নানা জটিলতার মধ্যেও সাংবাদিকতা করছি: আইরিন খাতুন

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এবং বাংলাদেশ ওমেন ইন আইটি (বিডব্লিউআইটি)-র উদ্যোগে ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘লুনা শামসুদ্দোহা গার্লস ইন আইসিটি উইক ২০২২’ শীর্ষক একটি আয়োজন। ২২-২৮ এপ্রিল নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রতিদিন একজন সফল নারীকে নিয়ে বিশেষ ফিচার প্রচারিত হবে। এ আয়োজনের অন্যতম সহযোগী টেকশহরডটকম। আয়োজনের চতুর্থ দিনে থাকছে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট আইরিন খাতুন’র কথা।

২০১৬ সালের নভেম্বরে টেলিভিশনের মাধ্যমে রিপোর্টিং ক্যারিয়ারের শুরু। তবে এই পেশা বা কর্মসংস্থানে আসাটা সহজ ছিল না ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট আইরিন খাতুনের। কারণ হিসেবে জানালেন, ‘নারীদের বাড়ির বাইরে কাজ করাটা কোনো ভাবেই পছন্দ করে না আমার পরিবারের। সুতরাং এই বাধা পেরিয়ে কর্মসংস্থানে যোগ দেয়া এবং তা চালিয়ে নেয়া খুব কঠিন আমার জন্য। এসব কিছুর মধ্যেও চলতে থাকে রিপোর্টিংয়ের কাজ।’

শুরুর দিকে অর্থনীতি বিষয়ক অ্যাসাইমেন্টের পাশাপাশি কাভার করতেন প্রযুক্তি বিষয়ক অ্যাসাইনমেন্টগুলো। এরই মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ে কাজের চার বছরের মধ্যে শুরু হয় করোনা মহামারি। মহামারির সময় লকডাউনে ই-কমার্সের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধ ঘরবন্দি মানুষের কাছে পৌঁছানোর কাজ ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। সবকিছু অনলাইন কেন্দ্রিক হওয়ায় এই সংক্রান্ত পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। লকডাউনের সময় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যকে জরুরী সেবার আওতায় আনা হলেও বাদ রয়ে যায় প্রযুক্তি পণ্য। সেসময় ক্রেতাদের কাছে ওয়েব ক্যাম, হেডফোন ও ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তি পণ্য সরবাহে পুলিশের জেরাসহ নানান সমস্যার মুখে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। তখন এসব সমস্যা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন আইরিন খাতুন। জানালেন, ‘এই প্রতিবেদনের কারণে কথা বলতে হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে। আমার প্রতিবেদন প্রকাশের কিছুদিন পরই প্রযুক্তি পণ্যকেও জরুরী সেবার আওতায় নিয়ে আসা হলে সমস্যা সমাধান হয় ব্যবসায়ীদের।’

Techshohor Youtube

প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদক হওয়ার পাশাপাশি অথনৈতিক প্রতিবেদকও হিসেবেও কাজ করছেন আইরিন। তাই করোনা মহামারির সময় নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নানান সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন করায় ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওয়েন্ড আমাকে ফ্রন্টলাইনার নারী সাংবাদিক হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি। পেশার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের সদস্য হন তিনি।

নানা জটিলতার মধ্যেও সাংবাদিকতা করছি কথা উল্লেখ করে আইরিন বলেন, ‘ভবিষ্যতে আইসিটি সেক্টর নিয়ে আরো ভাল কাজ করতে চাই। লুনা শামসুদ্দোহা ছিলেন এই সেক্টরের একজন অগ্রদূত। তাকে অনুসরণ করে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করার প্রয়াস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’

/জিপিডাব্লিউ/জেএ/এনসি

*

*

আরও পড়ুন