একসঙ্গে ৪০ স্যাটেলাইট বিধ্বস্ত

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের কয়েক ডজন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের একদিন পরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের আঘাতে এই স্যাটেলাইটগুলো কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং পুড়ে গিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন স্যাটেলাইটের কোন অংশ পৃথিবীতে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা নেই।

এ ধরনের সৌর ‘ঝড়’ মূলত সূর্যের পৃষ্ঠে শক্তিশালী বিস্ফোরণের কারনে ঘটে। এ ধরনের বিস্ফোরনে পৃথিবীকে আঘাত করতে পারে এমন প্লাজমা ও চৌম্বক কণাগুলো ছিটকে পড়ে।

স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে উৎক্ষেপিত ৪৯টি স্যাটেলাইটের মধ্যে ৪০টিই আঘাতপ্রাপ্ত। এগুলো তাদের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিলো। 

Techshohor Youtube

উল্লেখ্য, স্টারলিংকের মাধ্যমে কয়েক হাজার প্রদক্ষিণকারী উপগ্রহ ব্যবহার করে উচ্চ-গতির ইন্টারনেটসেবা দেয়া হবে। এই ব্যবস্থাটি তুলনামূলক ব্যয়বহুল; তবে তারের সংযোগ দেয়া সম্ভব নয় এমন স্থানে এটি ব্যবহার করা যাবে। যেমন: জানুয়ারিতে টঙ্গায় ভূমিকম্পে দ্বীপরাষ্ট্রটির সমুদ্রতলদেশের ডাটাক্যাবল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ডাটাক্যাবল পুনরায় চালু করতে ফিজির কাছাকাছি স্টারলিংকের একটি স্টেশন নির্মান করা হচ্ছে।

স্পেসএক্সের উৎক্ষেপিত সর্বশেষ ৪৯টি স্যাটেলাইট পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ২১০ কিলোমিটার ওপরে স্থাপন করা হয়েছিল। স্পেসএক্স এ প্রসঙ্গে জানিয়েছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্যাটেলাইটগুলো উৎক্ষেপনের পর ‘এর প্রতিটিই কনট্রোলট ফ্লাইট পেয়েছিলো।’ এর একদিন পরেই ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় পৃথীবিকে আঘাত করে। এই ঝড় বায়ুমন্ডলকে গরম করে তুলে এবং এর ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, ‘চলমান জিপিএসের মাধ্যমে জানা গিয়েছে ঝড়ের ক্রমবর্ধমান গতি ও তীব্রতার কারনে বায়ুমন্ডলের ঘনত্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের পূর্বসময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে।’ স্পেসএক্স এখন স্যাটেলাইটগুলো ‘সেফ মোডে’ রাখার চেষ্টা করছে।

সিএনএন, বিবিসি/আরএপি

আরও পড়ুন

এক রকেটে ১৪৩ স্যাটেলাইট পাঠালো স্পেসএক্স

ইন্টারনেটের গতি বাড়াবে স্পেসএক্সের ৬০ স্যাটেলাইট

জাকারবার্গকে খোঁচা দিলেন ইলন মাস্ক

*

*

আরও পড়ুন