vivo Y16 Project

ইহাকে চিপ বলে!

প্রায় সব ধরনের প্রযুক্তিপণ্য তৈরিতেই সেমিকন্ডাক্টর লাগে। কোনোটিতে একটি, আবারো কোন কোনটিতে শতাধিক। যন্ত্রাংশটি আকারে ছোট হলেও এর তৈরি প্রক্রিয়া, ডিভাইসে ব্যবহার, এবং কার্যকারিতাকে কিন্তু ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বিজনেস টুডে অবলম্বনে করা পিংকী রাবেয়া-র এই প্রতিবেদনটি পড়লেই তা পরিস্কার হবে অনেকটাই

কম্পিউটিং ডিভাইস থেকে শুরু করে সবধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি, অটোমোটিভ, স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম, ডাটা সেন্টার থেকে মহাকাশের স্যাটেলাইট- এ রকম আধুনিক সব ইলেক্টনিক ডিভাইস এবং উদ্ভাবনে সেমিকন্ডাক্টরই প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে। মূলত যে কোন আধুনিক ইলেক্ট্রনিক সামগ্রির ব্রেইন বা মস্তিষ্ক হিসেবে পরিচিত চিপ, মাইক্রোচিপ অথবা আইসি-ই সেমিকন্ডাক্টর। 

Techshohor Youtube

সহজ পাঠে সেমিকন্ডাক্টর

ইন্ডিয়া ইলেকট্রনিক অ্যান্ড সেমিকন্ডাকটর অ্যাসোসিয়েশনের (আইইএসএ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও কৃষ্ণ মারুথি সেমিকন্ডাক্টরের বিষয়টি খুব সহজে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস। এই ডিভাইস আমাদের ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর শক্তি হিসেবে অথবা ডিভাইসের কোন একটি যন্ত্রের নিয়ন্ত্রন করে থাকে। এছাড়াও তথ্য ও ডাটাকে আমাদের চোখ এবং কানের ব্যবহার উপযোগি করে প্রক্রিয়া করে এই সেমিকন্ডাক্টর। 

প্রযুক্তিপন্য তৈরিতে কতটি চিপ লাগে?

একটি পণ্যে একাধিক চিপ ব্যবহার করতে হয়। তাই এক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট নিয়মনীতি থাকে না। এছাড়া একটি ডিভাইসে কোন ধরনের চিপ ব্যবহার করা হবে তার কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। সবকিছুই পণ্যটির ধরনের ওপর নির্ভর করে। যেমন, ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশে এর মোটরের গতি নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি চিপ থাকে। ইলেক্ট্রিক শেভার অথবা কোন খেলনার ক্ষেত্রেও একইরকম। অন্যদিকে একটি স্মার্টফোনে একডজনের ওপরে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চিপ থাকে।

এছাড়া মাঝারি আকারের গাড়িতে কমপক্ষে ১০টি প্রসেসর চিপ এবং প্রায় ৩০-৪০টি সেমিকন্ডাক্টর চিপ থাকে। আরো আধুনিক প্রযুক্তির গাড়িতে শতাধিক চিপ থাকতে পারে; ইগনেশন পাওয়ার ডিভাইস, অডিওর জন্য চালকের সামনে এলইডি প্যানেল এবং ভিডিও সিগনাল প্রক্রিয়ার জন্য সেমিকন্ডাক্টর ব্যবহার করা হয়। ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রনকারী ডিভাইস এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীন ব্যবস্থা ও সর্বত্তোম কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করতে অনেক প্রসেসর চিপ ব্যবহার করা হয়।প্রতিরক্ষা যোগাযোগ ব্যবস্থায় হাজার হাজার যন্ত্রাংশ থাকে। মহাকাশযানে এর চেয়েও বেশি থাকে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যন্ত্র জটিল এবং অনেক ভিন্ন।

তৈরি কিন্তু সহজ নয়!

সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারের প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে যুক্ত দেশ ও কোম্পানিগুলোর নাম উল্লেখ করা বেশ সময়সাপেক্ষ বিষয়। এসএসআইআইয়ের এমডি বালাজি সৌরিরাজন বলেছেন, ‘এটি মূলত চিপটি তৈরির জটিলতার ওপর নির্ভর করে। প্রকৃত উৎপাদনের কথা বলতে গেলে এটি ১৫ থেকে ১৮ মাস সময় নিতে পারে। তুলনামূলক কম জটিল চিপগুলো উৎপাদনে ৮-১২ মাস সময় লাগে।’

বিশুদ্ধ উপাদানে তৈরি সেমিকন্ডাক্টরগুলো সিলিকন অথবা জার্মানিয়াম অথবা গ্যালিয়াম আর্সেনাইডের মতো যৌগে তৈরি। এই যৌগ তৈরির সময় সামান্যমাত্রায় ইমপিউরিটিস অথবা অমেধ্য যোগ করা হয় যাকে ডপিং বলা হয়।  এই অমেধ্য যোগ করার ফলে উপাদানের পরিবাহতায় বড় পরিবর্তন ঘটায়।

ডিভাইসভেদে ধরন

বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসে নানারকমের চিপ ব্যবহার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এগুলোকে মেমোরি চিপ, মাইক্রোচিপ, স্ট্যানডার্ড চিপ এবং কমপ্লেক্স সিস্টেমস অন এ চিপ (এসওসিএস) বলা হয়। যখন এগুলো ইন্টেগ্রেডেট সার্কিউট ধরনের সঙ্গে সংঘঠিত হয় তখন তা হয় ডিজিটাল, অ্যানালগ ও মিক্সড। বর্তমানে পুরো বিশ্বজুড়ে ১০০ বিলিয়নের বেশি ইন্টেগ্রেটেড সার্কিট রয়েছে । 

*

*

আরও পড়ুন

vivo Y16 Project