জাপানে টয়োটার উৎপাদন হঠাৎ বন্ধ

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: জাপানের গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টয়োটা মঙ্গলবার তাদের স্থানীয় সব উৎপাদন কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ কারখানায় সাইবার হামলা হয়েছে এমন সন্দেহের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ গাড়ি বিক্রেতা এ কোম্পানিটি। সাইবার হামলার পেছনে কে রয়েছে তা খোঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জাপানের স্থানীয় গণমাধ্যম নিক্কেইতে সর্বপ্রথম টয়োটার কার্যক্রম বন্ধ করা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। নিক্কেইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয় যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী কোজিমা ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন ধারণা করছে তারা সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। আর এ কারনেই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।  তবে মঙ্গলবারের পরেও কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে কিনা সে বিষয়ে কিছু জানায় নি টয়োটা।

টয়োটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্লাস্টিক পার্টস এবং ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী একটি কোম্পানি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আর এ কারনে পুরো একদিন কারখানা বন্ধ রাখার ফলে প্রায় ১৩ হাজার গাড়ি উৎপাদন পিছিয়ে গিয়েছে।

Techshohor Youtube

বার্তা সংস্থা এএফপিকে টয়োটা জানিয়েছে, জাপানে একটি সরবরাহকারীর সিস্টেম ফেইলরের কারণে স্থানীয় পর্যায়ের ১৪টি কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।’

চলতি বছর ৮৫ লাখ গাড়ি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে টয়োটা। তবে একদিন গাড়ি উৎপাদন বন্ধ থাকার কারনে কোম্পানিটির লক্ষ্য পূরণ কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। এমনিতেই বিশ্বের অন্যান্য গাড়ি নির্মাতার মতো টয়োটাও সেমি-কন্ডাক্টর ঘাটতিতে সমস্যায় রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অর্থপরিশোধ ব্যবস্থা সুইফট থেকে রাশিয়ার ব্যাংকগুলোকে অপসারন করা নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের কার্যক্রমে সমর্থন এবং ইউক্রেনে রুশ হামলার মধ্যে দেশটিকে ১০০ মিলিয়ন ডলার অর্থসহায়তা দেয়ার একদিন পরেই জাপানের যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী কোম্পানিটি সাইবার হামলার শিকার হলো।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন এই সাইবার হামলার পেছনে রাশিয়ার হাত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। সাংবদিকদের তিনি বলেছেন, ‘এখানে রাশিয়ার হাত রয়েছে কিনা তা খুব ভালোভাবে অনুসন্ধান করার আগে বলা কঠিন।’

‘সময়মতো’ পণ্য সরবরাহের জন্য টয়োটার বেশ সুনাম রয়েছে। ফলে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ি সরবরাহকারীরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে থাকে এবং কোম্পানিটি সাধারনত পণ্য মজুদ করে রাখে না। এতে করে কোম্পানির দক্ষতা বৃদ্ধি যেমন হয় তেমনি বর্জ্যও তুলনামূলক কম উৎপাদিত হয়। তবে কোভিড-১৯ মহামারীর মতো ইস্যুগুলোর কারনে দীর্ঘসময় সরবরাহ শৃঙ্খল বন্ধ থাকলে কোম্পনিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সম্প্রতি উত্তর আমেরিকাতেও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করেছিলো টয়োটা। কানাডায় বিক্ষোভরত ট্রাকচালকরা যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার একটি রাস্তা বন্ধ করে দিলে এ সিদ্ধান্ত নেয় কোম্পানিটি।

রয়টার্স, বিবিসি/আরএপি

*

*

আরও পড়ুন