বঙ্গবন্ধুকে দৈহিকভাবে হত্যা করলেও ঘাতকেরা তাঁর আদর্শকে মারতে পারেনি - পলক

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, যে মানুষ মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকেন তাকে কেউ মারতে পারে না। বঙ্গবন্ধু সবসময় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতেন। মৃত্যুকে ভয় পেতেন না। বঙ্গবন্ধুকে দৈহিকভাবে হত্যা করলেও ঘাতকেরা তার আদর্শকে মারতে পারেনি।

প্রতিমন্ত্রী বুধবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল মিলনায়তনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

পলক বলেন, প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করা হবে । বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বৈষম্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প দিয়েছিলেন।

Techshohor Youtube

ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেট সজীব ওয়াজেদ এর অনুপ্রেরণায় গত ১৩ বছরে প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে শহর-গ্রাম, ধনী-দরিদ্রদের মধ্যে কিছুটা হলেও বৈষম্য দূর করা সম্ভব হয়েছে। নারী-পুরুষের বিভেদ, বৈষম্য দূর করার চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি বলে বলেন তিনি ।

অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর ট্রাস্টি মফিদুল হক।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন , ৭১ এর পরাজিত অপশক্তি পরাজয়ের গ্লানির প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই ঘাতকচক্র শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের, এমনকি ১০ বছরের নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেলকেও হত্যা করেছে। কারণ তারা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানেও যেন বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কেউ তার আদর্শকে ধরে রাখতে না পারে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরী ও অনুসারী কেউ যেন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা লালন করতে না পারে তার জন্য এ হত্যাকান্ড।

পলক বলেন , ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিভেদের যে বিষবৃক্ষ রোপন করা হয় তার শাখা, প্রশাখা আজ বিস্তৃত। তিনি বলেন, জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা জিয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ এবং অপপ্রচার করে একটি বিভক্ত সমাজ তৈরি করতে চেয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হয় কিন্তু ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী এবং যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটনকে নিয়ে কখনও সমালোচনা করতে শোনা যায় না। ৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়।

প্রতিমন্ত্রী ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যা নিছক একটি হত্যাকান্ড নয় উল্লেখ করে বলেন এটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে চিরতরে নসাৎ করার একটি সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা এবং ডক্টরেট দেওয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী পৃথিবীর ২০০টি রাষ্ট্রে পালিত হয়েছে। এখন প্রত্যেককে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে সোনার মানুষে পরিণত হতে হবে। তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহ সকলকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করার জন্য আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ কামাল বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার হবে – পলক

৭ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বিএসইসি’র জন্য সল্যুশন তৈরি করা হচ্ছে – পলক

আইডিয়া প্রকল্প থেকে ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান পেল ২৫০ নারী উদ্যোক্তা

*

*

আরও পড়ুন