vivo Y16 Project

‘ভ্রমণের তথ্য ও সেবাগুলো পাওয়া যাচ্ছে এক প্ল্যাটফর্মে’

বাংলাদেশের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবার আগে প্রয়োজন তথ্য। ভ্রমণের স্থানগুলো সম্পর্কে জানা এবং যাওয়ার পুরো বিষয়টি নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন গ্রুপ থেকে তথ্য নিয়ে থাকেন। ভ্রমণের তথ্য, যাওয়ার পদ্ধতিসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করছেন ট্রাভেল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান রনি। নিজের উদ্যোগ, ভ্রমণের তথ্যাদি এবং ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে কথা বলেছেন টেকশহর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘টেক ভেঞ্চারস টক’-এ।

টেকশহর: ভ্রমণের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়টি যুক্ত করে কাজ করার চিন্তা কিভাবে আসলো?

আহসান রনি: ছোটবেলা থেকেই আমার ভ্রমণে অনেক আগ্রহ। ঘুরতে বেশ পছন্দ করতাম। কলেজে ভর্তি হওয়ার পরে বন্ধুরা বেশ ঘুরতাম। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে দেশের বাইরে অনেক ঘুরেছি। একটা সময় মাথায় এলো তথ্যভিত্তক একটি ভ্রমণের বিষয় নিয়ে কিছু করার। তখন যদিও এমন বড় আকারে চিন্তা ছিল না। সে সময়ে আমি এবং কয়েকজন মিলে একটি প্ল্যাটফরম শুরু করে যেখান থেকে ট্রাভেলাররা নানা ধরনের ভ্রমণের তথ্য পাবে। এটা ছিল ২০১৭ সালের ঘটনা। যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম। সেখান থেকে নিজের মতো করে শুরুটা। এরপর কিছু গবেষণা আর কাজের মাধ্যমে বুঝতে পারলাম ভ্রমণ খাতে নানা ধরনের কাজের সুযোগ আছে। আমি নিজেও সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা ধরনের কাজে যুক্ত থেকে বুঝতে পারলাম দেশে  এবং দেশের বাইরে এমন নানা বিষয় আছে যা নিয়ে আমি কাজ করতে পারি। তখনই স্টার্টআপের বিষয়টি জানতে পারি। এবং নিজের ক্যারিয়ার আর পছন্দের বিষয়টি মিলিয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনাকালীন সময়েই নিজের লক্ষ্যটি ঠিক করে ফেলি। তখন আমরা ভ্রমণ বিষয়ক তথ্য নিয়ে কাজ শুরু করি এবং পাঠক ও ভ্রমণপ্রেমীদের বেশ সাড়া পাই।

Techshohor Youtube

টেকশহর: ভ্রমণের সঠিক তথ্য দেয়ার শুরুর দিকে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কি করেছেন?

আহসান রনি: ২০১৭ সালে আমরা মূলত একটি গ্রুপ তৈরির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ সবার জন্য উন্মুক্ত করার মাধ্যমে কাজ শুরু করি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আমাদের ট্রাভেল বাংলাদেশের ওয়েবসাইট (travelbd.xyz) শুরু করি। শুরুতেই আমাদের একটি লক্ষ্য ছিল তথ্যভান্ডারের দিকে নজর দেয়া যেখানে একজন ভ্রমণকারী সহজে তথ্য পাবে। দেখা যায়, তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজি। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় কেউ কোন জেলায় ঘুরতে গেলে সে জেলার নাম লিখে তথ্য খোঁজে। কিন্তু তথ্যগুলো সাধারণত আসে সে জেলার নানা খবরের লিংক। যেহেতু আমাদের জেলার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় সেগুলোই সার্চ ইঞ্জিনে পাওয়া যায়। এ জায়গায় আমরা কাজ করি এবং আমাদের সাইটে সুনির্দিষ্ট ভাবে ভ্রমণের বিস্তারিত তথ্যাদি পাওয়ার ব্যবস্থা করি। যেমন কেউ একটি জেলায় যেতে চাইলে সেখানে কি কি দেখার সুযোগ আছে, কোথায় থাকা যাবে বা কি কি খাওয়া যাবে সেগুলোর বিস্তারিত তথ্যাদি আছে আমাদের সাইটে। আমরা শুরুতেই বিভিন্ন জেলার অনেকের কাছেই তথ্য সংগ্রহ করি, স্থানীয়দের সহায়তায় বিভিন্ন ধরনের ছবি সংগ্রহ করি। এভাবেই আমাদের তথ্যভান্ডার বানিয়ে ফেলি। এবং শুরু থেকেই ভ্রমণকারীদের তথ্যাদি সংগ্রহ এবং সুন্দর ভাবে উপস্থাপনের কারণে আমরা বেশ সাড়া পাই ভ্রমণপিপাসুদের কাছে।

টেকশহর: ভ্রমন এবং অনলাইনের মেলবন্ধন খুব সহজ নয়। সেটিকে কিভাবে বাস্তবায়ন করলেন?

আহসান রনি: আসলে শুরুতেই ভাবনা যেমন ছিল কাজটা তেমন সহজ ছিল না। আমাদের প্রথম ভ্রমণ বিষয়ক গ্রুপ থাকায় আমরা খুব সহজে শুরুর কাজটি করতে পেরেছি। কিন্তু দেখা গেল, আমি যেভাবে চাইছি তেমন একটি ওয়েবসাইট যখনই শুরু করতে গেছি তখনই প্রথম সাইট নির্মান নিয়েই সমস্যা শুরু হলো। যেভাবে আমি করতে চাইছিলাম সেভাবে হচ্ছিল না। আমি নিজে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই নানা কাজে যুক্ত ছিলাম, পড়েছি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে কাজও করেছি সাংবাদিকতা বিষয়ে তারপরেও আমাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে শুরুতেই ওয়েবসাইট তৈরি করতে। এভাবেই আসলে নানা ধরনের বিপত্তিকে পেছনে ফেলেই আমাকে কাজ করতে হয়েছে। আমরা যখন তথ্য নিয়ে কাজ শুরু করি তখন তথ্য ও সঠিক তথ্যের ভান্ডার তৈরির ক্ষেত্রেও নানা সমস্যায় পড়ি। দেখা যায়, বিচ্ছিন্ন ভাবে নানা তথ্য আছে। অনেকেই বই লিখেছেন। তবে একজন ভ্রমণপিপাসু ঠিক যে ধরনের তথ্য খোঁজেন সেটি ঠিকমতো পাচ্ছিলেন না। আমরা নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে তথ্য নিয়ে সে কাজটি শুরু করি। একটা সময়ে আমরা শুধু তথ্য সংগ্রহ বা সকলের জন্য তথ্য নিয়েই সীমাবদ্ধ ছিলাম না। আমরা দেখেছি, শুরুতেই আমরা যেমন সমস্যা পড়েছি সেই একই সমস্যায় যারা প্রফেশনাল ট্রাভেল সার্ভিস দিচ্ছে তারাও একই সমস্যায় আছে। তখন আমরা ট্রাভেল নিয়ে কাজ করে এমন এজেন্সি, অপারেটর থেকে শুরু করে নান প্রতিষ্ঠানকে সার্ভিস দেয়া শুরু করি।

টেকশহর: আপনার উদ্যোগের এ পথচলাটা কেমন দেখছেন? আর এ খাত নিয়ে কাজের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন?

আহসান রনি: তথ্য দিয়ে শুরুর পর সে সার্ভিস নেয়াসহ নানা কাজে যুক্ত হওয়ার পর আমরা বিভিন্ন ধাপ নিয়ে কাজ শুরু করি। মানে একজন  ভ্রমণকারী তথ্য পাওয়ার পর কিভাবে সেখানে যাবেন, কোথায় খাবেন, কোথায় ঘুরবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যাদি যুক্ত করা শুরু করি এবং এ সংশ্লিষ্ট সার্ভিস দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়ে কাজ শুরু করি। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করি যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬টি গ্রুপ/এজেন্সির সঙ্গে কাজ করছি যাদের সব তথ্যাদি আমাদের ওয়েবসাইটে আছে। এখান থেকে আগ্রহীরা তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি নিজের পছন্দের গ্রুপ/এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্রমণে যেতে পারবেন। দেখা যায় শুধুমাত্র কোন এজেন্সি বা গ্রুপের কাছে গেলে নির্দিষ্ট ভাবে তারা যেসব সার্ভিস দেয় সেটাই পাচ্ছে অন্যদিকে আমাদের সাইটে একাধিক অপশন পাচ্ছেন এবং নিজের পছন্দসই সার্ভিস নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

টেকশহর: আপনি দেশের বাইরেও কাজ করছেন। সেটির বিষয়ে বলবেন?

আহসান রনি: আমরা শুধু ভ্রমণের নির্দিষ্ট স্থান বা বিষয় নয়, নতুন কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করার বিষয়ে কাজ করছি। এরই অংশ হিসেবে দেশ এবং দেশের বাইরে যাতে গ্রাহকরা তথ্য, নির্দিষ্ট স্থানে ভ্রমণ এবং নতুন অভিজ্ঞতা পেতে পারেন সেটি নিয়েও কাজ করছি। তাই আমরা শুধুমাত্র বাংলা কনটেন্টেই সীমাবদ্ধ না থেকে ইংরেজিতে কনটেন্ট দিচ্ছি এবং কাজ করছি   

[সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টেকশহর ডট কমের স্পেশাল করসপনডেন্ট নুরুন্নবী চৌধুরী]

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project