‘চ্যালেঞ্জ থাকবেই, সেটিকেই জয় করতে হবে’

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মাই আউটসোর্সিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানজিরুল বাসার। বিশেষ করে কলসেন্টার ও আইসিইএস সার্ভিস নিয়ে কাজের মাধ্যমে বর্তমানে সক্রিয় আছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। এ খাতে প্রতিবন্ধী মানুষদের কাজের জায়গা তৈরি করা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। নিজের নানা ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিপিও খাতের নানা সম্ভবনা নিয়ে কথা বলেছেন টেকশহর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘টেক ভেঞ্চারস টক’-এ।

টেকশহর: বিপিও খাতে কাজের আগে থেকে আপনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্ত ছিলেন? শুরুটা কিভাবে হয়েছিল?

তানজিরুল বাসার: আমি আমার প্রতিষ্ঠান মাই আউটসোর্সিং শুরু করার আগে ১২ বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেছিলাম। বিশেষ করে গ্রামীণফোন ওয়েবসার্ভিসে এবং আমরা ইনফোটেইনমেন্টেও কাজ করেছি বড় আকারে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এ ধরনের কাজগুলো আমার নিজের প্রতিষ্ঠান শুরুর ক্ষেত্রে অনেক সহযোগিতা করেছে। একেবারে চাকুরী ছেড়ে দেয়ার পরেও আমি একটি প্রতিষ্ঠানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছি। আর সেসব অভিজ্ঞতা নিয়েই ২০১২ সালে আমাদের প্রতিষ্ঠান শুরু করি। বর্তমানে আমাদের প্রতিষ্ঠানে অনেকেই কাজ করছে। আমরা বর্তমানে বিপিও, সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট, স্কিল ডেভলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি।

Techshohor Youtube

টেকশহর: নতুন কারো সে সংশ্লিষ্ট কোন উদ্যোগ শুরুর আগে অভিজ্ঞতার জন্য চাকুরী করা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

তানজিরুল বাসার: একদিক দিয়ে চিন্তা করলে এটা কিন্তু ভালোই। যে কোন কাজ করার ক্ষেত্রে একেবারে শুরু থেকেই করতে হয়। সে সংশ্লিষ্ট বিভাগে কাজ করলে দেখা যাবে আপনার নিজের উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করতে চাইলে অনেক সুবিধা হবে। যেমন আমরা ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কাজ করাদের কথাই বলতে পারি। তারা নির্দিষ্ট একটা সময় ধরেই একটি কাজ করার ফলে পরবর্তীতে দেখা যায় সে বিষয়ক প্রতিষ্ঠান খুব সহজেই তৈরি করতে পারে।

টেকশহর: ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায় বাংলাদেশীদের অনেকদিন হলো। অনেক বছরও হয়ে গেল। এখন কি অবস্থা বলে মনে করেন?

তানজিরুল বাসার: একটা বিষয়ের কিন্তু বেশ অগ্রগতি হয়েছে। শুরুর সময়টায় যেমন অনেক কিছুই ছিল না এখন সেগুলো বেশ শক্ত ভাবেই আছে। যেমন: দ্রুত গতির ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ সুবিধাসহ পেমেন্ট গেটওয়ের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যায় পড়তেন ফ্রিল্যান্সাররা। এখন এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে। ১০ বছর আগের অবকাঠামোগত বিষয়গুলো এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির কার্যক্রম বাড়ার পাশাপাশি আমাদের কাজের নানা ক্ষেত্র কিন্তু বাড়ছে। অনেক ফ্রিল্যান্সাররাও এখন ভিন্ন ভিন্ন খাতে কাজ করছে। এছাড়াও বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংগঠনগুলোও ফ্রিল্যান্সারদের নিবন্ধন থেকে শুরু করেও নানা কাজে সহায়তা করছে, প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি ভাবেও ফ্রিল্যান্সারদের ইনসেনটিভ দেয়া থেকে শুরু করে নানা ভাবেও সহায়তার হাত বাড়ানো হয়েছে। আমার মনে হয়, এখন পর্যন্ত যতটুকু ফ্রিল্যান্সিং করে এগিয়েছি আগামী ৫ বছরে তার চেয়ে অনেক বেশি আগানো সম্ভব।

টেকশহর: ভিন্ন ভিন্ন অনেক কাজ হয় ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায়। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো আসছে বলে মনে করেন?

তানজিরুল বাসার: কাজের সঙ্গে মিলিয়ে হয়তো সব ধরনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে উঠছে না তবে সরকারি ভাবে এসইআইপি নামে একটি প্রশিক্ষণ প্রকল্প শুরু হয়েছে যা প্রতিটি তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠণগুলোই দিচ্ছে। একটা একটা উদ্যোগ বলা যায় তবে সেটিই কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নয়।

টেকশহর: ভবিষ্যৎতে কোন দিকটি নিয়ে কাজ করতে চান?

এরশাদুল হক: গ্লোবাল বাজার আসলে অনেক বড়। আমরা যখন কাজ শুরু করেছি দেখেছি যে, গ্লোবাল বাজারে কাজ করার বড় সুযোগ আছে এবং আমরা সেখানে ভালো ভাবেই কাজ করতে চাই। আমাদের টিমের সাইজও বড় হয়েছে। আশা করছি রাইজ আপ ল্যাব থেকে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে আমরা সহায়তা করতে পারবো। বিপিওতে ফিলিপাইনের বাজার প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার যেখানে আমরা টার্গেট করেছি ৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরার। ফিলিপাইন এ বাজারটি ধরার জন্য শিক্ষা থেকে শুরু করে নানা ধরনের কারিগরি বিষয়ে কাজ করছে। আমাদের এ জায়গাটাতে কিন্তু একটা বড় সমস্যা আছে। দেখা যায় আমাদের শিক্ষাখাতে যে বিষয়ে পড়াশোনা করেন শিক্ষার্থীরা সে বিষয়ে বাজারে থাকা কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা থাকে কম। সে জায়গাটাতে কাজ করতে হবে।

[সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টেকশহর ডট কমের স্পেশাল করসপনডেন্ট নুরুন্নবী চৌধুরী]

*

*

আরও পড়ুন