অপো স্মার্টফোনের মান নিয়ে শতশত অভিযোগ, ঠকছেন গ্রাহক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কেউ বলছেন কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় ডিসপ্লে সমস্যা, কারও অভিযোগ ঘনঘন হ্যাং করে, চার্জ থাকছে না, কেউ বা জানাচ্ছেন ক্যামেরার সমস্যার কথা-অপো স্মার্টফোন নিয়ে শতশত এমন অভিযোগ মিলছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, গ্রাহকরা ঠকছেন অপো স্মার্টফোন কিনে। সেই সঙ্গে টাকা দিয়ে যেনো ভোগান্তি কিনে নিচ্ছেন তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে এমনিতেই নানা বিতর্কিত ও বেআইনি কর্মকান্ডে সমালোচিত অপোর বাংলাাদেশ অফিস। দেশে অপোর কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং যৌন পৗড়নের অভিযোগকর্মী অধিকার লঙ্ঘন, মানসিক নির্যাতন ও বাংলাদেশের শ্রম আইন লঙ্ঘন, কর ফাঁকি, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগসহ বিভিন্ন কেলেঙ্কারি বেরিয়ে আসছে ।

Techshohor Youtube

পাশাপাশি চলতি বছরের শুরু হতে দেশে-বিদেশে ব্যাপকহারে বাজার হারাতে শুরু করে স্মার্টফোন ব্র্যান্ডটি। টেকশহর ডটকমে ‘মুখ ফেরাচ্ছে ক্রেতারা, দেশে ব্যাপকহারে বাজার হারিয়েছে অপো’ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর অপো স্মার্টফোন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ছয় শতাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়।

নানা বিষয়ের ‘সংবাদ জিজ্ঞাসায়’ টেকশহরের পক্ষ হতে যোগাযোগ করা হয় অপো বাংলাদেশের সঙ্গে। অপো বাংলাদেশের পক্ষে ব্লাকবোর্ড স্ট্র্যাটেজিস এশিয়াটিক ৩৬০ জানায়, অপো কর্তৃপক্ষ স্মার্টফোনের এই মান নিয়ে বিপুল অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলতে চান না।

ঢাকা হতে রাশেদ আব্দুল্লাহ বলছেন, ‘আমি কেনার এক মাসের মধ্যে বিনা কারণে ডিসপ্লেতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

সিলেট হতে মোহাম্মদ রাহী বলছেন, ‘এসব ফোন শুধু দেখতে সুন্দর হয়। কাজের বেলায় ধীরগতি, একবছর ব্যবহারের পর অনুপযোগী হয়ে পড়ে।’

হাসান মাহমুদ মনির জানান, ‘আমার অপো ফোনটায় কল করলে প্রথমে কথা শোনা যায়না। কেটে দিয়ে আবার ফোন দিতে হয়। মাঝে মাঝে তিন-চার বার ফোন দেয়ার পর কথা শোনা যায়।’

হাসান মীর বলেন, ‘দামে আর মানে অনেক তফাৎ ! এক বছর শেষ হওয়ার আগেই এলসিডি নষ্ট অথবা অন্য কিছু! উপর দিয়ে দেখতে জিকজ্যাক, ভেতরে একেবারে তার উল্টো। ফালতু !’

টাঙ্গাইল হতে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অপো ফোন চালাই তাও অনেক দামের। কিন্তু কাজের না, হ্যাং করে।’

জারিন তাসনীম মেধা বলেন, ‘অপো এফ২১ প্রো ফিচারস এর তুলনায় দাম বেশি। তার ওপর সার্ভিস ভালো না। এক মাসের মধ্যেই মাদারবোর্ড শেষ। কাস্টমার কেয়ার এ যেয়ে দেখলাম এই ফোন আরও কয়েকটা পড়ে আছে।’

লুবনা খান বলেন, ‘সার্ভিস আসলেই খারাপ দিচ্ছে । নতুন ফোন কিনলাম এক বছর না যেতেই ফোন হ্যাং করে । পরপর ২ টা অপো চালালাম, বিরক্ত হয়ে গেলাম সার্ভিসে।

চট্টগ্রামের লোহাগড়ার তাজমুল ইসলাম বলেন, ‘একটা বাজে ফোন অপো, শুধু হ্যাং হয়। এক বছর বয়স হলে ফোন চালানোই যায় না। আমি নিজে ভুক্তভোগী।’

আবু আবদুল্লাহ বলেন, ‘অপো একবার চালিয়ে ফোন ব্যবহার করার ঝাল মিটে গেছে । এককথায় একেবারে টাকাগুলো পানিতে ফেলে দেওয়ার মতো অবস্থা ।’

চট্টগ্রাম হতে মাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বর্তমানে দাম, ক্যামেরা, ফিচার ক্রেতাবান্ধব না।’

মামুনুর রহমান আয়মান বলেন, ‘বাইরে ফিটফাট আর ভিতরে সদরঘাট দিলে এমন হবেই তো। ডিজাইন করে ফ্লাগশিপ কিন্তু ভিতরে ১৪-১৬ হাজার এমটি জি ৩৫ আবার ইএমএমসি ৫.১ স্টোরেজ টাইপ। অন্যান্য ব্র্যান্ড এই বাজেট দিয়ে এমটি জি ৮০/৮৮, ইউএফএস ২.০-২.২ দিয়ে আসছে। হ্যাং এর কথা বাদ দিলাম, ক্যামেরায় না আছে সঠিক ‘edge detection’, শুধু একটা পাউডার বুস্ট।’

মারুফুর রহমান বলেছেন, ‘আমি নিজে ব্যবহার করি অপো, কিন্তু একেবারে বাজে মোবাইল।’

মো. যোবায়ের মাহমুদ এইচপি বলেন, ‘ আমি অপো এফ১৯ প্রো ২৭ হাজার টাকা দিয়ে নিয়েছি।ফোনের ব্যাটারি সকাল থেকে সন্ধা হলেই শেষ। আগে জানলে অপো কোনদিন কিনতাম না।’

অজয় বিশ্বাস বলছেন, ‘কোয়ালিটি ভালো নয়।’

রাজশাহী হতে ইমরান খান বলেছেন, ‘ফালতু একটা ফোন । আমি কিনে ৩ হাজার লস করে বেচে দিয়েছি এক সপ্তাহের মাথায় ।’

বিএম বেলাল বলছেন, ‘আমি কেনার এক বছরের মধ্যে বিনা কারণে ডিসপ্লেতে সমস্যা দেখা যাচ্ছে।’

মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘একে তো ব্যাটারি কম, তারপর একবছর ইউজ করতে না করতেই চার্জ রাখা যায় না বেশিক্ষণ ‘

রাহুল গাঙ্গুলী বলছেন, ‘অপো মোবাইলের ফালতু বাজে ক্যামেরা। আমি কিনে হায় হায় করছি, ফালতু ফোন কেউ কিনবেন না ।’

ঢাকার পিযুষ বসাক বলছেন, ‘পণ্যের মান ও দামের সঙ্গে কোনো মিল নেই।’

ঢাকায় বসবাসকারী ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম বলছেন, ‘মানের তুলনায় দাম অনেক বেশি। আস্তে আস্তে এদের ফোন মানুষ কেনা বন্ধ করে দেবে।’

*

*

আরও পড়ুন