অবৈধ ভিওআইপি, প্রশাসনিক জরিমানার মুখে টেলিটক

আল-আমীন দেওয়ান : অবৈধ ভিওআইপি ইস্যুতে টেলিটককে কারণ দর্শাতে বলছে বিটিআরসি।

অবৈধ ভিওআইপির অভিযানে জব্দকৃত বেশ কিছু সিম নিবন্ধনের তথ্য সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্লাটফর্মে (সিবিভিএমপি) না থাকায় মূলত এ কারণ দর্শানোর নোটিশ।

এতে টেলিটককে কেনো প্রশাসনিক জরিমানা করা হবে না তার কারণ দর্শাতে বলা হচ্ছে।

Techshohor Youtube

তবে টেলিটক বলছে, অবৈধ ভিওআইপি’র সঙ্গে তারা সরাসরি কোনোভাবেই জড়িত নয়। হোয়াটসঅ্যাপ-ভাইবারের এই সময়ে ভিওআইপিতে বারবার টেলিটকের সিম পাওয়াকে যড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন তারা। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন।

বিটিআরসি জানায়, অবৈধ ভিওআইপির অভিযানে জব্দ হওয়া ৩ হাজার ১৫২ সিম বিটিআরসি সিবিভিএমপি সিস্টেমে মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইএসডিএন-এর তথ্য যাচাই করে বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছেন তারা।

যেখানে দেখা যায় বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ছাড়াই অবৈধ ভিওআইপির জন্য সিম নিবন্ধন হয়েছে এবং তা এক্টিভ করেছে টেলিটক।

বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের আগে কোনো সিম বা সিম এক্টিভেশন, রি-এক্টিভেশন, ডি-এক্টিভেশন বা প্রতিস্থাপন করা যাবে না।

এখানে এই নির্দেশনার ব্যত্যয় দেখছে বিটিআরসি।

অবৈধভাবে কল আদান-প্রদান, সিম বা রিম নিবন্ধন এবং বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পর্কিত বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধ ভিওআইপির বিরুদ্ধে অভিযানে জব্দ অবৈধ কল আদান-প্রদানে ব্যবহার করা প্রতিটি সিমের জন্য সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন অপারেটরকে ১০ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা করা হবে।

এছাড়া এসব সিম নিবন্ধনের সময় হতে অপারেটরগুলো যত ধরণের আয় করেছে তার কমিশন সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

ফলে কেনো টেলিটককে এই প্রশাসনিক জরিমানা করা হবে না তার কারণ জানাতে চেয়েছে বিটিআরসি।

অবৈধ ভিওআইপির সন্ধানে বিটিআরসি ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে বেশিরভাগ সময়ই টেলিটকের বিপুল সিম জব্দ হতে দেখা যায়।

এই দু’দিন আগে ১১ ফেব্রুয়ারিও চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় অবৈধ ভিওআইপির অভিযানে শত-শত টেলিটকের সিম উদ্ধার করা হয়।

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে অবৈধ ভিওআইপির অভিযানে উদ্ধারকৃত টেলিটক সিম

যদিও সম্প্রতি টিআরএনবির সঙ্গে এক বৈঠকে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন বেশ জোরের সঙ্গেই বলেছেন, টেলিটকের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অবৈধ ভিওআইপিতে জড়িয়ে অভিযোগ তোলা হয়। এটা ঠিক নয়, এটা অবাস্তব ও ভিত্তিহীন।

ওই বৈঠকে টেলিটকের সদ্য সাবেক মহাবব্যস্থাপক (সেলস অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন) প্রকৌশলী এসকে ওয়াহিদুজ্জামান বলছিলেন, অভিযানে উদ্ধার হওয়া সিমগুলো পরীক্ষা করে দেখো হয়েছিলো, সেগুলোর অনেকটাই কয়েক বছর আগে নেয়া সিম। অথচ সেসব সিমের প্যাকেট এতেটা নতুন যে, মনে হয় কয়েকদিন আগে নেয়া সিম। কেউ কী বছরের পর বছর সিমের প্যাকেট জমিয়ে রাখে !

তিনি বলেছিলেন, অপারেটর হিসেবে টেলিটক গ্রাহকের কাছে সিম বিক্রি করে। এখন গ্রাহক এর ব্যবহার কীভাবে করছে সে দায় কীভাবে টেলিটকের ? সেটার দায় তো গ্রাহকের।

টেলিটকের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মহাব্যবস্থাপক বলেছিলেন , তারা অবৈধ ভিওআইপি নিয়ে টেলিটকের সিম ব্যবহারের প্রমাণ পেলে তা কোন গ্রাহকের এবং বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দিয়ে থাকেন। এছাড়া টেলিটকের কোনো ডিলারের সংশ্লিষ্টতা পেলে তার ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও তারা নিয়ে থাকেন।

এদিকে দেখা যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরেই রহস্যজনকভাবে বিপুল পরিমানে টেলিটকের সিম দিয়ে অবৈধ ভিওআইপি করার বিষয়টি সামনে আসছে। সিম বায়োমেট্রিকসহ প্রযুক্তির রূপান্তরের সময়েও এটি যেন কমছেই না।

টেলিটক কর্তৃপক্ষ এখানে ষড়যন্ত্র দেখছেন ।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বিটিআরসির অভিযানে জব্দ করা হয় ৯০০ টেলিটক সিম। এসব সিম দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩০ হাজার মিনিট হারে অবৈধ ভিওআইপি কল করা হতো। দেড় বছর ধরে চক্রটি এই অবৈধ ভিওআইপি করে আসছিলো। এই হিসাবে এখানেই প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় সরকার।

একই বছরের ফেব্রয়ারিতে শুধু টেলিটকের ৩৪০০ সিম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভিওআইপি চালানো এক চক্রকে ধরে বিটিআরসি ও র‌্যাব।

এরআগে একবার টেলিটকের ৭৭ হাজার ৫৯০টি সিম অবৈধ ভিওআইপির কারণে বন্ধ করা হয়েছিলো। ২০১৮ সালের নভেম্বরে সিডিআর অ্যানালাইজার ও জিও-লোকেশন ডিটেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে ওই সিমগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলো বিটিআরসি।

আরও পড়ুন

টাওয়ার শেয়ারিংয়ে টেলিটক-সামিট টাওয়ার্স চুক্তি

সেবার মান বাড়াতে নানা উদ্যোগ টেলিটকের, বাড়ছে গ্রাহক

বাতিল হলো ৭২৯ ভিওআইপি লাইসেন্স

অবৈধ ভিওআইপির দায় নেবে না টেলিটক, ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

*

*

আরও পড়ুন