পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন যেসব কাজে লাগানো যায়

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: সবার বাড়িতেই অব্যবহৃত পুরনো সেল ফোন পাওয়া যায়। ফেলে না দিয়ে সামান্য একটু সৃজনশীলতা যোগ কওে ফোনগুলো বেশ কিছু কাজে ব্যবহার করা যায়।

সার্বজনীন রিমোট
পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি বাসার ইলেক্ট্রিক সামগ্রি পরিচালনার ভালো একটি কমান্ড সেন্টার হতে পারে। শুরুতেই ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট দিয়ে যাবতীয় অপ্রয়োজনীয় সব মুছে ফেলতে হবে। এরপর টিভি, মিউজকসহ অন্যান্য যেসব সামগ্রি নিয়ন্ত্রনের প্রয়োজন সেগুলোর প্রয়োজনীয় অ্যাপসগুলো ডাউনলোড করে নিতে হবে। পাওয়ার, ভলিয়ম এবং চ্যানেল পরিবর্তনের মতো টিভির কার্যক্রমগুলো নিয়ন্ত্রন করতে চাইলে প্লে স্টোর থেকে ইউনিভার্সাল রিমোট অ্যাপ নামিয়ে নেয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেটফ্লিক্স, হুলো এবং এইচবিও ম্যাক্সের মতো স্ট্রিমিং সার্ভিসের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে যা পুরনো ফোনগুলোয় খুব ভালো কাজ করে। গুগল হোম অথবা অ্যামাজনের ইকো প্লাটফর্ম ব্যবহার করে অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিকে আধুনিক হোম ডিভাইসগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করিয়ে নেয়া যায়।

সিকিউরিটি ক্যামেরা
সিকিউরিটি ব্যবস্থায় সাধারনত থাকে-একটি ক্যামেরা, তারবিহীন সংযোগ এবং সহযোগি অ্যাপ। এ জিনিসগুলো কিন্তু পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোতেই রয়েছে। যেমন- অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ক্যামেরা রয়েছে; যা সাধারনত সিকিউরিটি ক্যামেরার তুলনায় অনেক ভালো মানের। এই ফোনের ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
গুগল প্লে স্টোরে একাধিক সিকিউরিটি ক্যামেরা অ্যাপ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ি এখান থেকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে নেয়া যায়। এসব অ্যাপের বেশিরভাগই আরেকটি স্মার্টফোনের সঙ্গে দ্বিমুখি যোগাযোগের জন্য। অর্থাৎ এই অ্যাপ ব্যবহার করে বর্তমান ডিভাইসে ধারণ করা ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে পুরনো অ্যান্ড্রয়েডকে সঠিক ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
ফোনটিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে বিদ্যুতের সঙ্গে সংযোগ দিতে হবে। এই সংযোগের ফলে ফোনটি আর চার্জ দেয়ার জন্য সেখান থেকে নামাতে হবে না এবং এটি নতুন ডিজিটাল পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে। শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখতে তার রুমে এই ফোন সেট করা যায়।

Techshohor Youtube

ই-রিডার
পুরনো অ্যান্ড্রয়েডকে ই-রিডার হিসেবে তৈরি করতে হলে প্রথমেই এতে থাকা আগের সব অ্যাপ্লিকেশন মুছে ফেলে প্রতিটি রিডিং অ্যাপ ডাউনলোড করে নিতে হবে। সবচেয়ে দারুন বিষয় হচ্ছে লাইব্রেরী ডাউনলোড করে নেয়ার পর আর ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে না। আপনি যেখানেই যান না কেন পকেটের ভেতরেই থাকবে ই-বুক এবং অডিও বুকের বিশাল লাইব্রেরি। নতুন কোন কনটেন্ট প্রয়োজন হলে দ্রæত একটু সংযোগ দিয়ে আপডেট করে নিলেই হলো।

ওয়েবক্যাম হিসেবে ব্যবহার
পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি খুব ভালো ওয়েবক্যাম হয়ে উঠতে পারে। অ্যান্ড্রয়েডকে ওয়েবক্যাম হিসেবে তৈরি করতে হলে কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হবে। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ফোনটিকে কম্পিউটারেরর সঙ্গে যোগাযোগ করার উপযোগি করতে হবে। এ কাজের জন্য বিনামূল্যে অথবা মূল্যসহযোগে অনেক অ্যাপ রয়েছে। এসব অ্যাপের যেকোন একটি বাছাই করে ওয়াইফাই অথবা ক্যাবল ব্যবহারের মাধ্যমে ফোনটিকে কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত করে নিতে হবে।

গেমিং ডিভাইস
পুরনো অ্যান্ড্রয়েডকে শক্তিশালী গেমিং ডিভাইস হিসেবে তৈরি করা যায়। রেট্রো গেম ফাইলগুলি সাধারনত ছোট হয়। তাই পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও শত শত গেম সংরক্ষণ করে রাখা যায়।

দূরবর্তী কম্পিউটার টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার
গুরুত্বপূর্ণ সব ফাইল এবং তথ্য আমরা সাধারনত কম্পিউটারে স্টোর করে থাকি এবং কম্পিউটার থেকে দূরে থাকলে এগুলো আমরা ব্যবহার করতে পারি না। কখনো এমন হয় ডেস্কটপ অথবা ল্যাপটপ বাড়িতে রেখে আপনি বাড়ির বাইরে রয়েছেন এমন সময়ই জরুরী কোন ফাইলের প্রয়োজন হলো। এক্ষেত্রে আপনার তথ্যের সঙ্গে দূরবর্তী কোন সংযোগের উপায় থাকলে ব্যাপারটি খুবই সহজ হতো। আপনার পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাজে লাগাতে পারেন।
গুগল ক্রোম রিমোট ডেস্কটপ ব্রাউজার একটি কম্পিউটারের সঙ্গে বাইরের কোন ডিভাইসের সংযোগ ঘটাতে পারে। কম্পিউটার ওয়ার্ল্ডের দেয়া তথ্যানুযায়ি, আপনি ক্রোম রিমোট ডেস্কটপ এক্সটেনশন ইনস্টল করার মাধ্যমে কম্পিউটারকে দূরবর্তী স্থান থেকেও সহজলভ্য করে তুলতে পারবেন। এক্সটেনশনে আপনার কম্পিউটারের একটি নাম দেয়ার পর একটি পিন তৈরি করতে হবে।
এ কাজটি শেষ হওয়ার পর অ্যান্ড্রয়েড ফোনটিতেও ক্রোম রিমোট ডেস্কটপ অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। পাশাপাশি নিশ্চিত হতে হবে যে এটি একই গুগল অ্যাকাউন্টে কানেক্ট হয়েছে। এরপর কম্পিউটারটিতে একটি অপশন দেখাবে এবং পিন দেয়ার পর মোবাইল ফোন থেকেই কম্পিউটারের যাবতীয় বিষয় দেখার পাশাপাশি পরিচালনা করা যাবে।

কম্পিউটিং পাওয়ার
নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা কম্পিউটার এবং স্মার্টফোনের অব্যবহৃত কম্পিউটিং শক্তি ব্যবহার করতে ইউসি বার্কলের গবেষকরা বার্কলে ওপেন ইনফ্রাস্টট্রাকচার ফর নেটওয়ার্ক কম্পিউটিং (বিওআইএনসি) প্রকল্প চালু করেছে। বার্কলের দেয়া তথ্যানুযায়ি, বিশ্বের অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোয় থাকা সমন্বিত কম্পিউটিং পাওয়ার সুপারকম্পিউটারগুলোকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।
আর পপুলার মেকানিকস বলছে, বায়ুর বিশুদ্ধতা এবং বিপজ্জনক শব্দের মতো জিনিসগুলো পরিমাপে স্মার্টফোনের ডাটা ব্যবহার করা হয়।

আরএপি

*

*