vivo Y16 Project

‘দেশের নারীরা এখন ব্লকচেইন, ইআরপি বিষয়ে বিদেশের কাজ করছে’

শুধুমাত্র নারীদের তথ্যপ্রযুক্তির খাতে কাজ করার চিন্তা থেকেই যাত্রা শুরু হয় ‘ওমেন ইন ডিজিটাল’-এর। নিজে নারী হয়ে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তি কাজে যুক্ত করা থেকে শুরু করে তাদের নিয়ে কাজ করার এ উদ্যোগে ইতিমধ্যে নানা পর্যায়ের অনেক নারী যুক্ত হয়েছেন এবং কাজ করছেন। নারী কেন্দ্রিক এ ব্যবসার চিন্তা নিয়ে কাজ শুরুর পর এখনো চলছে এর যাত্রা এবং এর নেতৃত্বে আছেন ওমেন ইন ডিজিটাল’র এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া নীলা। বিদেশে পড়াশোনার উদ্যোগ নিয়েও সেটি বাদ দিয়ে নারী দিয়ে কাজ করার এ উদ্যোগের নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন টেকশহর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘টেক ভেঞ্চারস টক’-এ।

টেকশহর: আপনি শুধুমাত্র নারীদের নিয়েই কাজ করছেন এবং উদ্যোগের নামটিও ‘ওমেন ইন ডিজিটাল’। কেন?

আছিয়া নীলা: আসলে আমি এ প্রতিষ্ঠানটি শুরুর আগে থেকেই একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে দেশে এমনকি বিদেশেও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কম। বিশেষ করে কোর আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে এ অংশগ্রহণ এত কম যে বিষয়টি চোখে লাগে। আমি নিজেও একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী। নিজের কাজের মধ্যেও বিষয়টি দেখেছি। তখন থেকেই এমনটা ভেবেছি যে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কথা যেখানে নারীরা তথ্যপ্রযুক্তির এ কাজগুলোতে যুক্ত হতে পারবে। যদিও তখনই ইচ্ছে ছিল না। সে সময়ে আমি দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষার জন্য যাওয়ার পরিকল্পনা করি। তখন বাবার সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করি। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। আমার বিদেশে যাওয়ার কথা শুনে বাবা বললেন, দেশেই যাতে কিছু করি। তারপরেই আমি নারীদের নিয়ে এ চিন্তার বিষয়টি বাবার সঙ্গে শেয়ার করি এবং প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। দেখতে দেখতে প্রতিষ্ঠানের বয়স ৯ বছর হয়ে গেছে।

Techshohor Youtube

টেকশহর: প্রতিষ্ঠানটি থেকে আপনারা কি ধরনের কাজ করছেন? গ্রাহক কারা?

আছিয়া নীলা: আমি ব্যক্তিগত ভাবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে যেমন কাজ করেছি তেমনি বেশ কিছু মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানেও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছি। তখন থেকেই আমার চিন্তা ছিল বিদেশের বাজারে কাজ করা এবং ইউএস ডলারে আয় করা। সে চিন্তা থেকেই আমরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে কাজ করছি। দেশে খুব বেশি কাজ করা হয় না তবে খুব কাছের কারো বা পরিচিত হলে কিছু কাজ করি। আমাদের দেশের মেয়েরা এখন দেশের বাইরের প্রতিষ্ঠানের জন্য এন্টারপ্রাইজ সলিউশন, ইআরপি নিয়ে যেমন কাজ করছে তেমনি ব্লকচেইন নিয়েই কাজ করছেন।

টেকশহর: আপনার ব্লকচেইন নিয়ে কি ধরনের কাজ করছেন?

আছিয়া নীলা: আমরা দেশের বাইরে যে ধরনের কাজ করছি তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ব্লকচেইন। আমরা যুক্তরাজ্য’র ব্লকচেইন অ্যাসোসিয়েশনের জন্য একটি কাজ করেছি। এ অ্যাসোসিয়েশন যে বিভিন্ন জায়গায় ডোনেশন দেয় সেটি যাতে উক্ত প্রতিষ্ঠানে সফল এবং ট্রান্সপারেন্সি পদ্ধতিতে যায় সেটির জন্য ব্লকচেইন ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা একটি সলিউশন তৈরি করে দিয়েছি।

টেকশহর: আপনার প্রতিষ্ঠানের শতভাগ কর্মী নারী। এ পর্যন্ত আপনার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

আছিয়া নীলা: আমার আসলে প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু পুরো তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক এবং আমরা দেশের বাইরের কোর প্রযুক্তির কাজ করি (যেমন: ব্লকচেইন)। তাই আমাকে বেশ সতর্ক থাকতে হয়। তবে এখনো আমাদের মেয়েদের কাজের ক্ষেত্রটি তেমন ভাবে প্রফেশনাল হয়ে উঠেনি। দেখা যায় অনেকেই হুট করে অফিসে আসছে না, এর কিছুদিন পরে জানা গেল এর কারণটা। তবে সব নারী যে এমন বিষয়টা তা নয়। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে এবং অনেক নারীই নিজেই এখন যেমন তথ্যপ্রযুক্তির এ খাতগুলোতে কাজ করছে তেমনি সংসারও চালাচ্ছে।

টেকশহর: দক্ষ নারী কর্মীদের পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার কি কি করতে হয় বা হয়েছে?

আছিয়া নীলা: সত্যি বলতে আমাদের এ ধরনের কাজের জন্য কর্মী পাওয়া বেশ কঠিনই হয়। আমরা শুরুর দিকে ওয়েবসাইট ডেভলপমেন্টের কাজ করেছি এবং তখন দেখেছি আমার কর্মীরা দারুণ কাজ করেছে। এ কাজে তাদের ডেডিকেশন আছে। তবে কিছু জায়গায় হয়তো সমস্যা হয়। তবে অন্য দিক বিবেচনায় তারা ডেডলাইন মাথায় রেখেই কাজ করে। এছাড়া, আমি যে কোন প্রজেক্ট নেয়ার আগেই সেটি আমার কর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করি এবং যাদের কাছ থেকে কাজ নেই তাদেরও জানিয়ে দেই আমার পুরো কর্মীই নারী তাই আমার সময়ও কিছুটা বেশি লাগবে। সেসব মিলিয়ে এখনো ভালোই চলছে। আমি আশাবাদী।

টেকশহর: প্রযুক্তির এ কাজগুলোতে আরো বেশি নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য কি করা যেতে পারে?

আছিয়া নীলা: কাজের ক্ষেত্রে আমার যে ধরনের কর্মী দরকার সেরকম পেতে আসলেই আমার বেশ বেগ পেতে হয়। আর সবসময় পাই না। তাই গত কয়েকবছর ধরেই আমরা নিজেদের জন্যই ক্লায়েন্ট ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। এ  জন্য কারিকুলাম নিয়েও কাজ করেছি অনেকদিন। বিশেষ করে ব্লকচেইনের মধ্যেই এনএফটি, সিস্টেম ডেভলপমেন্ট, কারেন্সিসহ অনেক বিষয় আছে। আমি প্রতিটি কাজকে আলাদা করেছি যেখান থেকে যে যে বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী তাকে সেটিতেই প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করে নেয়া যায়।

[সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টেকশহর ডট কমের স্পেশাল করসপনডেন্ট নুরুন্নবী চৌধুরী]

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project