লাইসেন্সে ফাইভজির নতুন শর্ত, ভিন্নমত মোবাইল অপারেটরদের

5G-techshohor

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ফোন অপারেটর লাইসেন্স গাইডলাইনের খসড়ায় ফাইভজির নতুন শর্তগুলো নিয়ে মতামত দেয়নি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

মঙ্গলবার এই মতামত দেয়ার শেষ সময় ছিলো।

সম্প্রতি বিটিআরসি টুজি, থ্রিজি এবং ফোরজি প্রযুক্তি একীভূত করে সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর লাইসেন্স গাইডলাইনের খসড়া প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করে। যা দ্রুত চূড়ান্ত করার পরিকল্পনায় রয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

Techshohor Youtube

এরমধ্যে বিটিআরসি এই খসড়া লাইসেন্স গাইডলাইনে ফাইভজি সেবা চালুর জন্য নতুন কিছু শর্ত যোগ করে। আর এসব শর্তের বিষয়ে খাত সংশ্লিষ্টদের মতামতও চায় তারা।

মতামতের জন্য মোবাইল অপারেটরদের এই খসড়া দেয়া হয় ২০ জানুয়ারি।

যেখানে মোবাইল ফোন অপারেটররা বলছেন তারা এসব শর্ত নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছেন না। প্রথমত তারা পরিবর্তিত ও সংশোধিত ‘সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর লাইসেন্স গাইডলাইন’ খসড়া সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। দ্বিতীয়ত যেসব শর্তের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তর পর্যবেক্ষণ ও আলোচনার দরকার আছে।

যদিও বিটিআরসি বলছে, মোবাইল অপারেটরসহ বিশেষজ্ঞ, জনসাধারণ এবং খাতটির প্রতিনিধিদের মতামত, পরামর্শ নিয়েই ওই খসড়া করা হয়েছে।

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম টেকশহর ডটকমকে জানান, ‘দেশের প্রথম অপারেটর হিসেবে ২০১৮ সালে সফলভাবে ফাইভজি প্রযুক্তির পরীক্ষা চালায় রবি। ফাইভজি তরঙ্গ নিলামের পর এ সেবা শুরু করতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি রবির রয়েছে। তবে ফাইভজি সেবা প্রদানে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেগুলোর সমাধান প্রয়োজন।’

‘বিটিআরসি প্রকাশিত ফাইভজি প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট শর্তগুলোর মতামত সংক্রান্ত বিষয়টি তারা দেখেছেন । কিছু শর্ত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফাইভজি টেলিযোগাযোগ সেবার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শর্তগুলো তারা বিশ্লেষণ করছেন’ বলছিলেন তিনি।

সাহেদ আলম বলেন, ‘প্রথমত টুজি, থ্রিজি, ফোরজি প্রযুক্তি একীভূত করে যে গাইডলাইন প্রণীত হয়েছে বলে বিটিআরসি জানিয়েছে সে গাইডলাইন সম্পর্কে তারা পুরোপুরি অবহিত নন।’

‍রবির এই চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি কর্মকর্তা বলছেন, ‘উক্ত গাইডলাইেনর সাথে ফাইভজি প্রযুক্তি সংশিষ্ট যে শর্তগুলো মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে তা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। যেহেতু ফাইভজি একটি নতুন প্রযুক্তি এবং তরঙ্গ ও নেটওয়ার্কে প্রচুর বিনিয়োগের বিষয় রয়েছে সুতরাং ফাইভজিকে একীভূত গাইডলাইনে অন্তভূক্ত করে একটি পূনাঙ্গ গাইডলাইন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত দেয়ার মত সময় আসেনি।’

গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বলীছেন, ফাইভজির যেসব শর্তে মতামতের জন্য বলা হচ্ছে তা এখনও মতামতের যথেষ্ট নয়। তারা পুরো গাইডলাইন দেখবেন এবং তা তাদের বিনিয়োগকারীদের পর্যবেক্ষণে আনবেন।

এদিকে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে। যেখানে তারা পরিবর্তিত ও সংশোধিত ‘সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর লাইসেন্স গাইডলাইন’ খসড়া সম্পর্কে অপারেটররা পুরোপুরি না জেনে নতুন এসব শর্তের উপর এই সময়ের মধ্যে মতামত জানাতে পারছে না বলে জানিয়েছে।

এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এস এম ফরহাদ টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘ফাইভজি গাইডলাইন মাত্রই এসেছে আমাদের কাছে। এই প্রযুক্তি সারা বিশ্বের কাছেই নতুন যা অনেক কিছু বিশেষ করে ইকোসিস্টেমের উপর নির্ভর করবে। গাইডলাইনগুলো বিশ্লেষণ করে পরে এ সম্পর্কে মতামত দেওয়া সম্ভব হবে।’

নতুন শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপারেটরগুলোর সবচেয়ে বেশি আপত্তির জায়গা রোলআউট বা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিভিন্ন ধাপের বাধ্যবাধকতায়।

লাইসেন্স নেয়ার পর প্রথম বছরে দেশের জনসংখ্যার ১০ শতাংশ, দ্বিতীয় বছরে ২০ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ৩০ শতাংশ, চতুর্থ বছরে ৪০ শতাংশ এবং পঞ্চম বছরে ৫০ শতাংশ কাভারেজের আওতায় আনার শর্ত রয়েছে।

অপারেটররা বলছেন ফাইভজি কাভারেজের এই শর্ত আমাদের দেশের বাস্তবতায় যায় না। এছাড়া লাইসেন্সের আরও কিছু শর্ত তারা দেখেছেন যেখানে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। পুরো গাইডলাইনগুলো বিশ্লেষণ করে শিগগির বিষয়গুলো নিয়ে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে তারা আলোচনার আশা রাখছেন।

দেশে ফাইভজির জন্য চলতি বছরের মার্চে স্পেকট্রাম নিলাম করতে চায় বিটিআরসি। গত বছর এ নিলাম করতে চেয়েও মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছ হতে সাড়া না পেয়ে তা করা যায়নি।

তখন অপারেটরগুলো বলেছিলো, তারা ওই বছরের বছরের মার্চে স্পেকট্রাম নিলামে অনেক টাকা বিনোয়োগ করেছেন। তাই এই অল্প সময়ের মধ্যে আবার স্পেকট্রাম কিনতে হলে তাদের প্রস্তুতি লাগবে।

ফাইভজির জন্য ২৩০০ মেগাহার্জ, ২৬০০ মেগাহার্জ এবং ৩৫০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে এ নিলাম হবে। এতে ২৩০০ ব্যান্ডে ৬৫ মেগাহার্জ , ২৬০০ ব্যান্ডে ১০০ মেগাহার্জ এবং ৩৫০০ ব্যান্ডে ৪০০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম নিলাম হবে ।

এরমধ্যে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে।

পরীক্ষামূলক এ পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে সরকারি অপারেটর টেলিটকের ছয়টি সাইটে ফাইভজি নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয়, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন বলছেন, ২০২২ সালের মধ্যে রাজধানীর প্রধান এলাকাসহ ঢাকায় দুইশ’ ফাইভজি বেইজ স্টেশন তৈরি করতে চান তারা।

*

*

আরও পড়ুন