই পঞ্চম শিল্প বিপ্লব হবে।

গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে মোবাইল অপারেটরদের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রাহক গুণগত সেবার মান পাওয়ার অধিকার রাখে। গ্রাহককে উন্নত সেবা না দিলে গ্রাহক পাওয়া ও ধরে রাখা কঠিন হবে। ফোরজি প্রযুক্তি গ্রাহক কত শতাংশ ব্যবহার করছে তা দেখতে হবে। সাধারণ মানুষের জন্য ফোরজি সেবা প্রকৃত সেবা। নতুন বছরের জানুয়ারি হতে থ্রিজি হ্যান্ডসেট আমদানি ও দেশে তৈরি করা যাবে না।

শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ফাইভজি চালুর বিষয়ে সবাই মানসিকভাবে প্রস্তুত। এখন প্রয়োজন একটি সমন্বিত বাজার সমীক্ষা করা যাতে বোঝা যায়, কীভাবে ফাইভজি সেবা বাণিজ্যিকভাবে চালু করা যায়।

এমটব এখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ বলেন, ‘ফাইভজি স্পেকট্রাম রোলআউট করতে হবে, আমাদের ৭০০ ও ৩ দশমিক ৫ স্পেকট্রাম রেডি আছে। নীতিমালা আছে, প্রয়োজনে সবার কল্যাণে নীতিমালা পরিবর্তন করা হবে। স্পেকট্রাম শেয়ার করার প্রয়োজন হলেও তার উদ্যোগ নেয়া হবে।

‘মানুষ কেন ফাইভজি নেবে কতটুকু লাভবান হবে, এসব বিষয়ে সার্ভে করার প্রয়োজন রয়েছে। নেটওয়ার্কগুলো কোথায় কোথায় প্রয়োজন আছে, গ্রাহকরা ফাইভজি সেবায় কতটা উপকৃত হবেন তা স্টাডি করে বুঝতে হবে।’ উল্লেখ করেন তিনি।

রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘ফাইভজি নিয়ে রবি তৈরি। নিয়ন্ত্রণ কমিশনের দিক নির্দেশনায় রবি কাজ করছে। খাদ্য-বস্ত্রের পাশাপাশি এখন সবাই চায় কানেকটিভিটি। দ্রুত ফাইভজি কানেকটিভিটি দেওয়ার জন্য রবি কাজ করে যাচ্ছে।

বৈদেশিক মুদ্র্রায় বিপুল পরিমান সফটওয়্যার এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদানি কমিয়ে স্বনির্ভর হতে নিজস্ব মেধা কাজে লাগানোর আহবান জানান তিনি।

গ্রামীণফোনের সিনিয়র ডিরেক্টর (কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স) হোসেন সাদাত বলেন, ফাইভজির শুরুতে ইকোসিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে, টাওয়ারগুলোতে অনেক বিদ্যুৎ লাগবে। গ্রামীণফোন বিটিআরসির নির্দেশনায় কাজ করছে। ৭০টি দেশ ফাইভজি চালুতে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশেও পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি সেবা শুরু করতে হবে।

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডে বা বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. রফিকুল মতিন বলেন, ‘বিটিসিএল অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সংযুক্ত করেছে। চেষ্টা করা হচ্ছে ফাইভজি যখন আসবে ওই সংযোগ যেনো কাজে লাগানো যায়। সব অপারেটরেদর সাথে একসাথে কাজ করা হচ্ছে এবং অবকাঠামো শেয়ারিং করা হলে বিটিসিএল এগিয়ে যাবে।’

বাংলালিংকর রেগুলেটরি অপারেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর মুখলেসুর রহমান বলেন, ফাইভজি নিয়ে সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে।

টেলিটকের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (ফাইভজি ) রেজাউল করিম রিজভী বলেন, ইতোমধ্যে ফাইভজি নিয়ে কাজ শুরু করেছে টেলিটক। যার ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে সফলভাবে ফাইভজি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়েছৈ।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘ফাইভজি প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিতে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক সহজলভ্য এবং অ্যাকটিভ শেয়ারিং থাকতে হবে।

গোলটেবিল আলোচনায় অ্যামটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ফরহাদ হোসেনসহ সামিট কমিউনিকেশনস, হুয়াওয়ে, ফাইবার এট হোম, ইডটকো, এরিকসন, জেডটিই, স্যামসাংসহ খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project