‘ক্যাশলেস সোসাইটি করতে ক্যাশ অন ডেলিভারীকে নিরুৎসাহিত করা উচিত’

ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ধীরে ধীরে ক্যাশলেস সোসাইটি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা বাড়ছে ফিনটেকের। নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান কেনাকাটার নানা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ফিনটেকের নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছেন সফট টেক ইনোভেশন লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম ইশতিয়াক সারোয়ার। নিজের উদ্যোগ, ফিনটেকের বাজার এবং ক্যাশলেস কার্যক্রমের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন টেকশহর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘টেক ভেঞ্চারস টক’-এ।

টেকশহর: ফিনটেকের মধ্যে কেন যুক্ত হলেন? আমার পে কখন শুরু হলো?

এ এম ইশতিয়াক সারোয়ার: ২০০৫ সালে আমাদের সফট টেক ইনোভেশন লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয় দেশের বাইরের ফ্রিল্যান্সিং কাজের মাধ্যমে। আমরা সে সময়ে নানা ধরনের কাজ করতাম এবং আয়ও বেশ ভালোই ছিল। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এ ধরনের কাজ করেছি। সে সময়ে আমি যখন দেখি ওয়েব প্রযুক্তি নিয়ে নানা ধরনের কাজ শুরু হয়ে গেছে তখন আমি ভিন্ন চিন্তা করা শুরু করি। ২০০৮ সালের দিকে মুঠোফান টেকনোলজি নিয়ে কাজ শুরু করলাম। এরপর ২০১০ সালে অনলাইন ‘রেডি বিজয়’ শুরু করি যদিও ২০১২ সালে এটি বন্ধ করে দেই। সে সময়ে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বাজার বাড়তে শুরু করে। সে সময়ে আমি ভাবছিলাম আমার যেহেতু প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা আছে আমি চাইলে একটি ই-কমার্স সাইট শুরু করতে পারি এবং একটি পেমেন্ট গেটওয়েও শুরু করতে পারি। যদিও পরবর্তীতে মনে হলো, আমি  ই-কমার্স নিয়ে কাজ শুরু করতে পারলেও হয়তো ব্যবসা করতে পারবো না। তাই আমি সে সময়ে এসএমই এবং মাইক্রো এসএমই টার্গেট করে পেমেন্ট গেটওয়ে নিয়ে কাজ শুরু করি। শুরুর দিকে আমাদের ফিনটেকের নাম ‘আমার পে’ ছিল না। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের শেষের দিকে ‘আমার পে’ নামে শুরু হয়। ২০১৪ সালে এ উদ্যোগের প্রথম রিলিজ হয়।

Techshohor Youtube

টেকশহর: শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বাজার কেমন দেখছেন?

এ এম ইশতিয়াক সারোয়ার: প্রথম এক, দুই বছর আসলে আমাদের একেবারে শুরুর সময় ছিল। পরবর্তীতে যখন এর কারিগরি কিছু সমস্যার সমাধান করে ২০১৬ সালে যখন ভার্সন টু উন্মুক্ত করলাম তখন থেকেই আমার পে দারুণ ভাগে এগিয়ে যেতে শুরু করে। তখন থেকে আমরা আমাদের পূর্ণ মনযোগ ফিনটেকে দিতে থাকলাম এবং দক্ষ একটি কর্মী বাহিনী তৈরি করলাম। বর্তমানে আমার পে প্রায় ১৩০০’র বেশি মার্চেন্টদের সঙ্গে কাজ করে এবং পেমেন্ট সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে।  এবং এর গ্রোথও বেশ ভালো হচ্ছে।

টেকশহর: মুঠোফান বিষয়ে কিছু বলুন।

এ এম ইশতিয়াক সারোয়ার: মুঠোফান ছিল এসএমএস গেটওয়ে ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। সে সময়ে আমরা নানা ধরনের ওয়ালপেপার, রিংটোন বানাতাম। পরবর্তীতে আমরা শর্টকোর্ড ভিত্তিক সার্ভিস শুরু করলাম। সে সময়ে আমি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এসএমএস’র মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত হই। পরবর্তীতে আরো ৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হই এবং এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির ফলাফল দেয়ার সার্ভিস দেয়া শুরু করি। এর ফলে সেটি রেভিনিউ জেনারেট শুরু করে। বর্তমানে আমরা বিটিআরসি থেকে লাইসেন্স নিয়ে নিজস্ব সার্ভার, ডেটাসেন্টার নিয়ে আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

টেকশহর: লোন নেয়ার প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন আপনারা। সেটির বিস্তারিত বলুন।

এ এম ইশতিয়াক সারোয়ার: ২০২১ সালে আমরা লোন নেয়ার পদ্ধতিটি সহজ এবং ডিজিটাল করার একটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেই। মূলত লোন নেয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করার চেষ্টায় আমরা কাজ করছি। আমাদের লোন নেয়ার বাজার ৮ হাজার কোটি টাকার। আবার ব্যাংকগুলোতে প্রচুর লিকুইড মানি থাকলেও ব্যাংকগুলো ছোট অংকের লোন নিয়ে তেমন কাজ করতে পারে না। তাতে দেখা যায় ছোট ছোট লোন যারা নিতে চায় তারা কিন্তু চাইলেও ব্যাংক থেকে সহজে লোন পায় না। এক্ষেত্রে যারা এ ধরনের লোন নিতে চান তারা আমাদের সার্ভিসটি ব্যবহার করেই কিন্তু সহজে প্রযুক্তি এবং  আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে তৈরি করা পদ্ধতিটির মাধ্যমে লোন পেতে পারেন। এ কাজে আমরা ব্যাংকগুলোকেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।  

টেকশহর: ফিনটেকের বাজার বাড়ছে। বর্তমানে বাজারের অবস্থা কেমন মনে হয়?

এ এম ইশতিয়াক সারোয়ার: আমাদের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান কিন্তু ধীরে ধীরে ফিনটেকের নানা বিষয়ে লাইসেন্স দিচ্ছে এবং নানা কার্যক্রম শুরু করছে। ফিনটেকের বাজার কিন্তু অনেক বড়। যেমন-ইকমার্সের সঙ্গে সবচেয়ে জরুরী ভাবেই জড়িত ফিনটেক। ক্যাশলেস সোসাইটির জন্য ক্যাশ অন ডেলিভারীকে ধীরে ধীরে নিরুৎসাহিত করা উচিত। বাজার অনেক বড় সেখানে এখন পদ্ধতিগুলোর ব্যবহার বাড়ছে।   

[সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টেকশহর ডট কমের স্পেশাল করসপনডেন্ট নুরুন্নবী চৌধুরী]

*

*