ফিল্টার ছাড়াই সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরন : এমআইটির আবিষ্কার

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: গ্রামীন ও দুর্যোগপ্রবন অঞ্চলে একটি বহনযোগ্য সমুদ্রের লোনাপানি বিশুদ্ধকরন ব্যবস্থা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষেদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। যদিও ইতোমধ্যে এরকম অনেক বহনযোগ্য বিশুদ্ধকরন প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। তবে এসব প্রযুক্তিতে সাধারনত ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। ম্যাসাচুয়েটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষকরা এমন একটি পানি বিশুদ্ধকরন যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন যা সহজে বহনযোগ্য এবং এখানে কোন ফিল্টার নেই।

এমআইটির গবেষকদের আবিষ্কৃত যন্ত্রটির ওজন ১০ কেজিরও কম। এটি সমুদ্রপানি থেকে বিভিন্ন কণা ও লবন পৃথক করে ফেলে একে পানীয়র উপযোগি করে। অন্যান্য পানি বিশুদ্ধকরনের মতো এটিতে কোন ফিল্টার প্রয়োজন হয় না। এমআইটির উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি কাজে লাগানোর জন্য অল্প একটু বিদ্যুৎ হলেই যথেষ্ট। এটি দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন নেই।

সুটকেস আকৃতির ডিভাইসটি চালাতে সেলফোন চার্জারের চেয়েও কম বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। ফলে একটি ছোট বহনযোগ্য সোলার প্যানেলের মাধ্যমেও এটি চালানো যাবে। যন্ত্রটির সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদন্ড অনুযায়ি বিশুদ্ধ পানীয় জল আনা যায়।

Techshohor Youtube

যন্ত্রটি ফিল্টারের পরিবর্তে আয়ন কনসেনট্রেশন পোলারাইজেশন (আইসিপি) প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে। আইসিপি প্রক্রিয়াটি পানির একটি চ্যানেলের ওপরে এবং নিচে অবস্থিত দুটি ঝিল্লিতে একটি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করে। দুটি ঝিল্লির মধ্য দিয়ে পানি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের মাধ্যমে যাওয়ার সময় ঝিল্লিগুলি লবণের অনু, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ ইতিবাচক ও নেতিবাচক চার্জযুক্ত কণাগুলোকে বিকর্ষণ করে। চার্জযুক্ত কণাগুলো পানির দ্বিতীয় স্তরে জমা হয়ে নিঃসৃত হয়। কিন্তু আইসিপি চ্যানেলের মাঝখানে ভাসমান লবন সবসময়ই অপসারন করে না। আর এ কারনে গবেষকরা অবশিষ্ট লবন আয়নগুলো অপসারনের জন্য ইলেক্ট্রোডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া অন্তর্ভূক্ত করেছেন।

প্রথম পর্যায়ে ছয়টি মডিউল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনটি মডিউলের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এক্ষেত্রে একটি একক ইলেক্ট্রোডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া অনুসরন করা হয়। প্রক্রিয়াটি স্ব-পরিষ্কার নিশ্চিত করার সময় শক্তির ব্যবহার কমিয়ে দেয়।
মাত্র একটি বাটন চাপলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশুদ্ধকরন ও পরিশোধন প্রক্রিয়া চালু হয়ে যায়। পানি থেকে নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত লবনের মাত্রা ও বিভিন্ন কণার পরিমান কমে পানীয়র উপযোগি হলে ডিভাইসটি এর ব্যবহারীকে জানান দেয়। এমআইটির গবেষকরা ইউনিটটি নিয়ন্ত্রন করার জন্য একটি স্মার্টফোন অ্যাপ তৈরি করেছেন। এই অ্যাপের সাহায্যে বিদ্যুৎ খরচ ও পানির লবনাক্ততা নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।

বর্তমানে যন্ত্রটি দিয়ে প্রতি লিটার পানি বিশুদ্ধ করার জন্য মাত্র ২০ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়। ডিভাইসটি আরো সহজ ব্যবহারযোগ্য ও জ্বালানী সাশ্রয়ী করে তোলার জন্য গবেষকরা কাজ করছেন।

ডিভাইসটি দূরবর্তী ও দুর্যোগ কবলিত স্থানের জন্য বেশ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এছাড়াও প্রকৃতিক দুর্যোগ থেকে শরনার্থী অথবা সেনা সদস্যরা অভিযান চলাকালে এটি ব্যবহার করতে পারবে।

ইনসেপটিভমাইন্ড/আরএপি

*

*

আরও পড়ুন