ইউক্রেনে পৌঁছলো ইলন মাস্কের স্টারলিংক টার্মিনাল

ছবি: বিবিসি

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কোম্পানি স্টারলিংকের ডিশভর্তি (টার্মিনাল) একটি লরি ইউক্রেনে এসে পৌঁছেছে। কোম্পানিটির পরিচালক ইলন মাস্ককে এজন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী মাইখাইলো ফেডরভ।

লরিটির গন্তব্য কোথায় তা সঠিক জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে এগুলো ইউক্রেন সরকারের ব্যবহারের জন্য। এই মুহুর্তে ইউক্রেনের ইন্টারনেট ব্যবস্থা বেশ ভালো হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো নাজুক হলে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ দূর্বল হয়ে পড়তে পারে। এ অবস্থায় দেশটির ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা ব্যাক-আপ ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের কাছেই ডিশগুলো রাখার চেষ্টা করছে।

স্টারলিংক কতোটা উপকারী হবে?

Techshohor Youtube

এলভিভ আইটি ক্লাস্টারের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা স্টিপান ভেসেলভস্কির মতো ব্যবসায়িরা নিজেদের হাতে আরো বেশি টার্মিনাল রাখতে চাচ্ছেন; কিন্তু তা খোঁজে পাওয়া কঠিন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা রিসিভার কেনার চেষ্টা করছি কিন্তু পাওয়াটা সহজ নয়।

এই মুহুর্তে ইউক্রেনের বেশিরভাগ শহরে ইন্টারনেট বেশ ভালোভাবেই কাজ করছে। কিন্তু কোন কারনে নেটওয়ার্ক ফেল করলে কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জরুরি পরিকল্পনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

ইউক্রেনে ইন্টারনেটের গতি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান নেটব্লক বিবিসিকে জানিয়েছে, কিছু কিছু অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। লুহানস্ক ওবলাসের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কেন্দ্র সিভিয়েরেডোনেস্ক এরমধ্যে অন্যতম। নেটব্লক গত সোমবার রাতে জানিয়েছে, ‘পরিবারের সদস্যরা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না।

তবে স্টারলিংককে ফোনের নেটওয়ার্ক এবং ব্রডব্যান্ডের বিকল্প হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন নেটব্লকের আল্প টোকার। তিনি বলেন, ‘স্টারলিংক একটি ব্যাক্তিগত হটস্পট তৈরি করে ডিভাইসের আশেপাশে থাকা ব্যাক্তিদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে দিতে পারে। ফলে সংবাদিক, বিদ্রোহি দল এবং নির্বাচিত সরকারের জন্য এটি খুবই উপকারী।’

তিনি আরো বলেন, কিয়েভ যদি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তাহলে গোটা বিশ্বের সংবাদ জানার জন্য এই ডিভাইস সবচেয়ে কার্যকর হবে।

এটি নিরাপদ কিনা?

অনেকেই যুদ্ধের সময় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন, তারা বলছেন এসব টার্মিনাল রুশবাহিনীর হামলার শিকার হতে পারে।

সিটিজেন ল্যাবের জেষ্ঠ্য গবেষক জন স্কট-রায়ালটন বলেছেন, ইলন মাস্কের সাহায্যের প্রস্তাব ‘আপাতত দৃষ্টিতে খুব ভালো। তবে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ স্যাটেলাইট যোগাযোগ স্থাপনায় হামলা করে মানুষের ক্ষতি করার বহুদিনের অভ্যাস রয়েছে।  এছাড়া উপর দিয়ে চলা ড্রোনের সাহায্যে ব্যাক্তিকে শনাক্ত করে হামলা করারও ঝুঁকি রয়েছে।

স্টারলিংক কিভাবে কাজ করে?

ডিশগুলোয় প্লাগ দিলেই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আকাশে থাকা নিটকস্থ স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সঙ্গে নিজে নিজেই সংযুক্ত হয়ে যাবে। এরপর স্যাটেলাইটটি কাছাকাছি থাকা গ্রাউন্ড স্টেশন অথবা গেটওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে; যার মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ হবে। পুরো বিশ্ব জুড়েই এ ধরনের গেটওয়ে রয়েছে, তবে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়ার জন্য সংযোগকেন্দ্র থেকে গেটওয়েগুলোর দূরত্ব কাছাকাছি হতে হবে। সৌভাগ্যবশত ইউক্রেনের প্রতিবেশি পোল্যান্ডে একটি গেটওয়ে রয়েছে।

গেটওয়ে হয়ে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পর টার্মিনালে পাওয়া যায় ইন্টারনেট সংযোগ। ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র তাদের রাউটারের প্লাগ সংযুক্ত করেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। এরআগে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটগুলোর মূল সমস্যা ছিলো বিলম্ব। কিন্তু স্টারলিংকের উপগ্রহের নক্ষত্রপুঞ্জ তুলনামূলক নতুন প্রযুক্তি। এগুলো পৃথিবীর নিম্নস্থল থেকে কাজ করে, ফলে যেকোন বিলম্ব সেকেন্ডের পরিবর্তে মিলিসেকেন্ডে গননা করা যায়। ভালোভাবে কাজ করার জন্য আকাশ পরিস্কার থাকতে হবে। টার্মিনালটি উপযুক্ত স্থানে রাখতে সহয়তার জন্য একটি অ্যাপও রয়েছে।

ইলন মাস্কের স্টারলিংকের এই টার্মিনাল বেশ ব্যয়বহুলও। যুক্তরাজ্যে এরজন্য ৪৯৫ পাউন্ড খরচ হয় এবং প্রতিমাসে সাবসক্রিপশন বাবদ ৮৯ ডলার দিতে হয়। তবে ইউক্রেনকে এ জন্য অর্থ দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলেনি স্টারলিংক।

আর কোন বিকল্প আছে?

এই অঞ্চলে স্টারলিংকই একমাত্র স্যাটেলাইট কোম্পানি নয়। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট কোম্পানি ভায়াসেট বলেছেন, ইউক্রেনে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার হামলার দিন ‘একটি সাইবার ইভেন্ট’ ব্রডব্যান্ড সেবাকে প্রভাবিত করেছিলো। তবে এর পরোক্ষ কারণ সম্পর্কে কিছু জানায় নি কোম্পানিটি।

সিএনবিসিকে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ইউরোপীয় নেটওয়ার্ক ও সিস্টেমগুলো নিয়ে আমরা তদন্ত করে দেখছি। আমরা ভুক্তভোগি গ্রাহকদের পরিষেবা পুনরুদ্ধারের সময় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহন করেছি যাতে করে পরবর্তীতে এ ধরনের সমস্যা আর নয়।’

বিবিসি/আরএপি

*

*

আরও পড়ুন