vivo Y16 Project

কলড্রপ নিয়ে আরও কঠোর বিটিআরসি, লক্ষ্য গ্রাহক সন্তুষ্টি

আল-আমীন দেওয়ান : কলড্রপ ইস্যুতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের আরও চেপে ধরতে চাইছে বিটিআরসি।

গ্রাহকরা যেন স্বচ্ছন্দ্যে কথা বলতে পারেন এবং সেবায় বিঘ্ন ঘটলে আরও বেশি ক্ষতিপূরণ পান সেজন্য নতুন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

এছাড়া গ্রাহকের পাওনা ক্ষতিপূরণ আদায়ে অপারেটরদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে চায় বিটিআরসি।

Techshohor Youtube

কলড্রপ নিয়ে বিটিআরসির সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ :

কলড্রপ এবং ফেরত দেয়া মিনিট নিয়ে নির্দেশনা ও অপারেটরগুলোর কার্যক্রমের মধ্যে পার্থক্য পেয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

গ্রাহকদের মতামত হতে বিটিআরসি দেখছে যে, তারা কলড্রপের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কোনো কল মিনিট পাচ্ছেন না।

স্বয়ং বিটিআরসির কর্মকর্তারাও তাদের কলড্রপের জন্য কল মিনিটি ফেরত পাননি। এ বিষয়ে কোনো এসএমএসও কখনো তারা পাননি।

গ্রাহক দৈনিক কিংবা সপ্তাহে কিংবা মাসে তার নম্বরের বিপরীতে কলড্রপের পরিমাণ বিষয়ে জানতে পারেন না। এ বিষয়ে কোনো পদ্ধতিও নেই।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেকশহর ডটকমকে বলেন, গ্রাহককে প্রথম কলড্রপ হতেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অপারেটরদের। গ্রাহকরা যেন এই ক্ষতিপূরণ পায় তা নিশ্চিত করতে অপারেটরদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হচ্ছে। মানসম্মত সেবা ও গ্রাহকের স্বার্থে আমরা কোনো ছাড় দেবো না।

বিটিআরসির ভাইস-চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র টেকশহর ডটকমকে জানান, গ্রাহকরা যেন তাদের কলড্রপের তথ্য জানতে পারেন সেজন্য একটি অভিন্ন ইউএসএসডি কোড থাকবে। আর ক্ষতিপূরণ হবে প্রথম কলড্রপ হতেই। বিটিআরসি সবসময় গ্রাহকস্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

কলড্রপ নিয়ে বর্তমানে যেসব নির্দেশনা রয়েছে :

গ্রাহক যত সংখ্যক কল মিনিট প্রাপ্য হবেন তার সবটু্কুই গ্রাহককে দিতে হবে। এখানে গ্রাহকের প্রাপ্য মিনিটের কোনো সর্বোচ্চ সীমা থাকবে না।

প্রতিদিনের কল ড্রপের ফলে ফেরতযোগ্য সব মিনিট একত্রে গ্রাহককে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দিতে হবে।

কলড্রপের ফলে প্রাপ্ত মিনিট পরের দিনের প্রথম কল হতেই ব্যবহারযোগ্য হবে। যেখানে গ্রাহকের পাওয়া ফেরতযোগ্য মিনিট পুরোপুরি ব্যবহারের আগে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হতে কোনো টাকা কাটা যাবে না।

কলড্রপের ফলে ফেরতযোগ্য মিনিটের বিষয়ে গ্রাহককে এসএমএস করে জানাতে হবে।

কলড্রপের ফলে ফেরতপ্রাপ্ত মিনিটের ব্যবহারের মেয়াদ ৩০ দিন হবে।

অপারেটররা যা করছে :

গ্রামীণফোন ও রবি ৩য় থেকে ৭ম কলড্রপের জন্য কল মিনিট ফেরত দেয়। বাংলালিংক ২য় থেকে ৬ষ্ঠ কলড্রপের জন্য মিনিট ফেরত দেয়।

গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক কলড্রপ হওয়ার ২০ হতে ৩০ মিনিট পর কল মিনিট ফেরত দেয়।

কলড্রপের বিষয়ে অপারেটর হতে গ্রাহককে জানানোর পরপরই গ্রাহকরা ফেরতপ্রাপ্ত মিনিট ব্যবহার করতে পারে।

গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক সাধারণত ২০ হতে ৩০ মিনিটের মধ্যেই গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে কল মিনিট ফেরতের বিষয়টি জানিয়ে থাকে।

তিন অপারেটরই কলড্রপে ফেরত পাওয়া মিনিট ব্যবহারে ১ দিন বা ২৪ ঘন্টা সময় দিয়ে থাকে।

নতুন পদক্ষেপ বা নির্দেশনায় যা থাকছে :

অননেট কলড্রপের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রথম কল হতেই গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যেখানে প্রতি কলড্রপের জন্য ১ মিনিট করে কল মিনিট ফেরত দেয়ার কথা বলা হচ্ছে, যদিও ফেরতের এই পরিমাণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

কলড্রপ নিয়ে সব মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য অভিন্ন ইউএসএসডি কোড। *১২১*৭৬৫# ডায়াল করে একজন গ্রাহক জানতে পারবেন তার আগের দিন, সপ্তাহ বা মাসিক অন-নেট কলড্রপের পরিমাণ কতো।

এরসঙ্গে আগের কিছু নির্দেশনাও থাকছে, যেমন :

কলড্রপের ফলে পাওয়া কল মিনিট পরবর্তী দিনের প্রথম কল হতে ব্যবহারযোগ্য হবে। ফেরত পাওয়া মিনিট পুরোপুরি ব্যবহার শেষ হওয়ার আগে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হতে কোনো টাকা কাটা যাবে না।

কলড্রপের ফলে ফেরতপ্রাপ্ত মিনিটের ব্যবহারের মেয়াদ ৩০ দিন হবে।

অফনেট কলড্রপের ক্ষতিপূরণের কী হবে ?

অফনেট কলড্রপের ক্ষতিপূরণও যেন গ্রাহক পেতে পারে সেজন্য কাজ করছে বিটিআরসি।

অফনেট কলড্রপের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, এনটিটিএন ফাইবার কাটায় নেটওয়ার্ক কাটা, ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক মানসম্মত না হওয়া, যন্ত্রপাতি অচল হওয়া, আইসিএক্স সুইচ ক্যাপাসিটিসহ বেশ কিছু কারণ রয়েছে অনেকগুলো অংশীজন যুক্ত রয়েছে।

বিটিআরসি বলছে, অফনেট কলড্রপর ক্ষেত্রে প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী যেকোনো অপারেটরের কারিগরী সীমাবদ্ধতার কারণে কলড্রপ হতে পারে। নানা অংশীজন থাকায় অফনেট কলড্রপের মূল কারণ বের করা এখন জটিল।

তবে বিটিআরসি ‘টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম’ বা টিএমএস প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যেখানে অফনেট কলড্রপের কারণ সনাক্ত করা সহজ হবে এবং দায়ী প্রেরক ও গ্রাহক অপারেটরকে দায়বদ্ধতায় আনতে পারবে।

কলড্রপের বর্তমান পরিস্থিতি :

চলতি বছরের মে মাসজুড়ে কলড্রপের পরিসংখ্যান বলছে, ওই ৩১ দিনে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মোট অননেট কলড্রপ হয়েছে ৭ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩২টি। যেখানে প্রথম কলড্রপ ৫ কোটি ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৪৭ টি, দ্বিতীয় কলড্রপ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ১৭৮ টি, তৃতীয় ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৬টি, চতুর্থ ২৭ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৬টি, ৫ম ১৫ লাখ ৪১ হাজার ১৬০ টি, ৬ষ্ঠ ৯ লাখ ৫০ হাজার ৩১০ টি এবং ৭ম ১০ লাখ ২৬ হাজার।

এর বাইরে ৮ম হতে আরও কলড্রপের পরিমাণ ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৮৯২ টি।

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project