বাংলাদেশ শ্রীলংকা হবে না - মোস্তাফা জব্বার

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শ্রীলংকা হবে না। আমরা বৈশ্বিক মন্দার মন্দেও তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে শ্রীলংকা অংশের ক্যাবল সংযোগটি কিনে নিয়েছি। আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের কাছে আমরা আমাদের নিজেদের অংশসহ শ্রীলংকার অংশের টাকা সাবমেরিন ক্যাবলের নিজস্ব অর্থ থেকে পরিশোধ করছি। ভুলে যাবেন না একাত্তরের শত্রুরা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল কিন্তু ধ্বংস হয়ে যায়নি ।

মন্ত্রী বুধবার রাতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি, ঢাকা আয়োজিত আলোচনা সভায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে সংযুক্ত থেকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যা করা, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে হত্যা করা। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে ৩ বছর ৭ মাসে যে কাজ করেছেন তার দৃষ্টান্ত বিরল। পশ্চাদপদ এই জাতিকে বঙ্গবন্ধু এগিয়ে যাওয়ার সোপান রচনা করে গেছেন। যোগাযোগ, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ এমন কোন খাত নেই যে খাতের অগ্রগতির অভিযাত্রা বঙ্গবন্ধু শুরু করেননি। বঙ্গবন্ধুর শাসনামল ৭২ থেকে ৭৫ অত্যন্ত ঘটনাবহুল। তিনি এই সময়ের মধ্যেই জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার সোপান রচনা করেন।

Techshohor Youtube

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি ও দৃঢ়তা এবং সম্মোহনী ক্ষমতা ও তার ব্যক্তিত্ব রাজনীতির ইতিহাসে বিরল বলে বলেন মোস্তাফা জব্বার , তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছেন, কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করেন এই পাকিস্তান বাঙালির জন্য নয়। ১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধু আগরতলা গিয়েছিলেন এ ভূখন্ডটির স্বাধীনতা অর্জনে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহযোগীতার ক্ষেত্র তৈরির জন্য । তিনি সমমনা দলগুলোর অভ্যন্তরিণ বিরোধীতা সত্ত্বেও সত্তরের লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ইয়াহিয়া খানের সকল শর্ত মেনে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে তিনি তার রাজনৈতিক দূরদর্শীতার প্রমাণ দেন।

মন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের অর্জন বর্ণনা করে বলেন, ৭৩ সালে আইটিইউ এবং ইউপিইউ এবং ৭৫ এর ১৪জুন বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু তৃতীয় শিল্প বিপ্লবে অংশগ্রহণের যাত্রা শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নেতৃত্বের জায়গায় উপণীত করেছেন।

উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত একাত্তরের যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন যে নেত্রকোণার কলমাকান্দার মহেষখলার যুবকেন্দ্রে মুজিব বাহিনীর ক্যাম্প ছিলো। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমি মুজিব বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলাম। মোস্তাফা জব্বার সাহেবও মুজিব বাহিনীতে যোগ দেন ও খালিয়াজুরির দায়িত্ব পালন করেন। আমরা তারও আগে থেকে মুজিব সৈনিক। এখনও আছি। আজীবন থাকব।

সভাপতির বক্তৃতায় আবুল কালাম আজাদ বলেন, বঙ্গবন্ধু উন্নয়নের যে সোপান রচনা করেছেন সে ঝাণ্ডা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা এবং আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি, ঢাকা‘র সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক সিনিয়র সচিব মো: সাজ্জাদুল হাসান, মো: আবদুস সামাদ, শামসুল আরেফিন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো: ফসিউল্লাহ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ইউজিসির সদস্য উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আজহারুল ইসলাম খানসহ সমিতির নেতৃবৃন্দ্র বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির নেতা হুমাযুন খালিদ।

সুত্র – প্রেস বিজ্ঞপ্তি

*

*

আরও পড়ুন