Header Top

সিটিও সম্মেলন : ইন্টারনেট বৈষম্যের শিকার দরিদ্ররা

সিটিও-ফোরাম-টেক-শহর
Evaly in News page (Banner-2)

ফখরুদ্দিন মেহেদী, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অতিরিক্ত করারোপ, দুর্বল অবকাঠামো, বেসরকারি বিনিয়োগের অভাব এবং সরকারের সদিচ্ছার অভাবে বিশ্বব্যাপী প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগের বিস্তার বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এতে বিশ্বব্যাপী প্রায় পাঁচ’শ কোটি মানুষ ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সোমবার রাজধানীর রেডিসন হোটেলে ‘ইউনিভার্সাল সার্ভিস ফান্ড ব্যবহার করে ব্রডব্র্যান্ড সংযোগ নিশ্চিতকরণের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় আইআরইএক্স ইউএসএর ভাইস প্রেসিডেন্ট রবার্ট ক্রনিন জানান, মাত্র ৫৫ শতাংশ ফান্ড বিশ্বব্যাপী ব্রডব্র্যান্ড সংযোগ স্থাপনে ব্যবহৃত হয়। আর এর ১৯ শতাংশ সীমিতি খাতে এবং বাকি ২৬ শতাংশ অকার্যকর হিসেবে পড়ে থাকে।

সিটিও-ফোরাম-টেক-শহর

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আয়োজিত সিটিও ফোরামের বার্ষিক এ সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিটিআরসি আয়োজিত এ সম্মেলনে কমনওয়েলথভুক্ত ৫১টি দেশের মধ্যে ২১টি এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

বিকালের অধিবেশনে ক্রনিন বলেন, একমুখী ফান্ড ব্যবস্থার কারণে একটি বৃহৎ অংশের জণগণকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনা যাচ্ছে না। তাই সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতগুলোকেও ব্রডব্র্যান্ড সেবায় এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

কেন ব্রডব্র্যান্ড সেবা মোবাইলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে বক্তারা উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারগুলোর সদিচ্ছার অভাব এবং অতিরিক্ত করারোপকে দায়ি করেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেট তথা ব্রডব্র্যান্ড সেবা সহজলভ্য না হওয়ায় সেখান একটা বিশাল জণগোষ্ঠী পিছিয়ে পড়ছে। এদের সদিচ্ছা থাকা সত্বেও সুযোগ সুবিধার কারণে বঞ্চণার শিকার হচ্ছে। তাই সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

অপর এক অধিবেশনে শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পাবলিক পলিসি ব্যবস্থাপক দীপালি লিবারহান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সবার কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে মোবাইল সেটের দাম ও ইন্টারনেট ব্যয় একটি বড় বাধা। এ ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী সুযোগ তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

অতিরিক্ত দামের কারণে টেলিকম অপারেটরগুলোর দেওয়া ইন্টারনেট সেবা নিতেও সমর্থ হচ্ছে না জানিয়ে ঘানা ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ফর ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কফি আটোর জানান, ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম বেশি হওয়ায় দারিদ্র জণগোষ্টির তা পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। অপারেটরগুলোকে ১০০ টাকায় বেসিক ইন্টারনেট সেবা দানের অনুরোধ জানান তিনি।

বাজারে অস্থিতিশীল প্রতিযোগীতাও ব্রডব্র্যান্ড সেবা ছড়িয়ে দেবার অন্তরায় বলে জানান ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিও) প্রোগ্রাম অফিসার উইসিট এটিপায়াকন।

এ কর্মকর্তা বলেন, সরকারগুলো কর বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তি বাজারে অস্থিতিশীল প্রতিযোগীতাও ব্রডব্র্যান্ড সংযোগের বিস্তারে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। কেননা বিনিয়োগকারীরা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ না করে একসেসরিজ পণ্যেও দিকে ঝুঁকছেন। এ প্রতিযোগীতা সৃষ্টির জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দিকেই ইঙ্গিত করেন তিনি।

আলোচনায় বক্তার সরকারগুলোকে নীতিগত পরিবর্তন আনার পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থাগুলোর সাথে অংশিদারিত্বেও মাধ্যমে স্থানীয় ব্রডব্র্যান্ড অবকাঠামো উন্নয়নের পরামর্শ দেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেলেটরি কমিশনের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অপারেশন বিভাগের পরিচালক কর্ণেল ইকবাল আহমেদ,বিশ্বব্যাংকের পলিসি স্পেশালিস্ট তানজিন ডোলমা নরভু এবং অ্যালাইন্স ফর এফোরডেবল ইন্টারনেটের পলিসি ও অ্যাডভোকেসি ব্যবস্থাপক কুজো বুয়াকে বক্তব্য রাখেন।

*

*

আরও পড়ুন