Techno Header Top and Before feature image

দেশে কোথায় কত ক্যাশ সার্ভার ?

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে ইন্টারনেট ‌সেবাখাতের সাম্প্রতিক আলোচনায় এখন ক্যাশ সার্ভার।

বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ক্যাশ সার্ভার বন্ধ বা স্থানান্তরের কথা থাকলেও তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ক্যাশ সার্ভার সরানোর সিদ্ধান্ত কেনো, সরালে কী সমস্যা বা সুবিধা, কাদেরটা সরছে আর কাদেরটা থাকছে, কে সরাবে, কার দায়িত্ব, ডেটলাইনের পরও কাজটি শেষ হচ্ছে না কেনো-এমন নানা আলোচনা হচ্ছে বেশ।

অন্যদিকে যে ক্যাশ সার্ভার নিয়ে এসব চলছে, দেশে সেই ক্যাশ সার্ভারের সংখ্যা আসলে কতো ? কোথায় বসে আছে কোন প্রতিষ্ঠানের কত ক্যাশ সার্ভার ?

দেশে বৈধভাবে থাকা ক্যাশ সার্ভারের সংখ্যা এক হাজার ৬২২টি।

যেখানে আইএসপি সেন্ট্রাল জোনগুলোর কাছে মোট আছে ৮৩টি। এরমধ্যে ফেইসবুকের ৪৩ টি এবং গুগলের ৪০টি সেট রয়েছে।

আইএসপি জোনালে রয়েছে ৭০ টি । যেখানে ফেইসবুকের ৩২ টি এবং গুগলের ৩৮টি।

আইএসপি ক্যাটাগরি ‍এ’তে রয়েছে ৬৫ টি (গুগলের ২২, ফেইসবুকের ৪৩), ক্যাটাগরি সিতে রয়েছে ১৭ টি ( ফেইসবুক ১১, গুগল ৬) ।

আইআইজিতে কাছে ফেইসবুকের রয়েছে ২৮৩টি, গুগলের রয়েছে ১৪৯ টি, আকামাই এর ২৪টি, ক্লাউডফেয়ার এর ২৯ টি, বিগো লাইভ এর ২৫টি, জি-কোর ল্যাবস এর ১টি, আইএমও এর ১টি, মাইক্রোসফটের ১টি, জেনলেয়ার এর ১৯টি ।

আইএসপি ন্যাশনওয়াইড’দের কাছে রয়েছে, ফেইসবুকের ৩৭৮টি, গুগলের ২১৯টি ।

মোবাইল অপারেটরদের কাছে ফেইসবুকের ১৬২টি, গুগলের ৮০টি, আকামাই এর ১২টি, ক্লাউডফেয়ার এর ২টি ।

এই হিসাব দেশে ক্যাশ সার্ভার বন্ধ বা স্থানান্তরের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হতে করা হয়েছে।

অন্যদিকে বৈধ হিসেবের বাইরেও গুগল ও ফেইসবুক দেশে ক্যাশ সার্ভার বসিয়েছে। তবে এর সংখ্যাটা ঠিক কতো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণা এই অবৈধ ক্যাশ সার্ভারের সংখ্যাও নেয়াহেত কম নয়।

কাদের কাছ হতে ক্যাশ সার্ভার সরছে , কাদের কাছে থাকছে ?

ক্যাশ সার্ভার নিয়ে বিটিআরসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি), ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (নিক্স), মোবাইল অপারেটর নেটওয়ার্ক এবং ন্যাশনওয়াইড আইএসপি বিটিআরসির অনুমতি নিয়ে নতুন করে ক্যাশ সার্ভার স্থাপন করতে পারবে। স্থানীয় পর্যায়ে আইএসপিদের কোনো ক্যাশ সার্ভার থাকবে না।

সে হিসেবে আইএসপি সেন্ট্রাল, জোনাল, ক্যাটাগরি এ এবং সি এর কাছে থাকা ক্যাশ সার্ভারগুলো বন্ধ কিংবা স্থানান্তর হচ্ছে। এদের কাছে বৈধভাবে থাকা ক্যাশ সার্ভারের সংখ্যা ২৩৭টি। এই সার্ভারগুলোই ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ধ বা সরানোর নির্দেশনা দিয়েছিলো বিটিআরসি। যেখানে তারা তাদের ক্যাশ সার্ভারগুলো আইআইজিসহ এ বিষয়ে অনুমতিপ্রাপ্ত সেবাদাতার কাছে স্থানান্তর করতে পারবে বলে বলা হয়েছিলো।

নির্দেশনা অনুয়ায়ী এখন হতে আইআইজি, আইএসপি ন্যাশনওয়াইড, মোবাইল অপারেটরগুলোর কাছে ক্যাশ সার্ভার থাকবে।

ডেটলাইনের মধ্যে সরলো কতো ক্যাশ সার্ভার ?

ইন্টারনেট সেবাদাতারা বলছেন, অবৈধভাবে স্থাপিত ক্যাশ সার্ভারের সবই ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বৈধ ক্যাশ সার্ভারগুলোর স্থানান্তর এখনও ৫০ শতাংশের মতো বাকি আছে।

আর এই কাজটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে না করতে পারার পেছনে গুগল, ফেইসবুক ও তাদের স্থানীয় এজেন্টদের দুষছেন ইন্টারনেট সেবাদাতারা ও খাতের সংগঠনের নেতারা।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি মোঃ ইমদাদুল হক টেকশহরডটকমকে বলছেন, বিটিআরসির সবরকম সহযোগিতা করেছে। ক্যাশ সার্ভার স্থানান্তরে সর্বোচ্চ দ্রুততায় কাজ করেছেন তারা। কোনো এনওসি আবেদন করা হলে তা দ্রুততম সময়ে দিয়ে দেয়া হয়েছে।

‘কিন্তু প্রথমে গুগল-ফেইসবুক এনওসি দিতে দেরি করেছে আবার তারা এনওসি দিলেও তাদের স্থানীয় এজেন্ট রিভ ও এরিকসনের ঢিলেমিতে ডেটলাইনের মধ্যে কাজটি হয়নি’ বলছিলেন তিনি।

আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, তারা হয়তো কাজ করছেন কিন্তু বাস্তবতা এই এজেন্টরা এখনও ৫০ শতাংশের মতো ক্যাশ সার্ভার স্থানান্তর করতে পারেনি ।

ডেটলাইনের মধ্যে ক্যাশ সার্ভার সরানোর কাজটি পুরোপুরি না হওয়ার পেছনে অনেক ইন্টারনেট সেবাদাতারাও গুগলের স্থানীয় এজেন্ট রিভ সিস্টেমসের ঢিলেমির অভিযোগ আনছেন।

ক্যাশ সার্ভার সরানোর নির্দেশনা কেনো ?

বিটিআরসি বলছে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই স্থানীয় পর্যায়ে এই ক্যাশ সার্ভার বন্ধের সিদ্ধান্ত।

সম্প্রতি টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) এর সঙ্গে বিটিআরসির এক মতবিনিময় সভায় নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলছেন, বিটিআরসির অনুমতি ছাড়াই বসেছে অনেক ক্যাশ সার্ভার। জাতীয় ইস্যুতে যদি ক্রান্তিকালে কোনো জিনিস চট করে বন্ধ করতে হয় তাহলে ২ হাজার ৪ জনের কাছে কতোক্ষণে পৌঁছাবেন তারা।

*

*

আরও পড়ুন