বিভাগীয় শহরগুলোতে ফাইভজি ট্রায়ালে গ্রামীণফোন

জিপির ফাইভজি ট্রায়ালে অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার ।

টেক শহর কনেটন্ট কাউন্সিলর : দেশের আট বিভাগীয় শহরে ফাইভজি ট্রায়াল শুরু করেছে গ্রামীণফোন।

রাজধানীর বসুন্ধরায় জিপি হাউজে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। যেখানে গ্রামীণফোনের ইনোভেশন ল্যাবে ফাইভজি সেবা ব্যবহার, এআর ভিডিও, ভিআর গেমিং, রোবটিক আর্মস, এআর সেলফি ও ক্লাউড গেমিংসহ প্রযুক্তিগত নানা অভিজ্ঞতা নেন অতিথিরা ।  

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার। অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান ৫জি বিষয়ে কিনোট দেন।

Techshohor Youtube

শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, দেশজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতেই প্রমাণিত হয় আমাদের দেশ ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফাইভজি অভিজ্ঞতা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ, যার ফলে মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে পারবে।

ফাইভজি অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: নাসিম পারভেজ

মূল বক্তব্যে ইয়াসির আজমান বলেন, প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের ক্ষমতায়ন ও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে গ্রামীণফোন। আসন্ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চলমান ডিজিটালাইজেশন ত্বরাণ্বিত করার মাধ্যমে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এর লক্ষ্য অর্জনের দায়িত্ব সবার। টুজি, থ্রিজি ও ফোরজি থেকে এখন ফাইভজি কানেক্টিভিটি যুগেও উচ্চগতির কানেক্টিভিটি এবং উন্নত ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্যুশন নিয়ে দেশের রূপান্তরে গ্রামীণফোন কানেক্টিভিটি পার্টনার হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, টেলিনরের অংশ হিসেবে গ্রামীণফোনের এ প্রযুক্তি ব্যবহারের কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে, বৈশ্বিক পরিসরে এক্ষেত্রে টেলিনরের বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে, যা স্থানীয় বাজারের উপযোগী করে প্রয়োগ করা যায়। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে এ খাতবান্ধব পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক  তৈরি করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য তিনি আহবান জানান।

কিনোট দিচ্ছেন গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান ।

স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে চলতি বছরের ২৬ জুলাই ঢাকা ও চট্টগ্রামে সফলভাবে ফাইভজি ট্রায়াল করে গ্রামীণফোন।  এর ধারাবাহিকতায়, প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাজের ক্ষমতায়ন এবং স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিজেদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে গ্রাহকদের জন্য এই ফাইভজি ট্রায়াল শুরু করেছে। 

অপারেটরটি বলছে, ২৯ সেম্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফাইভজি কানেক্টিভিটির অভিজ্ঞতা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে গ্রামীণফোন। এলাকাগুলো হচ্ছে, গুলশান জিপিসি, বিটিআরসি সার্ভিস আইবি (ঢাকা), বুয়েট বিল্ডিং, মিরাবাজার (সিলেট), কলাতলী (কক্সবাজার), খুলনা, গ্রামীণফোন আঞ্চলিক অফিস, ময়মনসিংহ, রাজশাহী আলুপট্টি মোড়, রংপুর নিউ মার্কেট (সিটি করপোরেশন, পায়রা চত্বর), চট্টগ্রাম পাহাড়তলী ও গ্রামীণফোন আঞ্চলিক অফিস, কুমিল্লা ।

ফাইভজি নেটওয়ার্কে রোবোটিক আর্মের সঙ্গে সংযোগ করছেন গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন্স কর্মকর্তা খায়রুল বাশার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিতি ছিলেন বিটিআরসির কমিশনার মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ দিলজার হোসেন, সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: নাসিম পারভেজ, স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান জুয়েল এবং লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুুন্ডু ।

আরও ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার সাজ্জাদ হাসিব, চিফ ডিজিটাল অফিসার সোলায়মান আলম, চিফ টিকনোলজি অফিসার জয় প্রকাশ, চিফ কর্পোরেট এ্যাফেয়ার্স অফিসার হ্যান্স মার্টিন হেনরিক্সনসহ গ্রামীণফোন, উইপ্রো, হুয়াওয়েই, জেডটিই পার্টনারদের ঊর্ধ্বতন অন্যান্য কর্মকর্তারা।  

*

*

আরও পড়ুন