হুয়াওয়েকে ‘ভবিষ্যত নিয়ে অতি আশাবাদ’ কমিয়ে আনতে বলেছেন প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: বেশ কিছু কারণে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির আয় কমেছে ১৪ শতাংশ এবং এসময় নেট প্রফিট মার্জিন কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই কর্মীদের উদ্দেশ্যে লেখা এক মেমোতে বলেছেন, আগামী তিন বছর কোম্পানিটি যদি টিকে থাকতে চায় তাহলে মুনাফা করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

কোভিড মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চীনের কিছু ব্যবসায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘অব্যাহত অবরোধ’ বিদ্যমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ২০২৩ অথবা ২০২৫ সালের আগে হুওয়াওয়েকে ভবিষ্যত নিয়ে অতি আশাবাদ কমিয়ে আনতে হবে। এসময় টিকে থাকাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে মানতে হবে।

রেন বলেন, হুয়াওয়েকে বাজার কাঠামো সমন্বয় করতে হবে এবং কোন জিনিস ধরে রাখতে হবে ও কোনগুলো ত্যাগ করতে হবে সে বিষয়ে গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন।

Techshohor Youtube

চীনের সোশ্যাল মিডিয়াগুলোয় রেনের এই মেমোটি রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। মেমোটি নিয়ে ১০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী আলোচনা ও শেয়ার করেছেন। হুয়াওয়ের মতো বড় কোম্পানি যদি এ ধরনের সতর্কবার্তা দেয় তাহলে ছোটখাট ব্যবসায়িদের পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অনেকেই এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ি করেছেন। তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্মত্ত দমনের কারনে হুয়াওয়ের বেড়ে উঠা শেষ হয়ে গিয়েছে। ত্রিভিয়াম চায়নার বিশ্লেষক লিনঘাও বাও বলেছেন বৈশ্বিক অর্থনীতি ভীষণ মন্দাবস্থায় রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতিতে ব্যয়সংকোচন করা অস্বাভাবিক কিছু হবে না। এ কারনেই ঝেংফেই এভাবে কথাগুলো বলেছেন।

এসওএএস চায়না ইনস্টিটিউটের প্রফেসর স্টিভ স্যাং বলেছেন, রেনের মতো কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারনে হুয়াওয়ের মতো জাতীয় চ্যাম্পিয়নের দূরাবস্থা হওয়ার কথা স্বীকার করেন তাহলে বৃহত্তর চীনের অর্থনীতিও যে কঠিন অবস্থায় তা বোঝতে হবে। এখন সার্বিক বিষয় নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন।

মহামারী, আবাসন সংকটের কারনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চলতি সপ্তাহে ১৪৬ বিলিয়ন ডলার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে চীন সরকার। কঠোর লকডাউন কর্মসূচিতে চীনের শিল্পকারখানায় উৎপাদন, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সাধারন অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে। তরুনদের মধ্যে বেকারত্ব ১৯ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে; যা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গার্ডিয়ান/আরএপি

*

*

আরও পড়ুন