Samsung HHP Online Campaign

‘দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষনের বিকল্প নেই’

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক নানা ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কাজ শেখার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক নানা বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষন নিয়ে কাজ করা ক্রিয়েটিভ আইটি ইন্সটিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনির হোসেন নিজের উদ্যোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক নানা প্রশিক্ষনের বিষয়ে কথা বলেছেন টেকশহর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘টেক ভেঞ্চারস টক’-এ।

টেকশহর: তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষন বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করলেন কবে? কেন?

মনির হোসেন: ২০০৮ সালে ক্রিয়েটিভ আইটির যাত্রা শুরু হয়। শুরুর দিকে আমার ইন্সটিটিউটের পরিকল্পনা ছিল না। ইচ্ছে ছিল সার্ভিস ভিত্তিক কাজ নিয়ে ব্যবসা শুরু করা। তবে সে সময়ে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ করার উদ্যোগের ঘোষণা দেয় এবং সেটি দেখেই আমার মনে হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষনের বিষয়টি বেশ কাজে লাগবে নতুনদের জন্য। পাশাপাশি আমি নিজে গ্রাম থেকে তখন শহরে এসে ঠিক তেমন মেন্টরশিপ পাইনি। তাই প্রশিক্ষন এবং সঙ্গে মেন্টরশিপ বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা আমি নিজেও বেশ উপলব্ধি করি। এছাড়া শিক্ষার যে বিষয়গুলো ছিল সেগুলোও আমার আপডেটেড মনে হচ্ছিল না। বিশেষ করে প্রফেশনাল কাজের ক্ষেত্রে যে ধরনের প্রশিক্ষন দরকার সেটি হয়ে উঠছিল না। সে সময়ে অনেক চিন্তা করেই  গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, থ্রিডি অ্যানিমেশন, ওয়েবসাইট ডেভলপমেন্ট ইত্যাদি দিয়েই শুরু করি।

Techshohor Youtube

টেকশহর: প্রশিক্ষনের পাশাপাশি কি ধরনের সার্ভিস দিচ্ছেন?

মনির হোসেন: শুরু থেকেই আমরা যে ধরনের প্রশিক্ষন দেয়া শুরু করে তখনই সে বিষয়ে একটি সার্ভিস শুরু করি। প্রশিক্ষন নেয়ার পাশাপাশি যাতে প্রশিক্ষনার্থীরা সরাসরি কাজেও যুক্ত হতে পারে। এ ধরনের সার্ভিস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়েই আমাদের আরেকটি সহ-প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ক্রিয়েটিভ আইটি ক্লিপিং পাথ। এখানে বর্তমানে প্রায় ৩০০ কর্মী কাজ করেন এবং এ প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা দেশের বাইরের নানা ধরনের কাজ করি। এছাড়াও আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আমাদের সহ-প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলছে। আমাদের সফটওয়্যার ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে যেখানে আমরা নানা ধরনের সফটওয়্যার পণ্য হিসেবে তৈরি করছি।

টেকশহর: যারা প্রশিক্ষন নিচ্ছে তাদের মধ্যে পরিবর্তনটা কেমন দেখছেন?

মনির হোসেন: এ বিষয়টি আসলে এক কথায় ব্যাখ্যা দেয়া মুশকিল। আমাদের একটা বিষয় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং সেটি হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ফ্রিল্যান্সিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে বিষয়টি অন্য ভাবে আমাদের সাধারণ প্রশিক্ষনার্থীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যায়, আমরা কাজ শেখার চেয়ে ফ্রিল্যান্সিং শিখতে বেশি আগ্রহী। যদিও, কোন একটা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে সে কাজটি করেই যে ফ্রিল্যান্সিং করা সম্ভব সেটি অনেকেই চিন্তা করেন না। এছাড়াও দেখা যায় যিনি যে বিষয়ে দক্ষ তিনি সে সম্পর্কিত কোন কাজ না শিখে অন্য একজন কোন একটা কাজে সফল হয়েছেন দেখে সে কাজটিই শেখা শুরু করে দেয়। এমন সব বিষয় দেখে আমরা প্রশিক্ষন দেয়ার আগে কাউন্সেলিং শুরু করি। এছাড়া আমরা নারীদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা রেখেছি এবং প্রতিবন্ধীদেরও আমরা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক নানা প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেছি। এবং যারা সফল ভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছে তাদের অনেকেই আমাদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে।

টেকশহর: সারাদেশব্যাপী প্রশিক্ষন দেয়ার বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কি?

মনির হোসেন: আমরা প্রায় ১৩ বছর ধর প্রশিক্ষন দিচ্ছি এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার প্রশিক্ষনার্থী সফল ভাবে প্রশিক্ষন নিয়ে কাজ করছে নানা মাধ্যমে। তবে শুরু থেকেই আমরা একটা বিষয়ে নজর দিয়েছি সেটা হচ্ছে কোয়ালিটি ভিত্তিক প্রশিক্ষন। সেটি ধরে রাখতে গিয়ে আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষন কার্যক্রম শুরু করেও পরবর্তীতে আরা চালু রাখতে পারিনি। পরবর্তীতে আমরা ২০১৬ সালে অনলাইনে প্রশিক্ষন কার্যক্রমটি শুরু করার জন্য বেশ চেষ্টা করি কিন্তু তখন আমরা সাধারণ প্রশিক্ষনার্থীদের যুক্ত করতে পারিনি। তবে ২০২০ সালের দিকে যখন করোনা সারাবিশ্ব বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে তখন আমাদের অনলাইন প্রশিক্ষন বিষয়টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। শুধু দেশেই নয়, আমরা তখন থেকে গ্লোবালী যুক্ত হয়েছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলা ভাষাভাষীরা আমাদের প্রশিক্ষন অনলাইনে নিতে পারছে এবং নিজেরাই নানা কাজে দক্ষ হয়ে উঠছে।

টেকশহর: প্রশিক্ষনের বিষয়টি সাধারণের জন্য আরো সহজ করতে কি করা যায় বলে মনে করেন?

মনির হোসেন: আমরা শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষনের ক্ষেত্রে উদাহরণ তৈরির দিকে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমার যেমন নারী ও প্রতিবন্ধীদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষন দিচ্ছি তেমনি বিভিন্ন ধরনের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এমনকি বয়স্ক এবং অবসরপ্রাপ্তদেরও আমরা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষন দেয়া শুরু করেছি। দেখা যাচ্ছে এতেও অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছে। তবে সবার আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াটা জরুরী। মানে, কোন কাজটি আপনি আসলে মনযোগ দিয়ে করলে সফল হতে পারবেন সেটি আগে নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি নিজে যে কাজটা জানেন সেটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিলে যেমন নিজে অনেক কিছু শিখতে পারেন তেমনি সে কাজটিকে কাজে লাগিয়েই ফ্রিল্যান্সিংসহ নানা ধরনের কাজে যুক্ত হতে পারেন। এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং আমাদের বিশ্বাস এসব কাজের মাধ্যমেই আমরা প্রশিক্ষনের বিষয়গুলোকে একেবারে সাধারন মানুষদের কাছে নিয়ে যেতে পারবো।

[সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টেকশহর ডট কমের স্পেশাল করসপনডেন্ট নুরুন্নবী চৌধুরী]

*

*

আরও পড়ুন