vivo Y16 Project

মিথ্যা বললেই ধরে ফেলবে প্রযুক্তি

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: ইসরায়েলের তেল আবিব ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হানিয়েন এবং অধ্যাপক দিনো লেভির নেতৃত্বে গবেষণা করা একটি দল মিথ্যা শনাক্তকরনের নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। তারা বলেছেন, মুখমন্ডলে স্থাপিত ইলেক্ট্রোডের মাধ্যমে তারা দুইধরনের মিথ্যাবাদীকে শনাক্ত করতে পারেন। যখন কেউ ধাপ্পা দেয় তখন তাদের ভ্রুদুটি অনিচ্ছাকৃতভাবে নাচানাচি শুরু করে দেয় এবং যারা খুব সামান্য ঠোটের নাড়াচারাই নিয়ন্ত্রন করতে পারে না ,তাদের ঠোট গালের সঙ্গে মিশে যায়।

তাদের আবিষ্কৃত সফটওয়্যার এবং এর অ্যালগরিদম (গানিতিক পরিভাষা) ৭৩ শতাংশ মিথ্যা শনাক্ত করতে পারে। তারা এই সফটওয়্যারটি আরো উন্নত করতে চাইছে।

অধ্যাপক লেভি বলেছেন, ‘যখন আপনি কোন মিথ্যা লুকানোর চেষ্টা করেন তখন আপনি যেসব বিষয় এড়িয়ে যেতে চান তার মধ্যে শরীরের অভিব্যক্তি একটি।’

Techshohor Youtube

তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির কাছে মিথ্যা কথা লুকানো খুব খুব কঠিন হবে।

বহুদিন আগে থেকেই মিথ্যা কথা বা মিথ্যাবাদীকে শনাক্ত করতে নানা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যেমন, খিস্টপূর্বাব্দে চীনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সন্দেহভাজনকে মুখের ভেতর শুকনো চাল নিয়ে চিবুতে বলা হতো। বেশ কিছুক্ষণ চিবানোর পর চালগুলো পরীক্ষা করে দেখা হতো। যদি মুখের ভেতরের চাল শুকনোই থাকে তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে দোষী সব্যস্ত করা হয়। এর পেছনে যে তত্ত্বটি ছিলো তা হচ্ছে, যদি সন্দেহভাজন ব্যক্তি সত্যিই মিথ্যে বলে থাকে তাহলে ভয়ে তার মুখের ভেতর শুকিয়ে যাবে ফলে চালগুলোও শুকনো থাকবে।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সর্বপ্রথম মিথ্যা কথা শনাক্তের মেশিন বা পলিগ্রাফ তৈরি হয়। এরমধ্যে ‘এনালগ পলিগ্রাফ’ ছিলো সবচেয়ে জনপ্রিয়। যেখানে তিন থেকে চারটি কালিভর্তি সূচ চলমান কাগজে গোল হয়ে নাচতে থাকে। সন্দেহভাজনের আঙ্গুলে সেন্সর লাগানো থাকে এবং মেশিনটি তার শ্বাস-প্রশ্বাসের হার, হৃদকম্পনের গতি, রক্তচাপ এবং ঘাম পরিমাপ করে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেয়। কিন্তু এরপরেও এই মেশিনগুলের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। ফলে গবেষক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চপ্রযুক্তির পলিগ্রাফ সিস্টেম তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছেন। 

নেদারল্যান্ডসের রটারডামের ইরাসমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.সেবাস্তিয়ান স্পির ও তার দল এমআরআই (ম্যাগনেটিক রিসোন্যান্স ইমেজিং) মেশিন ব্যবহার করে মিথ্যাবাদী বা প্রতারককে শনাক্ত করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। সন্দেহভাজনকে প্রশ্ন করার পর তার মস্তিষ্কের রং পরিবর্তনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তারা মিথ্যেবাদীকে শনাক্ত করেন।

উতাহভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কনভেরাসের আইডিটেক্ট মিথ্যা শনাক্তকরন উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রটি এরই মধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। মিথ্যা শনাক্তকরনের জন্য যন্ত্রটি চোখের অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়ার ওপর গুরুত্ব দেয়।  কোন একটি বিষয় নিয়ে সত্য বা মিথ্যা এবং হ্যাঁ অথবা না উত্তর দিতে বলা হয়। প্রশ্নের উত্তরের দেয়ার সময় আই ট্র্যাকিং সফটওয়্যারপি উক্ত ব্যক্তির অভিব্যক্তিগুলো পর্যবেক্ষণ করতে থাকে এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফলাফল বলে দেয়। দাবি করা হচ্ছে এই ফলাফল ৮৬ থেকে ৮৮ শতাংশ সঠিক। কনভেরাসের জানিয়েছে, তাদের এই যন্ত্রপি অর্ধশতাধিক দেশের ৬০০ গ্রাহক ব্যবহার করছে। যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫টি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা রয়েছে।

অন্যদিকে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আশা করছেন তারা ক্রমে ইলেক্ট্রোডগুলোর জায়গায় ভিডিও ক্যামেরা এবং সফটওয়্যারের প্রতিস্থাপন করবেন; ফলে দূর থেকে এমনকি ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে মুখের মাংসপেশির নড়াচড়ার ওপর ভিত্তি করে মিথ্যাবাদীকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

বিবিসি/আরএপি

*

*

আরও পড়ুন