২০৪১ রূপকল্পের সঙ্গী হতে চায় গ্রামীণফোন

ছবি : ইয়াসির আজমান

দেশে শুধুই কী মুনাফা করে গেছে গ্রামীণফোন নাকি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছে? আসছে ফাইভজিতে তাদের পরিকল্পনা কী? কতদূর যেতে চায় তারা ? অপারেটরটির ২৫ বছরের যাত্রার সাফল্য-চ্যালেঞ্জ নিয়ে টেকশহর ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন গ্রামীণফোন সিইও ইয়াসির আজমান । সাক্ষাতকার নিয়েছেন টেকশহরের নির্বাহী সম্পাদক আল-আমীন দেওয়ান।

ইয়াসির আজমান গ্রামীণফোনের প্রথম বাংলাদেশী সিইও। তিনি অপারেটরটির সিএমও এবং ডেপুটি সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি টেলিনর গ্রুপের বিতরণ এবং ই-বিজনেস বিভাগের প্রধান এবং টেলিনরের হয়ে বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।

টেক শহর : দেশে গ্রামীণফোনের ২৫ বছর হলো। দীর্ঘ এই যাত্রায় উল্লেখযোগ্য কী ভূমিকা রেখেছে গ্রামীণফোন ?

Techshohor Youtube

ইয়াসির আজমান : গ্রামীণফোনের স্বপ্ন, টেলিনরের প্রযুক্তি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ইচ্ছা প্রান্তিক জনগণকে মোবাইল কানেক্টিভিটির মধ্যে নিয়ে আসা-সবমিলে একটা বড় স্বপ্ন। তখন স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশের মানুষ ১ টাকার নিচে মোবাইল ফোনে কথা বলবে এবং প্রান্তিক জনগণের কাছে মোবাইল ফোন যাবে।

এখন আপনি যদি বলেন, ২৫ বছরে আমরা কোথায় এসেছি ? আমি বলবো, ২৫ বছরে আমরা বাংলাদেশের মানুষকে কানেক্টেড করতে পেরেছি কিনা ? ১ টাকার নীচে বাংলাদেশের মানুষ মোবাইল ফোনে কথা বলতে পেরেছে কিনা ? ঘরে ঘরে কানেক্টিভিটি সলিউশন আছে কিনা ? তখন হয়তো ভয়েসটাকে চিন্তা করা হয়েছিলো আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রায় গ্রামীণফোন আসলে যোগ দিতে পেরেছে কিনা- এগুলো দিয়েই গ্রামীণফোনের ২৫ বছরেরর যাত্রাকে মূল্যায়ন করা উচিত। ২৫ বছর আগে প্রতি ১০০ জনে ৩ জন কানেক্টিভিটিতে ছিলো এখন পুরো বাংলাদেশই কানেক্টিভিটিতে।

টেক শহর : দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ গ্রামীণফোনের সরাসরি গ্রাহক ! দায়িত্বের পরিসরও বড়, কতোটুকু পূরণ করতে পেরেছেন ?

ইয়াসির আজমান : বাংলাদেশের এমন কোনো ঘর আছে যেখানে গ্রামীণফোনের প্রেজেন্স নাই ? প্রতিটি ঘরে গ্রামীণফোনের প্রেজেন্স আছে । গ্রামীণফোন মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে, গ্রামীণফোন মানুষের সাথে আছে ।

কারণ যে সামাজিক ক্ষমতায়ন কানেক্টিভিটির মাধ্যমে, যেটা শুরুতে দেখেছিলেন আমাদের উদ্যোক্তারা, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং টেলিনর নরওয়ের সহযোগীরা- সেটা হয়েছে কিনা ?

এই প্যান্ডেমিকে কীভাবে আমরা উতরে গেলাম ? কেউ একা কিছু করেনি, এমন না যে আমাদের কানেক্টিভিটি বা অন্য মোবাইল অপারেটরের কানেক্টিভিটি দিয়ে এই প্যান্ডেমিক সামলেছি, সরকারের বিশাল স্টিমুলাস ছিলো, মানুষের রেজিলিয়ান্স এটিটিউট ছিলো কিন্তু আমারা আমাদের কানেক্টিভিটি দিয়ে মানুষের সহযোগিতা করেছি ।

টেক শহর : আপনি বলছিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রায় যোগ দেয়ার কথা, একটু বিস্তারিত বলবেন ?

ইয়াসির আজমান : ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা শুনলাম, ২০২১ সাল লক্ষ্য । তখন অনেকে এটা নিয়ে ঠাট্টা করেছে। কিছুদিন আগে আমাদের মাননীয় মন্ত্রী বলছিলেন, ওনাকে নাকি গ্রামে গেলে ডিজিটাল মন্ত্রী বলতো, ঠাট্টা-তামাশা করতো। এখন যদি ফিরে তাকান তাহলে দেখবেন বিষয়টা অনেক দূরদর্শী চিন্তাধারা ছিলো।

কারণ ২০০৮ এ বাংলাদেশে টুজি কানেক্টিভিটি এবং এজ ইন্টারনেট ছিলো। প্রথম বাংলাদেশে থ্রিজি কানেক্টিভিটি আসে ২০১৩ সালে-৫ বছর আগে এই স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে ফোরজি আসে ২০১৮ সালে, তারমানে ১০ বছর আগে এই স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে। আমরা এখন বুঝতে পারি, যে কতো দূরদর্শী চিন্তাধারা ছিলো ।

শুরু থেকে আমাদের মনে হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের যে আত্মবিশ্বাস, যে বিশ্বাস গ্রামীণফোনের প্রতি এবং আমাদের যে প্রেজেন্স, আমরা যদি এই যাত্রার সাথী না হই, এটা আসলে আলাদাভাবে দেখার উপায় নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং গ্রামীণফোনের যাত্রা, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নের সঙ্গে যাওয়া ছাড়া এখানে কোনো অল্টারনেটিভ নেই, এখানে আমরা ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।

গ্রামীণফোন প্রধান কার্যালয়

টেক শহর : ডিজিটাল বাংলাদেশ যাত্রায় গ্রামীণফোনের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন হবে ?

ইয়াসির আজমান : ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে গ্রামীণফোনের সঙ্গী হওয়াটা অনেকভাবে মূল্যায়ন করা যায়। প্রথমত সরকারের সবরকম প্রক্রিয়াগুলো টেন্ডার-ভ্যাট, ই-নথি, অ্যাপ্রুভাল সবকিছু ডিজিটালাইজেশন হয়ে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে আমাদের হেলথ সেক্টর, এডুকেশন সেক্টর ডিজিটালাইজেশন হয়ে যাচ্ছে-এগুলো দিয়ে বৈষম্য দূর হবে। এটা একটা বড় ভূমিকা। এটা আমরা দেখতে পাচ্ছি যে হচ্ছে। এখন আমরা বলি কেন হচ্ছে ?

বাংলাদেশে ৬৫ হাজার প্রাইমারি স্কুল আছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার প্রাইমারি স্কুলে আমরা ওয়াইফাই কানেক্টিভিটি দিচ্ছি। এটা সরকারের উদ্যোগ কিন্তু সংযোগটা গ্রামীণফোন দিচ্ছে, আমরা অংশীদার। আমাদের এখানে কন্ট্রিবিশউন আছে আবার সরকারের এখানে বাজেট আছে।

এখানে ১০ মানুষও যদি এই ওয়াইফাইয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাহলে ৪ লাখ মানুষকে আমরা একবারে কানেক্টিভিটির আন্ডারে নিয়ে আসছি। এটা আনা মানেই হচ্ছে কোয়ালিটি এডুকেশন ম্যাটেরিয়াল তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়া, রাইট সার্ভিলেন্স করা, রাইট গভর্নেন্স করা, রাইট ফলোআপ করা-এটা বিশাল একটা এমপাওয়ারমেন্ট। ২০৪১ সালে যে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন সে বাংলাদেশ তো আজকের শিশুদের হাতে হবে, তারাই তো নেতৃত্ব দেবে।

আমরা গ্রামেগঞ্জে গিয়ে বাচ্চাদের ইন্টারনেটের শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছি, ২০১৫ সালে ইন্টারনেট উইক করেছি, থানায় থানায় গিয়ে আমরা ইন্টারনেটের ক্যাম্পেইন করেছি। তারপর আস্তে আস্তে আমরা ডিজিটাল যুগে পদার্পন করলাম, আমরা দেখেছি কীভাবে স্টার্টআপগুলো আসছে, ডিজরাপশন চলে আসছে ইকোসিস্টেমে, আমরা এক্সিলারেটর প্রোগ্রাম নিয়ে আসছি । বাংলাদেশ সরকার ডিজিটালাইজড করছে তাদের প্রসেসগুলোতে, ই-নথি করা, ভ্যাট-ট্যাক্স এগুলো সব ডিজিটালাইজ করা- আমরা দেখছি কানেক্টিভিটি ছাড়া তো কিছু হচ্ছে না।

দেশের প্রত্যন্ত একটি গারো কমিউনিটি গ্রামে গিয়ে দেখেছি, ছোট্ট গ্রামে সাড়ে ৩’শ ফ্রিল্যান্সার। যারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কাজ করছে। সেখানে একজন বলছিলো যে, মাসে ৩ হাজার ডলার আয় করে। এরমানে ডিজিটাল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে পুরো বিশ্ব আমাদের কাছে উম্মুক্ত হয়ে গেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের বড় স্বপ্নটা কী, যখন মধ্যস্বত্বভোগী কমে যাবে তখন একটি বৈষম্যহীন ট্রান্সপারেন্স একটা সমাজব্যবস্থা তৈরি হবে। যখন শহরের সুযোগ-সুবিধাগুলো গ্রামে নিয়ে যাওয়া যাবে।

এটা কিন্তু একটা অনেক বড় শক্তিশালী একটা স্বপ্ন, একটা বিশ্বাস যেটা বাংলাদেশকে উন্নত আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ একটি দেশে হিসেবে দাঁড় করাবে। সেখানে গ্রামীণফোনের ভূমিকা হচ্ছে প্রতিটি ঘরে ঘরে মানুষের বিশ্বাস রেখে কানেক্টিভিটি সলিউশন এবং ডিজিটাল সার্ভিসগুলো নিয়ে আসা। আমরা মনে করি আমরা চেষ্টা করছি এবং আমরা পারছি, আমাদের গ্রাহকরা এটা মূল্যায়ন করবে।

টেক শহর : অদূর ভবিষ্যতে আইওটি-এআইয়ের মতো প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের নিত্য সংযোগ ও জীবন-যাপন শুরু হবে, সেই সময়ের জন্য গ্রামীণফোন তৈরি ?

ইয়াসির আজমান : ভবিষ্যতে যেটা হবে, আইওটি ডিভাইস, এআই, কনেক্টিভিটি- এই তিনটি নিয়ে এসে আমাদের ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ড এবং ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড এর একটা ফিউশন তৈরি হবে। যেখানে আমরা এখন বলছি ৮ কোটি কানেকশন গ্রামীণফোনের তখন ৮ কোটি কানেকশনে আর কানেকশন হয়ে হবে ৩২ কোটি । কারণ গ্রাহকের কানেকশনের সঙ্গে সবকিছুই কানেক্টেড হবে, সবকিছুই সে মনিটর করবে ডিজিটাইলজড ওয়েতে। স্পিড, ট্রান্সপারেন্সি, এক্সেস টু ইনফরমেশন- এখুনি হবে। লাইভ, ওটা একটা বিশ্ব যার জন্য আমরা তৈরি হচ্ছি। আমরা ধাপে ধাপে এগুচ্ছি।

সাক্ষাতকার অনুষ্ঠান : গ্রামীণফোন সিইও ইয়াসির আজমান এবং টেকশহর ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক আল-আমীন দেওয়ান ।

টেক শহর : স্পেকট্রাম কেনা ও ফাইভজির জন্য প্রস্তুতি কেমন ?

ইয়াসির আজমান : বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে দরকার একটি স্ট্রং ফোরজি নেটওয়ার্ক। যেখানে আমাদের যে প্রয়োজনগুলো, সরকারি ডিজিটাল সেবাগুলো নেয়া, বিনোদনের জন্য স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলো নেয়া, ট্রান্সপোর্টের জন্য যেটা দরকার, ই-কমার্সের জন্য যেটা দরকার-সেগুলো কিন্তু ফোরজিতে ভালোভাবেই আমরা পারছি এবং পারবো।

এবার ২৩০০ এবং ২৬০০ ব্যান্ডে যে অকশন হচ্ছে, এই ব্যান্ডগুলো ফোরজিকে শক্তিশালী করতে অনেক সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশের মানুষ ফোরজি নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হিসেবে পাওয়ার দাবি রাখেন, আমরা ওইদিকে মনোযোগ দিচ্ছি। একই সঙ্গে আগামী ৬ মাসের মধ্যে আমরা ফাইভজি ট্রায়াল এন্ড টেস্টে যাবো ।

কিছু কিছু ইউজ কেইস আমাদের লাগবে, এক্ষেত্রে বিটিআরসির সঙ্গে কাজ চলছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে একটি সংলাপের মধ্যে রয়েছি। একটা বিজনেসে অনেক প্রবলেম থাকে, প্রবলেম যে নাই আমাদের তা বলবো না কিন্তু আমরা বেশ ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

ডিভাইসের ইকোসিস্টেম কেমন হবে, ফাইবারের কেমন হবে, টাওয়ার আমরা কীভাবে করবো ? কারণ ফাইভজিতে অনেক বেশি টাওয়ার প্রয়োজন হবে। এগুলো সমাধান করে যদি ৬ মাসের মধ্যে টেস্ট ও ট্রায়াল করতে পারি তখন আস্তে আস্তে আমরা ফাইভজি ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আসবো।

একটা কথা মনে রাখতে হবে, ফাইভজির ব্যবহার ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড, ব্যক্তিগত জীবনে না। গার্মেন্টেসে এফিসিয়েন্সি কীভাবে আনবেন, মেশিন কীভাবে অটোমেটেড করবেন, ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি, পোর্ট, এয়ারপোর্ট-এইসব জায়গায় ফাইভজি কাজে দেবে।

আর এই বিষয়গুলোই ডেভেলপ করতে আমরা নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।

টেক শহর : অনেক দেশেই টেলিনর তাদের কার্যক্রম বন্ধ করেছে আবার কোথাও মার্জ হয়েছে দেখা যায়। বাংলাদেশে টেলিনর-গ্রামীণফোন ২৫ বছর পেরোলো, এখানে গন্তব্য কতোদূর ?

ইয়াসির আজমান : আসলে প্রযুক্তি দুনিয়া খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে । ডিজিটালাইজেশনে যে রকম সার্ভিস ও ইনোভেশন নিয়ে আসা দরকার মানুষের জন্য, সেখানে যদি আমাদের শক্তির সঙ্গে আরেকজনের শক্তি একসঙ্গে করে ইনোভেশন এনে মানুষের জীবনে প্রবলেম সলভ করা যায়, টেলকো-টেক হিসেবে মার্জ করা যায় পরবর্তী ধাপের জন্য-এই ধরনের চিন্তাধারা হতে বিভিন্ন বাজারে মার্জটা দেখা যায়।

বাংলাদেশে গ্রামীণফোন ইতোমধ্যে এই ভূমিকা পালন করে এবং সামনে এটা করবে। যে কথাটা আসছে, বাংলাদেশ কতোদিন টেলিনর আছে ?

টেলিনরের জন্য বাংলাদেশে গ্রামীণফোন খুবই স্পেশাল একটি অপারেশন। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে টেলিনর এশিয়া হেড এসেছিলেন, আমাদের গ্রামীণফোনের চেয়ারম্যান ইয়র্গেন সি অ্যারেন্টজ রোস্ট্রাপ- উনি যে কথাটা বলেছিলেন, এটা খুবই স্পেশাল। টেলিনর এশিয়াতে এসেছেই বাংলাদেশে প্রথম অপারেশন নিয়ে। এক্ষেত্রে টেলিনরের কমিটমেন্ট খুব উচুঁতে।

আপনি যদি বলেন কতোদিন ? এর কোনো নাম্বার নাই। বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের জনগণ যতদিন টেলিনরকে চাইবে টেলিনর ততো থাকবে, বিনিয়োগ করে যাবে। ২০৪১ সালের যে রূপকল্প বাংলাদেশের সে ভিশনের সঙ্গে থাকবে গ্রামীণফোন।

*

*

আরও পড়ুন