Samsung HHP Online Campaign

বেসিসের শর্টকোড উদ্বোধন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে আইসিটি শিল্পের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সময় এসেছে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের। সেক্ষেত্রে সরকারের প্রয়োজনীয় পলিসি সহায়তাসহ করণীয় বিষয়গুলো নির্ধারণে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে : আইসিটি শিল্পের ভূমিকা’ বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। এইদিন বেসিসের শর্টকোড উদ্বোধন করা হয় ।

রবিবার , ১২ জুন রাজধানীর রেডিসন ব্লুর ওয়াটার গার্ডেনের গ্র্যান্ড বলরুমে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রুবানা হক। আলোচক হিসেবে ছিলেন ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফা রফিকুল ইসলাম ডিউক। এছাড়া অনলাইনে যুক্ত থেকে আলোচনায় অংশ নেন বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, সহ-সভাপতি (প্রশাসন) আবু দাউদ খান সঞ্চালনা করেন ।

Techshohor Youtube

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ২০২১ সালে শুধু ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন না, আমরা অনুকরণীয় হতে পেরেছি। এখন আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সফলতার গল্প বলে শেষ করা যাবে না। আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে, তাতে আমরা ইতোমধ্যে যা অর্জন করেছি তার থেকে কয়েক লক্ষগুণ সম্ভাবনা রয়েছে।

আমাদেরকে রোবট ব্যবস্থাপনা করতে হবে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করতে হবে, হার্ডওয়্যার ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এজন্য নিজেদেরকে নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে হবে। শুধু সফটওয়্যার রফতানিই আমাদের বাজার নয়, সকল ধরণের ডিজিটাল পণ্য ও কার্যক্রমই আমাদের বাজার। এক‌দিন আমরা রোবটও রপ্তা‌নি কর‌বো। আমাদের সবগুলো তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়ক সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের সন্তানদেরকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আমরা তৈরি করতে পারি এমন বিদেশী সফটওয়্যার যেন আগামীতে আর দেশে না আসে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ‘যন্ত্র মানুষের বিকল্প নয়’ এ জন্য মানুষের পাশাপাশি ‘যন্ত্র পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, আইওটি, রোবট ম্যানেজমেন্ট করতে শিখতে হবে । আমি যন্ত্রকে কখনোই মানুষের বিকল্প হতে দেবো না। আমরা এখন সফটওয়্যারের পাশাপাশি যন্ত্রও সরবরাহ করবো।

ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের পর ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স এর তৃতীয় বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রেজেন্টেশনের প্রশংসা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরাই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। আমরা সবাই মিলেই আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রকে স্মার্ট করে তুলবো।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, স্বপ্নকে সক্ষমতার চেয়ে বড় করতে হবে। এটাই সফলতার মূল। এ জন্য প্রায়োরিটি ফোকাস করতে হবে। এক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির পরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে প্রযুক্তিকে। স্মার্ট হতে হলে স্মার্ট অপারিবিলিটি, ডেটা এবং আইডেন্টিফিকেশন প্লাটফর্মকে জোড়া দিয়ে একটি টেকসই আর্কিটেকচার নকশা করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না প্রযুক্তি আমাদের ভবিষ্যত।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকার ব্যবসা না করে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয়। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে আমাদের শ্রম নির্ভর অর্থনীতিকে আজ শিল্প, সেবা ও প্রযুক্তি নির্ভরতায় রূপান্তরিত হয়েছে। বেসিসসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনের নীতিগত দাবিকে আমলে নিয়ে, এই খাতের কর্পোরেট ট্যাক্স অবকাশ সুবিধা আগামী ২০২৪ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল নেতৃবৃন্দের সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং সংগঠনগুলো একই ভাষায় কথা বলছি।

এসময় বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট উইং প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরো বলেছেন, সরকার আজকে নিজেই ক্রেতা হয়ে ৯৯৯; ৩৩৩; ১৬২৬৩, ১০৯; ১০৬ কলসেন্টারসহ ২০টি মন্ত্রণালয়ের কলসেন্টার করেছে , বেসিস কনট্যাক্ট সেন্টারের জন্য বিটিআরসি অনুমোদিত শর্ট কোড (১৬৪৮৮) চালু করা হয় ।

সূত্র – প্রেস বিজ্ঞপ্তি

*

*

আরও পড়ুন