Samsung HHP Online Campaign

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী কিশোর-কিশোরীরা অপেক্ষাকৃত কম সুখী

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কমে যায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক নেচার কমিউনিকেশনের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যতবেশি ব্যবহার করে একবছর পর তাদের মধ্যে জীবনে সন্তুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তত কমে যায়। একই প্রবণতা ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর এবং ১৯ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও দেখা যায়।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, নির্দিষ্ট বয়সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি দূর্বলতা কৈশোরে তাদের বিকাশের সময় মস্তিষ্ক, হরমোন এবং সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। এ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বোঝার জন্য আরো গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা।

প্রধান গবেষক ড.অ্যামি ওরবেন বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে ভালো মানসিক অবস্থার সংযোগের বিষয়টি বেশ জটিল। এখন পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে করা গবেষণায় মিশ্র ফলাফল পাওয়া গিয়েছে। তিনি আরো বলেন, মস্তিষ্কের বিকাশ ও বয়ঃসন্ধির মতো আমাদের শারীরিক পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সামাজিক পরিস্থিতি জীবনের নির্দিষ্ট সময়ে আমাদের দূর্বল করে তোলে। সবদিক থেকে আমরা কৈশরের সময়গুলোকে গুরুত্ব দিতে পারি কারন এসময়ই আমরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকি এবং কিছু আকর্ষনীয় প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে একে স্প্রিংরোল হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

Techshohor Youtube

গবেষকরা তাদের এ কাজের জন্য ৭২ হাজারের বেশি ব্যক্তির ওপর জরিপ পরিচালনা করেছেন। জরিপে অংশগ্রহনকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তারা জীবন নিয়ে কতোটা সন্তুষ্ট এবং সাধারনত দিনে তারা কতো সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে। ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এই ব্যাক্তিদের ওপরে মোট সাতবার জরিপ করা হয়।

সার্বিকভাবে তরুন-তরুনীদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার এবং জীবন সন্তুষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নেতিবাচক সম্পর্ক দেখা গিয়েছে। এর মধ্যে ১৬ থেকে ২১ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা দৈনিক তিন ঘন্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের তুলনায় সাত ঘন্টার বেশি ব্যবহারকারীদের মধ্যে জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কম।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকার ভবিষ্যতে জীবন সন্তুষ্টির ওপর কোন প্রভাব ফেলে কিনা তা বোঝার জন্য ১০ থেকে ২১ বছর বয়সী ১৭ হাজার ৪০৯ জন কিশোরের ওপর জরিপ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সী যেসব কিশোরী সর্বশেষ ১২ মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বাড়িয়েছে এক বছর পর তাদের মধ্যে জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কমেছে।

গবেষকরা বলছেন সবাই যে ঝুঁকিতে রয়েছেন এ গবেষণা তা বলছে না। তারা বলছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্টের ধরন এবং এর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করছেন যারা এসবের উপর ভিত্তি করেও কিশোরদের আচরনে প্রভাব পড়ে।

তবে কারো কারো ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সার্বিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে স্বীকার করেছেন গবেষকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তারা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সহায়তা চায়।

ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বার্নাডকা দুবিকা বলেছেন, ‘এটি খুবই চমৎকার একটি গবেষণা।  ক্লিনিক্যল চর্চায় আমরা ভুক্তভুগি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যেসব জটিলতা দেখতে পাই এখানে তা প্রতিফলিত হয়েছে এবং সর্বোপরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ক্ষতিকর নাকি ক্ষতিকর নয় এ ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকেও সরে আসা যায় এর মাধ্যমে। 

তিনি আরো বলেন, গবেষণাটি ২০১৮ সালের সময় অনুযায়ি সম্পন্ন হয়েছে। এরপর থেকে কিশোরদের জীবনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আরো বেশি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মহামারীর সময়ে। আবেগীয় জটিলতাগুলো আরো উল্লেখযোগ্য পরিমানে বেড়েছে; কিশোরীদের মধ্যে এই প্রবনতা বেশি দেখা গিয়েছে।’

বিবিসি/আরএপি

*

*

আরও পড়ুন