Techno Header Top and Before feature image

ভ্যাকসিন কি নতুন ভ্যারিয়েন্টে কাজ করবে ?

টেকশহর.কম ডেস্ক: ইদানিং করোনার নতুন কিছু ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাচ্ছে, যা বেশ উদ্বেগের বিষয়। আর এরমধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন,নতুন ভ্যারিয়েন্টে করোনার ভ্যাকসিন কি কাজ করবে?

নতুন ভ্যারিয়েন্ট “ওমিক্রন”

পুরো পৃথিবীজুড়ে করোনার হাজারেরও অধিক ভ্যারিয়েন্ট কিংবা ধরন রয়েছে। এর কারন ভাইরাস সব সময় রুপান্তর বা মিউটেড হয়। নতুন এই ভ্যারিয়েন্টকে বলা হয় B.1.1.529 বা Omicron. এটি বর্তমানের অরজিনাল কোভিড থেকে ভিন্নতর। এর মধ্যে সবমিলে ৫০টি জেনেটিক পরিবর্তন রয়েছে। ৩২টি স্পাইক প্রোটিনে,যেটিকে ভ্যাকসিন টার্গেট করে। নতুন ভ্যারিয়েন্টে রিসেপ্টর বাইন্ডিং ডোমেইনে ১০ টি পরিবর্তন রয়েছে।

ভ্যাকসিন কি এখনও কাজ করবে ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের ভ্যাকসিনটি নতুন ভ্যারিয়েন্টের সাথে ম্যাচ করছে না। ফলে খুব একটা কাজ করবে না। তবে আলফা, বিটা, গামা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের মারাত্মক অসুস্থতা থেকে বাঁচায়। ডাক্তাররা বলছেন,”বর্তমান ও নতুন আসা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে সর্বাধিক সুরক্ষা পেতে প্রস্তাবিত সংখ্যক ডোজ পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যে,চল্লিশের বেশি বয়সী, ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্য এবং সামজ কর্মী,আবাসিক বাড়িতে থাকা বয়স্কসহ কয়েকটি কাইটেরিয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের বুস্টার ডোজ অফার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৩ মিলিয়নের বেশি বুস্টার ডোজ বা তৃতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে কভিডের সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে, তবে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা উভয়ই কমছে। বিশেষজ্ঞরা এই সফলতার পেছনে ভ্যাকসিনকে দায়ী করছেন। 

নতুন ভ্যারিয়েন্টের ভ্যাকসিন কবে নাগাদ পাবো ?

নতুন ভ্যারিয়েন্টের জন্য ভ্যাকসিনের আপডেট ভার্সন ডিজাইন ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষা চালানোর জন্যে একটি নতুন ভ্যাকসিন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুত হতে পারে। ভ্যাকসিন ম্যানুফ্যাকচারাররা  দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে পারবেন এবং নিয়ন্ত্রকেরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছেন কিভাবে অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত ট্র্যাক করা যায়। তবে  ডিজাইন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি কোভিড ভ্যাকসিনগুলি প্রথম চালু হওয়ার চেয়ে অনেক দ্রুত হতে পারে।

অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট

সবচেয়ে মারাত্মকটিকে বলা হয় ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন। কয়েকটি মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট তুলে ধরা হল-

ডেল্টা (B.1.617.2): ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রথমে ভারতে শনাক্ত  হয়। এখন যুক্তরাজ্যে প্রচলিত সবচেয়ে সাধারণ প্রকার ভ্যারিয়েন্ট এটি।

আলফা (B.1.1.7): প্রথম যুক্তরাজ্যে শনাক্ত করা হয়েছিল যা ৫০ টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। 

বিটা (B.1.351): প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত করা হয়েছিল কিন্তু যুক্তরাজ্যসহ অন্তত ২০টি দেশে শনাক্ত হয়েছে।

গামা (P.1): প্রথম শনাক্ত হয়েছিল ব্রাজিলে। এটি ইউকেসহ ১০ টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। 

যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা AY.4.2 বা “ডেল্টা প্লাস” নামে ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সাম্প্রতিক বংশধরের দিকেও নজর রাখছেন।

ভ্যারিয়েন্টগুলো কতটা মারাত্মক

অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এই ভ্যারিয়েন্টগুলো কতটা মারাত্মক অসুস্থতা তৈরি করবে সে-সম্পর্কে কোনো এভিডেন্স নেই। আসল কোভিডের মতো, যারা বয়স্ক বা  স্বাস্থ্যগত গুরুতর সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তা সত্ত্বেও, একটি ভ্যারিয়েন্ট যদি আরও সংক্রামক হয় তবে এটি একটি টিকাবিহীন জনসংখ্যাকে আরও মৃত্যুর দিকে পরিচালিত করবে।  ভ্যাকসিন কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মারাত্মক অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। তবে পুরোপুরি ঝুঁকি নির্মূল করে না। 

সংক্রমণ এড়াতে সকল স্ট্রেইনের জন্য উপদেশ একই থাকে। যেমন- হাত ধোয়া,  দূরত্ব বজায় রাখা, ভিড়ের জায়গায় মুখ ঢেকে রাখা এবং বায়ুচলাচল সম্পর্কে সতর্ক থাকা। 

কেন ভ্যারিয়েন্টস ঘটে ?

ভাইরাসগুলি পুনরুত্পাদনের জন্য নিজেদের কার্বন কপি তৈরি করে কিন্তু পারফেক্টলি করতে পারে না। কিছু ইরর থেকে যায় যা জেনেটিক ব্লুপ্রিন্ট পরিবর্তন করে। ফলে নতুন ভার্সন বা ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হয়। 

আমাদের মধ্যে করোনাভাইরাস নিজের প্রতিলিপি তৈরি করার যত বেশি সম্ভাবনা রয়েছে, হোস্ট তত বেশি মিউটেশন ঘটানোর সুযোগ পাবে।  তাই সংক্রমণ কম রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ভ্যাকসিনগুলি সংক্রমণ কমানোর পাশাপাশি গুরুতর কোভিড অসুস্থতা থেকে রক্ষা করে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, B.1.1.529 নতুন ভ্যারিয়েন্টটি আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে প্রভাবিত করে যার ফলে কোভিড সংক্রমণ থেকে দ্রুত পরিত্রাণ পাওয়া যায় না।

সূত্রঃ বিবিসি/ জেডএ

*

*

আরও পড়ুন