Techno Header Top and Before feature image

সিনেমাপ্রেমী বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য গ্রুপ ‘মুভি লাভারস অব বাংলাদেশ’

মুভি লাভারস অব বাংলাদেশ ফেসবুক গ্রুপ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সিনেমাপ্রেমী ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের গ্রুপ। যেখানে সিনেমার খবর, রিভিউ থেকে শুরু করে নানা ধরনের সিনেমা কেন্দ্রিক আলোচনা হয়। ফেসবুকে এ ধরনের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ ‘মুভি লাভারস অব বাংলাদেশ’। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এ গ্রুপের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৮ লাখ ৫০ হাজার। গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাডমিন তাসনিম সায়লা জেরি জানিয়েছেন গ্রুপের শুরু এবং নানা তথ্য। লিখেছেন টেকশহর.কমের স্পেশাল করসপনডেন্ট নুরুন্নবী চৌধুরী

মুভি লাভারস অব বাংলাদেশের সংক্ষেপে যা এমএলওবি নামেও পরিচিত। ফেসবুকে সিনেমাপ্রেমীদের একটি গ্রুপ। এ গ্রুপ কিভাবে শুরু হলো সেটা জানতে চাইলে তাসনিম সায়লা জেরি জানালেন,  ‘যাত্রা টা শুরু হয় একদম হুট করেই। আলাদা ভাবে তেমন পরিকল্পনা করে গ্রুপটা খোলা হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে নতুন ব্রডব্যান্ড সংযোগ নেয়ার কারনে প্রচুর সিনেমা দেখতাম। ক্লাসের ফাঁকে কিংবা ক্লাস শেষে ক্যান্টিনে বসে বন্ধুদের সাথে সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত দেখা সিনেমাগুলো নিয়ে আড্ডা দিতাম। আলোচনাও হতো প্রচুর। সেই থেকে ভাবলাম একটা কমন প্ল্যাটফর্ম হলে কেমন হয়, যেখানে সবাই মিলে নিজ নিজ দেখা সিনেমা নিয়ে নিজের মতামত গুলি শেয়ার করতে পারবো। সে চিন্তা থেকেই ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি গ্রুপটি শুরু করি।‘ শুরু থেকেই সে গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তাসনিম সায়লা জেরি নিজেও যেহেতু প্রচুর সিনেমা দেখেন তেমনি অন্যদেরও সিনেমা দেখার প্রতি উৎসাহ দেন নিয়মিত।

জানালেন, ‘সিনেমার প্রতি ঝোঁক প্রবল আমার। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা নিয়ে আড্ডা দিতাম। আর ইন্টারনেটের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সবার জন্য সিনেমাকেন্দ্রিক একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির চিন্তা থেকেই এ গ্রুপের যাত্রা।’ বর্তমানে গ্রুপের প্যানেলে ৯ জন অ্যাডমিন ও মডারেটর হিসেবে কাজ করছেন। আর গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৮ লাখ ৫০ হাজার, যা নিয়মিত বেড়েই চলেছে।

তাসনিম সায়লা জেরি

গ্রুপের পোস্ট, নীতিমালা ও আলোচনা

গ্রুপে নিয়মিত অসংখ্য সিনেমা কেন্দ্রিক পোস্ট আসে উল্লেখ করে জেরি জানালেন, ‘প্রতিদিন সারাবিশ্বের অনেক বাংলা ভাষাভাষী সিনেমা, সিরিজ, নাটক দেখেন গ্রুপেও সেসবের আলোচনা, রিভিউ পোস্ট করেন। তবে সব পোস্ট অ্যাপ্রুভ করা হয়না। গ্রুপের সার্বিক পরিবেশ এবং সুন্দরতা বজায় রাখতে সেই পোস্ট গুলি খুব বাচাই করে অনুমোদন করা হয়।‘ যেহেতু সকলের জন্য উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম তাই সবার ব্যাক্তিগত মতামতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই গ্রুপের যাবতীয় নীতিমালা সাজানো হয়েছে উল্লেখ করে জেরি বললেন, ‘শুধু নীতিমালা সাজানো পর্যন্তই নয় সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের আমাদের পুরো প্যানেল বেশ তৎপর। তবুও, উল্লেখ্য করা বাঞ্চনীয় যে, সোশ্যাল মিডিয়া গুলোরও নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সেগুলিকে সাথে নিয়েই গ্রুপ পরিচালনা করতে হয়।’ 

সিনেমাকেন্দ্রিক বিভিন্ন গ্রুপে অনেক সময় বিভিন্ন দেশকে নিয়ে নানা ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়। বিষয়গুলো কিভাবে সামলানো হয় এমন প্রশ্নে তাসনিম সায়লা জেরি বললেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া গুলিরও নিজস্ব কিছু সীমাবদ্ধতা আছে এবং আমাদের সেগুলোকে সঙ্গে নিয়েই চলতে হয়। বিশেষ করে ফেসবুক কেন্দ্রিক গ্রুপগুলোর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পাবলিক এনগেইজমেন্টকে তুলে করা। সেই সূত্রে সাধারণ মানুষ ও গ্রুপগুলোতে নিজস্ব মতামত আদান প্রদানের মাধ্যমে বেশ সক্রিয় থাকেন যা বেশ ভালো। মানুষের স্বাধীনভাবে এবং সুন্দর ভাষায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিৎ।’ তবে সবসময় এমন হয় না সেটা শুরু থেকেই মাথায় রেখে গ্রুপের অ্যাডমিন ও মডারেটরা কাজ করেন উল্লেখ করে জেরি জানালেন, ‘আমরা আশা করি সবাই সুন্দর ভাবেই নিজের মতামত প্রকাশ করবে। তবে কিছু মানুষ শুধু সিনেমা কেন্দ্রিক গ্রুপগুলোতে নয় পৃথিবীর কোনায় কোনায় বিদ্যমান যারা উস্কানিমূলক নানা ইস্যুতে মন্তব্য করে থাকে। তাই যেকোন প্রকার উস্কানিমূলক কিংবা আমাদের গ্রুপের নীতিমালা পরিপন্থী কোন মন্তব্য আমাদের প্যানেলের নজরে এলে আমরা নিয়ম মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। যেহেতু আমাদের গ্রুপের সদস্যও কয়েক লাখ তাই সবাইকে আলাদা করে মনিটর করার সুযোগ হয়ে ওঠে না তবে আমাদের প্যানেলের পাশাপাশি আমাদের গ্রুপের সদস্যরাও বেশ সাপোর্টিভ। গ্রুপ নীতিমালা বহির্ভূত কিছু তাদের নজরে এলে তারাও স্ব-উদ্যোগে আমাদের সেই বিতর্কিত মন্তব্য গুলি সম্পর্কে অবগত করেন, আগ বাড়িয়ে সাহায্য করেন।’ এ ধরনের মন্তব্য বা নীতিমালা বিরোধী কাজে অভিযুক্তদের নিয়মিত ভাবে ব্যান করা হয় বলেও জানান তিনি। 

প্ল্যাটফর্ম, পাইরেসি ও ভবিষ্যৎ চিন্তা

বাংলা ভাষাভাষী এ ধরনের মুভিভিত্তিক গ্রুপগুলো সিনেমাপ্রেমীদের আলোচনার/রিভিউ ইত্যাদির সুযোগটা তৈরির কাজটি কতটা সহজ করেছে জানতে চাইলে জেরি বললেন, ‘আমি বরাবরই পাবলিক প্ল্যাটফর্মের পক্ষে। মানুষের মত প্রকাশের অধিকার আছে এবং এমন গ্রুপগুলোর সেই যায়গা থেকে অনেক প্রয়োজনও আছে। সব দেশী সিনেমার পাশাপাশি নিজের দেশের কন্টেন্ট গুলো নিয়েও এসব গ্রুপে প্রচুর আলোচনা হয়।’ এ গ্রুপগুলো নির্মাতাদের কতটুকু সহায়তা করছে এমন প্রশ্নে তাসনিম সায়লা জেরি জানালেন, ‘ এ গ্রুপগুলো নির্মাতা এবং দর্শকদের মধ্যে দূরত্ব অনেক কমিয়ে দিতে পারে। নির্মাতা এবং কলাকুশলীরাও জানতে পারেন দর্শকরা  কি চান, তাদের দর্শকদের বিষয়গুলো জানতে সুবিধা হয়। দিনশেষে যেকোন কন্টেন্ট দর্শকদের জন্যই বানানো। সুতরাং তারা নির্দিষ্ট কন্টেন্ট নিয়ে কি ভাবছেন, কেন পছন্দ করছেন আবার কি কি অপছন্দ করছেন সব জানার সুন্দর সুযোগ করে দেয় এ গ্রুপগুলো যেখানে গ্রুপ গুলোর সদস্যরা রিভিউ দেন।’ সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকে তাদের নিজস্ব মতামত গুলো একদম সাদামাটা ভাষায় অন্য কোন মাধ্যমে এত সহজে পাওয়া সম্ভব নয় বলেও মত দেন তিনি। কোন সিনেমা, সিরিজ বা নাটক মুক্তির পরেই পাইরেসি নিয়ে বেশ সঙ্কায় থাকেন নির্মাতারা। পাইরেসি প্রতিরোধে গ্রুপগুলোর ভূমিকা কেমন মনে করেন প্রশ্নে জেরি বললেন, ‘মুভি লাভারস অব বাংলাদেশ পাইরেসি রোধে বরাবরই সচেতন। আমাদের দেশের কোন কন্টেন্টের পাইরেটেড কপির রেফারেন্স নিয়ে সকল প্রকার আলোচনা আমাদের গ্রুপে একদম নিষিদ্ধ। এবং এই মর্মে কোন মন্তব্য বা পোস্ট আমাদের নজরে এলে আমরা উক্ত আইডি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাস্পেন্ড থেকে ব্যান পর্যন্ত করে থাকি। এই একটা বিষয়ে আমাদের প্যানেল বেশ কঠোর। এ গ্রুপ নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা প্রচুর উল্লেখ করে জেরি জানালেন, গ্রুপ তার আপন গতিতেই চলবে। বাকিটা সময় হলেই একে একে সম্মানিত সদস্যরা জানতে পারবেন।

*

*

আরও পড়ুন