vivo Y16 Project

সাধ্যের মধ্যে পোষাকের যোগান দিচ্ছেন মুনিয়াত-র মিশু

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মেয়েটি কথা বলছিল নাকি কাঁদছিল ? ভিডিও দেখতে গিয়ে বার বার থমকে যেতে হবে পাঠককে। নিজের গল্প বলতে এসে মিশু বার বার নিজেকে থামাচ্ছিলেন , কান্নায় তাঁর কন্ঠ জড়িয়ে যাচ্ছিলো ।

কি হতে চেয়েছেন মিশু ?

আমি আসলে ওইভাবে বুঝি নি কি হবো, পরিবার থেকে সবাই কখনো বলছে তুমি পাইলট হবা , কখনো ডাক্তার হবা , আমি আসলে বুঝি নাই আমি কি হব । ডাক্তার হতে পারি নি কিন্তু কেন বিজ্ঞান পড়লাম এগুলো নিয়ে শুনা অনেক কথা আমাকে কষ্ট দেয় । নানার বাড়িতে বড় হওয়া মিশুর আম্মা একজন শিক্ষিকা । একক মায়ের তত্তাবধানে থাকা মিশু উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াকালীন সময়ে ভাবতে শুরু করলেন কি করে পরিবারের হাল ধরা যায় । তাঁর উদ্যোক্তা হওয়া প্রয়োজনে , শখে নয় আর এভাবেই নিজের জীবনের কথা গড়গড় করে বলছিলেন মুনিয়াত এর মিশু ।

Techshohor Youtube

মা , নানু , আন্টিদের দেখেছেন ছাত্র ছাত্রী পড়াচ্ছেন , স্কুল নিজেদের ই ছিল তাই পড়ানোটা ছিল একেবারে সহজাত। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার আগেই মিশু একটি স্কুলে যুক্ত হন, শুরু করেন টিউশনি । বাসায় মোড়া কিনে শুরু করলেন তারপর ছাত্রের সংখ্যা বাড়তে থাকলে টুল বানালেন । নানুর বাড়ি ছেড়ে আলাদা বাসা নিলেন ভাই বোন আর মাকে নিয়ে । কিন্তু এসে গেল করোনা । অতঃপর সব বন্ধ , স্কুল , কোচিং সব বন্ধ । মিশুর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে , জমানো টাকা সব খরচ হয়ে যাচ্ছে । লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রান নিতে পারছেন না আবার কাজ ও করতে পারছেন না। সীমাহিন এক চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলেন ।

উই গ্রুপে একজনের রিভিউ পড়ে মিশু ভাল করে খেয়াল করতে শুরু করলেন, কি করা যায় দেখতে শুরু করলেন। কি করা যায় ভাবতে ভাবতে মিশু আঁকার প্ল্যান নিলেন, কাঠের গহনায় আঁকবেন কিন্তু কোথা থেকে কি কিনবেন , কি কাপড় কিনলে ভাল হবে, কি ধরনের রঙ কিনবেন এগুলোর জন্য মিশু চিন্তায় পড়লেন। প্রশিক্ষণ নেই তাই আরও চ্যালেঞ্জ এসে গেল , ইচ্ছে থাকলে ও হাতে টাকা নাই । এমন অবস্থায় বন্ধু এগিয়ে আসে , ৭ হাজার টাকা নিয়ে প্রথম বার ঢাকায় আসেন দুই বোন । কোভিডে ৪ সিট ভাড়া নিয়ে আসেন দুই বোন, সারাদিন না খাওয়া যদি টাকায় টান পড়ে ।

আঁকতে পারেন মিশু , কাজ করতে করতে শিখে যান তিনি । তাঁত পণ্য , ব্যাগ , পাটের উপর , জামদানী , শাড়ির উপর পেইন্ট ইত্যাদি তাঁর মুল ফোকাস । ব্যক্তি মিশু নানা রকম ভলান্টিয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন , সেই পরিচিতি ই তাঁর জন্য বিশাল আশীর্বাদ হয়ে এসেছে । পরিচিতরা আস্থা রেখেছে , ব্যক্তি মিশু ব্যবসা করছে । ৪ লক্ষ টাকার সেল করেছেন ।

ভবিষ্যতে কি করবেন এমন প্রশ্নে মিশু আবেগে ভেঙ্গে পড়েন । মা বিশ্বাস করেছেন মিশু পারবে , তাই মিশু এগিয়ে যেতে পেরেছেন বলে মনে করেন। মা চাকরি করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারেন নি তাই মিশু মায়ের জন্য চাকরি করবেন। মাকে দেখাতে চান ।

উদ্যোগ চলবে তার নিজস্ব গতিতে। উদ্যোগে তেমন মেয়েদের কাজ দিতে চান যারা মিশুর মতো কষ্টে আছে, বলতে না পারার কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান মিশু।

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project